সিরাজগঞ্জে নৌকাডুবি, শিশুসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ৩০


166 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সিরাজগঞ্জে নৌকাডুবি, শিশুসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ৩০
মে ২৬, ২০২০ জাতীয় দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আনলাইন ডেস্ক :

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যমুনা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় তিন বছরের এক শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩০ জন। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে যমুনার স্থলচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে তাদের দুইজনের পরিচয় জানা গেছে, এরা হলেন, পাষান আলী ও শেখ কামাল। পাষান আলীর বাড়ি বেলকুচি উপজেলার গয়নাকান্দি গ্রামে। তার বয়স ৬৫ বছর। শেখ কামালের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সুবর্ণতলী গ্রামে। অপর শিশুটির পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তার মা-বাবাও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এনায়েতপুর থেকে ৮০-৯০জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি চৌহালীর দিকে যাওয়ার পথে স্থলচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক শিশু ও এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত নৌকার ৩৫-৪০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে স্থলচর বাজারে রাখা হয়েছে। যাত্রীদের বেশিরভাগই ধান কাটার শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ কাজ করছে।

স্থল ইউনিয়নের সদস্য আব্দুন নূর জানান, মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে এনায়েতপুর থানার অদুরের ঘাট থেকে জেলার চৌহালী উপজেলা সদরের দিকে যাত্রী পরিবহনকারী শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকাটি ছেড়ে যায়। নৌকাটিতে ধান কাটার শ্রমিক বেশি ছিলেন। শ্রমিকরা টাঙ্গাইলের করটিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল। দুপুর পৌনে ২টার দিকে যমুনার স্থল নামক স্থানে নৌকাটি প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে। এতে নৌকাটি ডুবে দু’জন মারা যান। নৌকার মাঝি ইব্রাহীম হোসেন সাঁতরে উঠতে সক্ষম হলেও নারী ও পুরুষসহ কমপক্ষে ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে করোনায় চৌহালীর বেশ কটি ইউনিয়নে লকডাউন ও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি দালাল চক্র পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এনায়েতপুর থানার অদুর থেকে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকায় অবৈধভাবে যাত্রী চৌহালী-টাঙ্গাইল পারাপার করছে। নৌকায় যমুনা পাড়ি দিয়ে প্রতিদিনই শত শত মানুষ ঢাকা/নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে- বঙ্গবন্ধু সেতুর উভয় পাড়সহ বেলকুচি ও এনায়েতপুর থানা এবং টহল নৌ-পুলিশ এসব বিষয় অবগত থাকলেও রহস্যজনকভাবে শুরু থেকেই নিশ্চুপ থাকেন। এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ওসি সৈয়দ সহিদ আলম বলেন, যাত্রী পারাপারের খবর পেলে জেলার ওইসব থানার ওসিসহ নৌ-পুলিশকে জানানো হয়।