সীমান্তে আরও ২১৬ ক্যাম্প হচ্ছে


364 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সীমান্তে আরও ২১৬ ক্যাম্প হচ্ছে
জুলাই ৭, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

 

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডেস্ক ॥
সাগরপথের পাশাপাশি স্থলপথেও চলছে মানব পাচার। চলতি বছরে এ পর্যন্ত যশোরের বেনাপোল, সাতক্ষীরা,পুটখালী, শার্শাসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় শতাধিক নারী ও শিশুকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর পাশাপাশি মাদক পাচার ও চোরাচালানের ঘটনাও ঘটছে। এ অবস্থায় মানব পাচার রোধে সাগরপথের পাশাপাশি স্থলপথেও কঠোর হচ্ছে সরকার। এ জন্য সীমান্তে ২১৬টি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) বা ক্যাম্প নির্মাণ করবে বিজিবি। একই সঙ্গে মানব পাচার রোধে বিজিবির জন্য কেনা হচ্ছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি।

এ সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পর পরিকল্পনা কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে একনেকের বৈঠকে দুটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উঠছে। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের বাহিনীর পুনর্গঠন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই আলোকে সীমান্তের বেশ কিছু অরক্ষিত এলাকায় বিওপি নির্মাণের প্রস্তাব দেয় বিজিবি। ইতিমধ্যে বেশ কিছু এলাকায় বিওপি স্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি মানব পাচার বেড়ে যাওয়ায় আরও ২১৬টি বিওপি নির্মাণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে।

ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এ সীমান্ত পাহারায় কয়েক বছর আগে ৬৬৭টি বিওপি ভবন নির্মিত হয়েছে। এর পরও সীমান্তের কিছু অংশ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। নতুন নতুন রুট দিয়ে মানব পাচার হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় ২১৬টি বিওপি বা ক্যাম্প নির্মাণের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৬০টি নির্মাণের জন্য আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করছে পরিকল্পনা কমিশন। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার জন্য আরও একটি প্রকল্প অনুমোদনের তালিকায় রয়েছে।

বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আখতার হামিদ খান বলেন, সীমান্তে পাহারা জোরদার করতে গত কয়েক বছরে বিওপি নির্মাণ করা হয়েছে। এর পরও বেশ কিছু এলাকা অরক্ষিত অবস্থায় আছে। এসব এলাকায় টহল ও ফোর্স মোতায়েনে নতুন বিওপি নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, বিওপিগুলো নির্মাণ সম্ভব হলে সীমান্ত দিয়ে মানব পাচার, চোরাচালান এবং মাদক পাচার ঠেকাতে বিজিবি আরও সাহসী ভূমিকা রাখতে পারবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পণ্য চোরাচালানের ফলে প্রচুর রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার, মাদকসহ বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় গোলাবারুদ ও সরঞ্জামের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।

প্রাথমিকভাবে ৬০টি বিওপি নির্মাণে ব্যয় হবে ৮৪ কোটি টাকা। এগুলো হবে কুষ্টিয়া, যশোর, রংপুর, বান্দরবান, রাঙামাটি, সিলেট, কক্সবাজার, সাতক্ষীরা, রাজশাহীসহ ২১টি সীমান্তবর্তী জেলায়।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় সরকার সবকিছু করবে। এজন্য যন্ত্রপাতি কেনাকাটা এবং অবকাঠামো সুবিধা বাড়াতে দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দিচ্ছে। আরও কয়েকটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন, যা দ্রুত অনুমোদন দেবে পরিকল্পনা কমিশন।

বিজিবির জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার প্রস্তাবটিও অনুমোদন দিচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন। সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বিজিবির জন্য যন্ত্রপাতি শীর্ষক প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের জুনের মধ্যেই অত্যাধুনিক টহল যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটির আওতায় জিপিএস মেশিন উইথ কলিগ, থারমাল ইমেজিং বাইনোকুলার, নাইট ভিশন গগলস, হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টর, ওয়াকি-টকি সেট, স্যাটেলাইট ফোন, বহনযোগ্য তাঁবু, ফগার মেশিন কেনা হবে। এছাড়াও লাইফ জ্যাকেট, ফ্লাশ লাইট, স্লিপিং ব্যাগ, ম্যাজিক মশারি, ইউটিরিটি নাইফ, জঙ্গলে চলার উপযোগী বুট এবং ক্যারিং ভেস্ট বিজিবির জন্য সরবরাহ করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, প্রকল্পগুলোর উদ্দেশ্য হলো অবৈধ অভিবাসী, নিষিদ্ধ ওষুধ এবং মাদকের চোরাচালান প্রতিরোধ করা। সীমান্তবর্তী জলসীমা ব্যবহার করে বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে বিদেশ গমন প্রতিরোধ করা, নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র এবং বিস্টেম্ফারকের চোরাচালান প্রতিহত করা। এছাড়া মানব পাচার প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করতে পারবে বিজিবি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য হুমায়ুন খালিদ জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিস্তীর্ণ সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রকল্পটি ইতিবাচক অবদান রাখবে।