সালাম না দেওয়ায় শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ কর্মীর মারধর


150 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সালাম না দেওয়ায় শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ কর্মীর মারধর
মে ২৫, ২০২২ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ঢাবি সূর্যসেন হল

অনলাইন ডেস্ক ::

অনলাইন ক্লাস চলাকালীন সালাম না দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা’ সূর্যসেন হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে হল ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। নির্যাতনের পর থেকে ওই শিক্ষার্থী কানে শুনছেন না। এই ঘটনায় হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীর নাম মানিকুর রহমান মানিক। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের ছাত্র। তিনি হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিয়াম রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। সিয়াম ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দামের অনুসারী।

নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম সাজ্জাদুল হক সাঈদি। তিনি নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের ছাত্র। সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তিনি।

লিখিত অভিযোগে সাজ্জাদ উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার রাত ১১টার পর সূর্যসেন হলের ২৪৯ নম্বর কক্ষে অনলাইনে ক্লাস করছিলেন তিনি। এ সময় মানিক ও তার কয়েকজন সহযোগী ২৪৯ নম্বর কক্ষে যায়। এ সময় সালাম না দেওয়ায় তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেন মানিক। এরপর সাজ্জাদকে নিজের রুমে ডাকেন। সেখানে যাওয়ার পর তাকে গালে এবং কানে চড় মারেন মানিক। এরপর এলোপাতাড়িভাবে তাকে শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। কানে চড় মারার কারণে সাজ্জাদ কানে শুনতে পাচ্ছেন না।

অভিযুক্ত মানিকের বিরুদ্ধে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ফুলার রোড ও শহীদ মিনারসহ ক্যাম্পাস এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিনতাইয়ের ঘটনার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। মানিকের আচরণে হলের সব শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাই বিরক্ত বলে জানা গেছে। নিজেকে ‘মোস্ট পলিটিক্যাল’ প্রমাণ করতে জুনিয়রদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী সাজ্জাদ বলেন, রাতে আমি আমার কক্ষে বসে একটি অনলাইন ক্লাস করছিলাম। এ সময় মানিক ও তার কয়েকজন সহযোগী রুমে আসেন। তাকে সালাম না দেওয়ায় আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেন। অনলাইন ক্লাস শেষে আমি যখন উঠে বাইরে যাচ্ছিলাম তখন পেছন থেকে আমার কলার ধরে আমাকে নির্যাতন করা হয়। এরপর মানিক তার রুমে নিয়েও আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে অভিযুক্ত মানিকের ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

মানিককে নিজের অনুসারী বলে স্বীকার করেছেন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিয়াম রহমান। তিনি বলেন, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সাঈদি এবং মানিকের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। বিষয়টি শোনার পর আমি তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিয়েছি।

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মকবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এই ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।