সাতক্ষীরা ৬৪ ইউনিয়নে ১৪৫ বিদ্রোহী : টেনশনে আ’লীগ-বিএনপি প্রার্থীরা


310 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা ৬৪ ইউনিয়নে ১৪৫ বিদ্রোহী : টেনশনে আ’লীগ-বিএনপি প্রার্থীরা
মার্চ ৯, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
জেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৬৪ ইউনিয়নে ১৪৫ বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আ’লীগ-বিএনপি। চেয়ারম্যান পদে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়িতে ভোটের হিসেব পাল্টে যাচ্ছে। কেন্দ্রের নির্দেশনা ও শাস্তির ঘোষণার পরেও বিদ্রোহ দমন করতে পারছে না দুই দল। স্থানীয়দের মতে, যোগ্য প্রার্থীর পরিবর্তে পছন্দের লোককে প্রত্যয়ন দেয়ায় বঞ্চিতরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরাই মূলত বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন। তবে বিএনপির চেয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। কোনো কোনো ইউপিতে আওয়ামী লীগের ৩-৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। দীর্ঘ দিন মাঠে না থেকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, জেলার ৭৮টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে কলারোয়ার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হওয়ায় ৭৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে আশাশুনি উপজেলার সব ইউনিয়নে দুই দলে ২৩ জন, দেবহাটা উপজেলার ৩ ইউনিয়নে ৪ জন, কালিগঞ্জের ১১ ইউনিয়নে ১৭ জন, সদর উজেলার ৬ ইউনিয়নে ১৮ জন, শ্যামনগরের ১০ ইউনিয়নে ২০ জন, কলারোয়া উপজেলায় ১১ ইউনিয়নে সর্বাধিক ৩৩ জন এবং তালা উপজেলায় ১১ ইউনিয়নে ২৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে শতাধিক প্রার্থী বিদ্রোহী হলেও জেলা আওয়ামী লীগ সম্প্রতি ২৬ জন শক্তিশালী প্রার্থীর তালিকা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বার বার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার তাগিদ দিয়েও কাজ হয়নি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কারের তালিকায় রয়েছেন সদর উপজেলার বাঁশদহ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবদুল খালেক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, লাবসা ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন ও কুশখালী ইউনিয়নের গোলাম মোস্তফা, তালা উপজেলার ধান্দিয়া ইউনিয়নের গাজী হামিজ উদ্দিন, খলিশখালী ইউনিয়নের অশোক কুমার লাহিড়ী, খেসরা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক, কুমিরা ইউনিয়নের মো. রফিকুল ইসলাম ও সরুলিয়া ইউনিয়নের মো. আতিয়ার রহমান, আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের নূর মোহাম্মদ সরদার ও অ্যাডভোকেট জহুরুল হক, কুল্লা ইউনিয়নের মো. দেলোয়ার হোসেন, দরগাহ্পুর ইউনিয়নের মো. জহির উদ্দিন, খাজরা ইউনিয়নের মো. রুহুল কুদ্দুস ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের খালিদুর রহমান বাবু।

এদিকে কলারোয়ার কেরালকাতা ইউনিয়নের আবদুল হামিদ ও ফারুক হোসেন অভি, কয়লা ইউনিয়নে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ ইমরান হোসেন, যুগিখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওজিয়ার রহমান, জয়নগর ইউনিয়নের মো. শফি মালি, বিশাখা সাহা ও অধ্যাপিকা মনিরা বিশ্বাস, শ্যামনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের এস এম গোলাম মোস্তফা মুকুল ও বিশ্বনাথ নন্দী, আটুলিয়া ইউনিয়নে স্বপন কুমার বৈদ্য ও আবু সালেহ বাবুর নাম বহিষ্কারের তালিকায় আছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে, বিদ্রোহের তালিকায় পিছিয়ে নেই বিএনপিও। সদরের লাবসা ইউনিয়নে এড. স ম আকবর আলীসহ পুরো জেলায় অন্তত ২০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিদ্রোহের তালিকায় আছে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে কয়েকটি ইউনিয়নে সুপারিশ উপেক্ষা, আর্থিক লেনদেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ নানা কারণে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করেন দুই দলের একাধিক নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনৈতিক সুযোগে অনেক নিষ্ক্রিয় ও অযোগ্যরা মনোনয়ন পেয়ে গেছেন। বাদ পড়েছেন যোগ্য ও ত্যাগীরা। ফলে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে তাদের জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে চাচ্ছে।

একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা দীর্ঘ দিন থেকে দলীয় নেতাকর্মীসহ জনগণের পাশে ছিলাম। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে জনপ্রিয়তা যাচাই করতেই মূলত প্রার্থী হয়েছি।

এই প্রথম বারের মতো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ করার জন্য বড় দলগুলো নানা ধাপে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে। এই বাছাই প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের সমস্যার কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যাশার চেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন দুই দলের জেলা পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা। জেলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন এক নেতা জানান, বিভিন্ন উদ্যোগের পরও যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচন করবে প্রয়োজনে তাদের বহিষ্কার করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নির্দেশনার প্রয়োজন আছে। তবে জেলা বিএনপি’র এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিছু কৌশলগত কারণে কয়েকটি ইউনিয়নে একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছে।