‘সিঙ্গেল ড্রপ টাইট্রেশন’ পদ্ধতী উদ্ভাবন : সহজতর হবে পানির পিএইচ পরিমাপকরণ


141 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘সিঙ্গেল ড্রপ টাইট্রেশন’ পদ্ধতী উদ্ভাবন : সহজতর হবে পানির পিএইচ পরিমাপকরণ
সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান ::

কোন দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্বের (গ্রাম/মোল) মানকে ১০ ভিত্তিক লগারিদম করে যে সংখ্যাসূচক মান পাওয়া যায় তার ঋণাত্মক মানকে পিএইচ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় এর পরিসর ০-১৪। মাছ চাষের জন্য পানির পিএইচ মান নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরী। কারণ মাছ একটা নির্দিষ্ট পরিসরের (৬.৫-৮.৫) পিএইচ মানের মধ্যে সাবলীল থাকে। পিএইচ মান ১০ এর উপরে কিংবা ৬ এর নিচে হলে মাছের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয়, মাছ খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে দেয়, মাছের চোখ, ফুলকা ইত্যাদি আক্রান্ত হতে পারে, পানিতে এমোনিয়ার বিষক্রিয়া বৃদ্ধি পায়, মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং জলাশয়ের পানির প্রাথমিক উৎপাদনশীলতা বিঘিœত হয়। তাই মাছ চাষের জলাশয়ের পানির পিএইচ নিয়মিত পরিমাপ করে তা অনুকূল পরিসরে রাখা আবশ্যক। কিন্তু পিএইচ পরিমাপ পদ্ধতি না জানা, সচেতনতার অভাব এবং ব্যয় সাপেক্ষ হওয়ায় প্রায় সকল মাছ চাষিরা সাধারন ভাবেই মাছ চাষ করেন। এরফলে তুলনামূলক ভাবে মাছ উৎপাদন কম হওয়ায় চাষিরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। মাছ চাষিরা যাতে নামমাত্র খরচে, সহজ ভাবে পানির পিএইচ নির্নয় করতে পারেন এজন্য ‘সিঙ্গেল ড্রপ টাইট্রেশন’ নামের একটি নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হাদিউজ্জামান দীর্ঘদিন গবেষণার পর পদ্ধতিটির উদ্ভাবন করেন।
উদ্ভাবনী কার্যক্রম সম্পর্কে মো. হাদিউজ্জামান বলেন, সহজতর উপায়ে জলাশয়ের পানির পিএইচ পরিমাপের নতুন পদ্ধতি ‘সিঙ্গেল ড্রপ টাইট্রেশন’। এই পদ্ধতিতে আয়োডিনকে ইনডিকেটর হিসেবে ব্যবহার করে খুব সহজে পানির পিএইচ পরিমাপ করা যায়। এজন্য প্রয়োজন হবে মাত্র দুটি ড্রপার বোতল, যার একটিতে থাকবে আয়োডিন ইনডিকেটর এবং অন্যটিতে থাকবে কাউন্টার রিএজেন্ট। আর পরিমাপ ও টাইট্রেশনের জন্য দরকার হবে ৫ মিলি দাগাঙ্কিত একটি ছোট টিউব। পানি বা যেকোন তরলের পিএইচ পরিমাপ করতে হলে প্রথমে সেই নমুনার ৫ মিলি পরিমাণ ছোট টিউবটিতে নিতে হবে। অতঃপর তাতে মাত্র এক ড্রপ ইনডিকেটর যোগ করে ২০-৩০ সেকেন্ড নাড়াতে হবে। তারপর কাউন্টার রিএজেন্টের বোতল থেকে এক ড্রপ তরল পরিমাপক টিউবে যোগ করলে নমুনা পানির বা তরলের পিএইচ মান কত তা’ জানা যাবে। মো. হাদিউজ্জামান’র উদ্ভাবিত ইনোভেটিভ এই পদ্ধতিটি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহ কর্তৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত এবং মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কর্তৃক মাঠ পর্যায়ে পাইলটিং এর জন্য অনুমোদিত। এই পাইলটিং কর্মসূচির আওতায় গত ১৯-২০ সেপ্টেম্বর/২০২০ সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ১০০ জন মৎস্য চাষিকে হাতে কলমে পদ্ধতিটির কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং তাদের প্রত্যেককে নব উদ্ভাবিত পিএইচ কিটবক্স প্রদান করা হয়। মৎস্য অধিদপ্তর’র সহকারী পরিচালক ও উদ্ভাবক মো. হাদিউজ্জামান পদ্ধতিটির প্রয়োগ বিষয়ে প্রশিক্ষন প্রদান করেন। এসময় সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান ও তালা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ¯িœগ্ধা খা বাবলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মো. হাদিউজ্জামান জানান, প্রতিটি নমুনার পিএইচ পরীক্ষার জন্য খরচ পড়বে ১৫-২০ পয়সা। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই পদ্ধতিটি মৎস্য খামারের পানির পিএইচ নির্ণয়ের জন্য খুবই উপযোগী হবে এবং প্রশিক্ষিত ১০০ জন মৎস্য চাষির মতামত সংগ্রহ করে পদ্ধতিটি সব ধরণের মৎস্য চাষিদের জন্য সহজলভ্য করা সম্ভব হবে।

#