সিসিটিভির নজরে থাকবে রাজধানী


318 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সিসিটিভির নজরে থাকবে রাজধানী
অক্টোবর ৩, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :

 

untitled-14_165199
অপরাধী শনাক্ত ও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৭শ’ কোটি টাকার প্রকল্প

রাজধানীতে অপরাধী শনাক্ত, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক করার লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে সিসিটিভি বসানো হলেও তার সুফল খুব একটা পাওয়া যায়নি। বেশ কিছু অপরাধমূলক ঘটনায় অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে যে সব সিসিটিভির সহায়তা পাওয়া গেছে তার সবই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। বহু ক্ষেত্রে সিসিটিভি অকেজো থেকেছে, পাওয়া গেছে অস্পষ্ট ইমেজ যা অপরাধ তদন্তে কাজে লাগেনি। ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যাকাণ্ডের পর পুরো রাজধানীকে সিসিটিভির আওতায় আনার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

ঢাকায় সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি বসাতে ৭শ’ কোটি টাকার নতুন প্রজেক্ট নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে পরামর্শক নিয়োগের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সমকালকে বলেন, রাজধানীবাসীর নিরাপত্তায় নগরীর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি বসানো হবে। রাজধানীর প্রবেশমুখেও থাকবে সিসিটিভি।
এতে সাতশ’ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। পরামর্শক নিয়োগের জন্য পুলিশকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর দরপত্র আহ্বান করা হবে। চীনের একটি প্রতিষ্ঠানও রাজধানীতে সিসিটিভি বসানোর ব্যাপারে ইতিমধ্যে প্রস্তাব দিয়েছে।
২০০৯ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নগরীর ৫৯ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১৫৫টি ক্যামেরা এবং ৩১টি ডিসপ্লে বোর্ড বসানো হলেও তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ক্যামেরার ছবি পেঁৗছে না নিয়ন্ত্রণ কক্ষে, ডিসপ্লে বোর্ডও বেশিরভাগই নষ্ট। পরে সব ক্যামেরার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এতে গচ্চা যায় কোটি কোটি টাকা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) বনজ কুমার মজুমদার সমকালকে বলেন, সিসিটিভির ফুটেজের মাধ্যমে কীভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করে তোলা যায় তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ সমকালকে বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকায় ফোর্স মোতায়েন করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা কঠিন। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি স্থাপনের বিকল্প নেই। জোনভিত্তিক এলাকা ভাগ করে সিসিটিভি বসানো যেতে পারে। এতে দুর্বৃত্তরা যে কোনো অপরাধ করতে ভয় পাবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের পক্ষে হুবহু মানুষের চেহারা মনে রাখা কঠিন। তাই প্রযুক্তি প্রধান ভরসা।
এবার রাজধানীর অন্যতম চারটি প্রবেশ পথ ছাড়াও বাস, লঞ্চ ও ট্রেন স্টেশনে সিসিটিভি লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। গুলশানের কূটনৈতিক এলাকার অলি-গলিতেও থাকবে সিসিটিভি। গুরুত্বপূর্ণ বিপণিবিতান, হোটেলের সামনেও একই ব্যবস্থা থাকবে।

সর্বশেষ গুলশানে ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলাকে হত্যার পরপরও সিসিটিভির ফুটেজ নিয়ে কাজ করেন গোয়েন্দারা। যদিও মূল ঘটনাস্থল ছিল সিসিটিভির আওতার বাইরে। এখন আশপাশের ফুটেজ পরীক্ষা চলছে। শুধু তাভেলা হত্যাকাণ্ড নয়, রাজধানীকেন্দ্রিক চুরি, ছিনতাই, খুনের পরপরই আশপাশ এলাকার সিসিটিভি সংগ্রহ করে তদন্ত সংস্থা। ঢাকা মহানগর পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ২০০৯ সালে ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স পিটিজেড (প্যান, টিল্ট অ্যান্ড জুম) ক্যামেরা ও ট্রাফিক ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন শুরু হয়। প্রকল্পের অংশ হিসেবে পুলিশের জন্য এক হাজার ২৩টি আধুনিক টেট্রা পদ্ধতির (টেরিস্ট্রিয়াল ট্রাংকড) রেডিও কেনা হয়। থানা পুলিশের ৩০টি টহলগাড়িতে লাগানো হয় অটোম্যাটিক ভেহিকেল লোকেশন সিস্টেম (এভিএলএস)। এ ছাড়াও রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার আবদুল গনি রোডে সিথ্রিএস (কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন সিস্টেম) নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়। তবে পুলিশের এই প্রকল্পে তেমন কোনো সুফল মেলেনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার অধিকাংশ এলাকা এখনও সিসিটিভির আওতার বাইরে। কোথাও কোথাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। গুলশান, বারিধারা ও নিকেতন সোসাইটি মিলে গোটা এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতে গঠন করা হয় ‘ল অ্যান্ড অর্ডার কো-অর্ডিনেশন কমিটি’। পুলিশের তত্ত্বাবধানে গত মে মাসে গুলশান, বারিধারা, নিকেতন ও হাতিরঝিলের কিছু সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গুলশানের অনেক কূটনৈতিক এলাকাও সিসিটিভির আওতামুক্ত। ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও বাসায় যে সিসিটিভি লাগানো হয়েছে তার মুখ রাস্তার উল্টো দিকে রয়েছে। উত্তরা, মিরপুরসহ আরও কিছু এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে সিসিটিভি বসানো হয়নি।
গুলশান সোসাইটির সভাপতি ড. এটিএম শামসুল হুদা সমকালকে বলেন, গুলশান সোসাইটির পক্ষ থেকে ছয়শ’ সিসিটিভি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে প্রধান প্রধান সড়কে একশ’টি বসানো হয়েছে। সিসিটিভি বসানোর পাশাপাশি গুলশান এলাকায় পুুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় জুয়েনা নামের এক তরুণীকে হত্যা করে নর্দমায় লাশ ফেলে পালায় দুর্বৃত্তরা। পরে পাশের একটি স্কুলের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে মূল আসামিকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি রাজধানীর মগবাজারে যানজটে পড়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে দু’জন নিহত হন। পরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভির ফুটেজ ধরে পুলিশ এ ঘটনায় রনির সম্পৃক্ততা জানতে পারে। এর আগে ধানমণ্ডিতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীমকে গুলি করা হয়। সিসিটিভির ফুটেজ দেখেও এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে গুলশানে যুবলীগ নেতা মিল্কীকে ফিল্মিস্টাইলে গুলি করা হয়। পাশের একটি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে খুনিদের নাম জানা যায়। এখন পর্যন্ত রাজধানীতে চাঞ্চল্যকর যে কয়েকটি ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত করা হয়েছে তার অধিকাংশ ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছিল।

তবে রাজধানীকেন্দ্রিক অনেক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ থেকেও জড়িতদের শনাক্ত করা যায়নি। আবার অনেক ঘটনায় আশপাশ থেকে সিসিটিভি ফুটেজই পাওয়া যায়নি। গত পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ছাত্রীনিপীড়নের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেও স্পষ্টভাবে কোনো আসামি শনাক্ত করা যায়নি। ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যার পরও সিসিটিভির ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।—সুত্র:-সমকাল অনলাইন।