সিটি নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের প্রচার নিষিদ্ধে পরিপত্র চান ইসি মাহবুব


111 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সিটি নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের প্রচার নিষিদ্ধে পরিপত্র চান ইসি মাহবুব
জানুয়ারি ১৩, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের প্রচারে অংশ নেওয়া ‌নি‌ষিদ্ধ কর‌তে প‌রিপত্র জা‌রির দা‌বি জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এক আনঅফিসিয়াল নোটে এ দাবি জানান তিনি।

ঢাকা সিটির নির্বাচনে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি প্রচারণা বা নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সম্পর্কে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন এই নির্বাচন কমিশনার।

নোটে মাহবুব তালুকদার বলেন, বিদ্যমান আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচন সম্পর্কিত যে কোনো কমিটিতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এই নির্বাচনি কার্যক্রম ঘরে বা বাইরে যে কোনো স্থানে হতে পারে। এ বিষয়ে আচরণ বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধান অত্যন্ত সুস্পষ্ট। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এই বিধিমালা যারা প্রণয়ন করেছেন তারাই এখন এর বিরোধিতা করছেন। বিধিমালা নিয়ে যাতে বিভ্রান্তির অবকাশ না থাকে সে-জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনাসহ একটি পরিপত্র জারি করা অত্যাবশ্যক। না হলে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে পরিপালন নিশ্চিত করতে না পারলে নির্বাচন কমিশন আস্থার সংকটে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নোটটি বাকি তিন নির্বাচন কমিশনারকেও পাঠান তিনি।

এর আগে নির্বাচনি প্রচারণা ও নির্বাচনি কার্যক্রমে সংসদ সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন বলে গত ৯ জানুয়ারি দেওয়া আনঅফিসিয়াল নোটে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাহবুব তালুকদার।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান করা হয়েছে সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদকে- যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তোফায়েল আহমেদকে ঢাকা উত্তর এবং আমুকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বে রেখেছে দলটি। এ দুই সংসদ সদস্যকে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়াকে আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি।

এদিকে শনিবার তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সিইসি কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা স্থানীয় নির্বাচনের কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। এমপিরা নির্বাচনী কার্যক্রম ও প্রচারণা করতে পারবেন না; ভোটের সমন্বয় করতে পারবেন না।

তোফায়েল-আমুর নেতৃত্বে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বৈধ কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি বলতে পারব না অফিসিয়ালি কারা আছে না আছে। তারা আমাদের সঙ্গে বৈঠকে কারও পক্ষে-বিপক্ষে বলতে আসেননি, আইনের ব্যাখ্যা জানতে এসেছেন। এ সময় এই দুই সংসদ সদস্যের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোটের কাজে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার পক্ষে মত দেন সিইসি।

তবে বৈঠক শেষে তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ সদস্যরা সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া ছাড়া সবই করতে পারবেন।