সীমান্তে দম্পতিসহ আরও ৫ রোহিঙ্গার লাশ


580 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সীমান্তে দম্পতিসহ আরও ৫ রোহিঙ্গার লাশ
সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৭ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাদের অভিযানের মুখে পালিয়ে আসতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দম্পতিসহ আরও পাঁচ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার হয়েছে।

কক্সবাজার ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান জানান, শনিবার রাতে বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী পয়েন্টে শূন্য রেখার বাংলাদেশ অংশে গুলিবিদ্ধ নারী-পুরুষের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিজিবিকে খবর দেয়। পরে বিজিবি লাশ দুটি উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, নিহতরা দম্পতি। তাদের সীমান্তের জলপাইতলীতে রাখা হয়েছে।

বিজিবির এ কর্মকর্তা তাদের নাম নিশ্চিত করতে না পারলেও পালিয়ে আসা অন্য রোহিঙ্গারা তা নিশ্চিত করেন। এরা হলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আকিয়াব জেলার মংডু থানার ঢেঁকিবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. জাফরুল্লাহ ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগম।

অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা আবুল হোসেন বলেন, দুদিন আগে পালিয়ে ঘুমধুম সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন জাফরুল্লাহসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসার সময় ফেলে আসেন তাদের সহায় সম্পদ।

তিনি বলেন, তারা ফেলে আসা সম্পদ নিয়ে আসতে শনিবার ঘুমধুমের জলপাইতলী সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার যান। ঢেঁকিবুনিয়ায় পৌঁছার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের গুলি করে। পরে গুলিবিদ্ধ স্বামী-স্ত্রী দুজনে পুনরায় বাংলাদেশের দিকে রওনা হন। এক পর্যায়ে ঘুমধুমের জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এলাকায় মিয়ানমার অভ্যন্তরে তারা মারা যান।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন খান বলেন, শনিবার রাতে হোয়াইক্যং খারাংখালী নাফনদ থেকে আরও শিশুসহ তিন রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

১১ দিন আগে মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশ পোস্ট ও সেনাক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে গত পাঁচ দিনে নাফ নদ থেকে ৫৫ জন রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার হলো। এর মধ্যে বুধবার চার, বৃহস্পতিবার ১৯, শুক্রবার ২৬, শনিবার সকালে শাহপরীরদ্বীপ এক ও রাতে হোয়াইক্যং পয়েন্ট তিন এবং ঘুমধুম সীমান্ত থেকে দুই রোহিঙ্গার মৃতদেহ পাওয়া যায়।