সাতক্ষীরা-২ আসনে ইভিএম এর ব্যবহার : সচেতনতার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ


296 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা-২ আসনে ইভিএম এর ব্যবহার : সচেতনতার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ
ডিসেম্বর ৯, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

শহীদুজ্জামান শিমুল :

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ সংসদীয় আসনে ইভিএম ব্যবহারকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এমনকি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ও প্রার্থীদের মাঝেও নতুন এই প্রযুক্তি নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট কৌতুহল।
অল্পসময়ের মধ্যে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষন ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলেই নতুন এই প্রযুক্তি টেকসই হতে পারে। তা নাহলে এ প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ার আশাংকা রয়েছে।
ভারতের সীমান্ত ঘেষা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-২ আসন। এই আসনে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৯ জন ভোটার রয়েছে।
যার মধ্যে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭৮ জন পুরুষ ভোটার ও ১লাখ ৭৭ হাজার ২৯৮ জন নারী ভোটার রয়েছে। এই আসনে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৩৭ টি। বুথের সংখ্যা ৬৯৮টি।

আসন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাঝেও কৌতুহল দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট রিটানিং অফিসার জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশনা পেলে ইভিএম ব্যবহারে বাস্তবমূখী পদক্ষেপ নেয়া হবে। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষন ও ভোটারদের মাঝে সচেতনতামুলক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা গেছে এই প্রযুক্তি নির্বাচনে ব্যবহারের মাধ্যমে ১০টি সুবিধা পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ভোটগ্রহণের আগে মেশিন চালু না হওয়া ও মেশিন ছিনতাই হলেও অবৈধ ভোটদান বন্ধ, পাসওর্য়াড সুরক্ষিত থাকায় অনুমোদিত ব্যক্তির বাইরে মেশিন চালু করা সম্ভব নয়। ভোট শুরুর আগে-পরে শূন্য ভোটিং ও প্রিন্টিং করার সুবিধা। স্বয়ংক্রীয়ভাবে ফলাফল প্রিন্ট, ঘোষণা ও বিতরণ করার ব্যবস্থা। ভোট সম্পন্ন হওয়ার পর ভোটারের সন্তুষ্টির জন্য ধন্যবাদ শব্দ যুক্ত করা হয়েছে এই ইভিএমে।

সাতক্ষীরা সাতক্ষীরা-২আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি জানান এই প্রযুক্তি নতুন। তবে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করবে। জন সংখ্যা বৃদ্ধির কারনে এই পদ্ধতির মাধ্যমে অতি অল্প সময়ের মধ্যে ভোটাররা তাদের ভোচাধিকার প্রয়োগ করতে পারেবে।

গণফোরাম সাতক্ষীরা সাধারণ সম্পাদক, ও দলীয় প্রার্থী জানান,আলীনুর খান বাবুল বলেন, ডিজিটাল কারচুপির জন্য সরকার ইভিএম ব্যবহার করতে চাচ্ছে। অন্যান্য দল না চাইলেও ভোট কারচুপির জন্য ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন অফিসার নাজমুল হাসান জানান, ঢাকার নির্বাচন কমিশন থেকে প্রশিক্ষক পাঠানো হয়েছে। তারা প্রত্যেকটি গ্রামে ভোটারদের মাঝে ইভিএম ব্যবহারে সচেতনা সৃষ্টির জন্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

সাতক্ষীরা জেলা রির্টানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, ইভিএম নিয়ে ভোটারদের মাঝে নানা কৌতুহল রয়েছে। এই প্রযুক্তি যদি যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারি তাহলে ভোটাররা ইভিএমে আকৃষ্ট হবেন বলে তিনি মনে করেন। আমরা যে উন্নত বিশ্বের স্বপ্ন দেখি তা একদিন বাস্তবায়িত হবে। এদিকে ইভিএমে আকৃষ্ট করতে ইভিএম সচেতনতার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা রির্টারনিং কর্মকর্তা । ৪দিন ব্যাপি এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে। সাতক্ষীরা-২ আসনের বিভিন্ন এলাকায় ইভিএম ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ভোটারদের জানানোর জন্য এ কর্মসুচি গ্রহন করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা শহর উপকণ্ঠ কদমতলা বাজারে ইভিএমে ভোটগ্রহণে ভোটারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সকালে আগরদাড়ি ইউনিয়নের নারী ও পুরুষ ভোটাররা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

##