সামরিক অভিধান থেকে মার্শাল ল বাদ দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী


164 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সামরিক অভিধান থেকে মার্শাল ল বাদ দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মার্শাল ল (সামরিক আইন) রক্তপাত ছাড়া দেশ ও সশস্ত্র বাহিনীর কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। তাই ‘সামরিক অভিধান’ থেকে মার্শাল ল শব্দটি বাদ দেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায়নীতির ভিত্তিতে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতি দেওয়ার জন্যও সংশ্নিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২০ এর (প্রথম পর্ব) সভায় বক্তব্যে এ আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভাষণ দেন তিনি। খবর বাসস ও ইউএনবির

জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনামলের ১৯টি ক্যুর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ওই সময়ে বহু সামরিক কর্মকর্তা ও সৈনিককে হত্যা করা হয়। তার আমলে সশস্ত্র বাহিনীর এত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা ও সৈন্যকে হত্যা করা হয়েছে যে যুদ্ধেও এত সৈন্য নিহত হয়নি। আমরা (সশস্ত্র বাহিনীতে) আর কোনো ছেলেহারা পিতা বা পিতাহারা ছেলের কান্না শুনতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর একের পর এক ক্যুর কারণে সশস্ত্র বাহিনী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ক্যুর নামে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্র বাহিনীর অনেক সদস্যকে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, ‘সেনা ও বিমানবাহিনীতে সবচেয়ে বেশি রক্তপাত হয় এবং আমাদের বহু স্বামীহারা বিধবা ও পুত্রহারা বাবা-মায়ের কান্না শুনতে হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আমাদের পরিবারের সম্মানিত সদস্য। তারা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এই বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

সশস্ত্র বাহিনী পর্ষদের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সকল জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা একত্র হয়েছেন। আপনাদের প্রজ্ঞা, বিচারবুদ্ধি, ন্যায়পরায়ণতার ওপর আমার যথেষ্ট আস্থা আছে। আমি এটুকু অনুরোধ করব- এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে উপযুক্ত কর্মকর্তারা যাতে প্রমোশন পান। আপনারা ন্যায়নীতির ভিত্তিতে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে এই প্রমোশন দেবেন, যাতে সকলের ভেতরে একটি আস্থা আসে। আমি জানি, অনেক উপযুক্ত কর্মকর্তা থাকেন, সবাইকে দেওয়া যায় না। কারণ, পদটা সীমিত। তার পরও আপনারা অবশ্যই দেখবেন যারা সত্যিকারে উপযুক্ত, তারা যেন প্রমোশন পান।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেসব অফিসার সামরিক জীবনে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানে সফল হয়েছেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাদের আপনারা অবশ্যই বিবেচনা করবেন। সেটি আমি চাই। আর যে কোনো কর্মকর্তার পদোন্নতির ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের পেশাগত মান, তাদের যোগ্যতা ও তাদের দক্ষতাকে আপনারা অগ্রাধিকার দেবেন।’

দক্ষতার সঙ্গে শৃঙ্খলা-সততা-বিশ্বস্ততার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটি একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী, এই বাহিনীতে যারা পদোন্নতি পাবেন, তারা যেন সব সময় একটি শৃঙ্খলা রক্ষা করে চলতে পারেন। কারণ, শৃঙ্খলাই আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে। কাজেই শৃঙ্খলা সম্পর্কে যারা যথেষ্ট সচেতন, অনুগত; যারা তাদের ওপরে থাকবেন, তাদের প্রতি তারা অনুগত থাকবেন আবার অধস্তনদের ব্যাপারে দায়িত্ববান হবেন- এ বিষয়টাও দেখতে হবে।’

ভাষণে কভিড-১৯ মহামারির সংকট কাটিয়ে সুদিন ফিরে না আসা পর্যন্ত অতি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র ছাড়া অন্যান্য ব্যয় স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুবই প্রয়োজনীয় ছাড়া অন্য ব্যয়গুলো আমরা আপাতত স্থগিত রাখব। যদি সুদিন আসে তখন আমরা করব। সরকারপ্রধান বলেন, যেখানে যতটুকু সহযোগিতা দেওয়া যায়, আমরা সেটা করে যাচ্ছি। এ জন্য বাজেটে আমরা টাকা-পয়সা কম দিইনি। কিন্তু ব্যয় করার সময় সবাইকে একটু সীমিতভাবে করতে হবে এই কারণে যে, বাজেটে আমরা বরাদ্দ ধরে রেখেছি; কিন্তু এই অর্থনৈতিক অবস্থায় কতটুকু অর্থ আমরা সংগ্রহ করতে পারব আর কতটুকু ব্যয় করতে পারব, সেখানে আমাদের এখন থেকে হিসাব করে চলতে হবে। সেই অনুরোধটা আমি সবাইকে করব, আমার সশস্ত্র বাহিনী তিন বাহিনীকেও আমি বলব টাকার জোগানটা আমরা কতটুকু দিতে পারব, সেটাও একটা বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি বিশ্বব্যাপী মন্দা চলতেই থাকে বা খারাপ হয়, তাহলে হয়তো পারব না। কিন্তু পারব না বলে আমি পিছিয়ে যেতে রাজি নই। আমাদের আয়োজন থাকবে, প্রস্তুতি থাকবে এবং যতটুকু পারি আমরা করব, এটাই আমাদের লক্ষ্য। মুজিববর্ষে আমাদের লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করব। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আমরা ৮.২ ভাগ অর্জন করব- এটা আমাদের লক্ষ্য ছিল। এপ্রিল মাস পর্যন্ত আমরা ৭.৮ ভাগ অর্জনও করেছি। কিন্তু করোনার ধাক্কায় সেটা ৫.৮ ভাগে নেমে এসেছে। তারপরও আমরা আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তাটা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কথায় বলে, পেটে খেলে পিঠে সয়। সেই খাদ্য নিরাপত্তাটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন সচল থাকে, তার জন্য আমরা বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি।

এ সময় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জে. মাহফুজুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ঢাকার সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস হল থেকে, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল নৌবাহিনীর সদর দপ্তর থেকে এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সভায় অংশগ্রহণ করেন।