সীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধে বাংলাদেশ-ভারত একমত


298 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধে বাংলাদেশ-ভারত একমত
নভেম্বর ২৫, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :

বুধবার চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসক পর্যায়ে দ্বিতীয় যৌথ সীমান্ত সম্মেলন শেষে দু’দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।

সম্মেলনে সীমান্তে সন্ত্রাস বন্ধে দু’দেশের জেলা প্রশাসক পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।

ভারতের মিজোরাম সেক্টরের তিনটি জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং বাংলাদেশের রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা প্রশাসক, পুলিশ ও বিজিবির স্থানীয় কর্মকর্তারা সম্মেলনে অংশ নেন। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা সম্মেলরে নয়টি এজেন্ডার ওপর আলোচনা হয়।

সম্মেলন শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. সামশুল আরেফিন এবং ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লাংলাইয়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশিষ মাধাওরাও মোর।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি জেলা প্রশাসন পর্যায় থেকে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই দ্রুত পরস্পরকে অবহিত করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। দুই দেশের সরকার কিংবা উচ্চপর্যায়ের যেকোনো সিন্ধান্ত জেলা প্রশাসক পর্যায়ে আলোচনা হবে। এতে আশা করি, ভবিষ্যতে কোনো সমস্যার সমাধান দুই দেশের জন্যই অনেক সহজ হয়ে যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুই দেশের সীমান্তে এ মুহূর্তে বড় কোনো সমস্যা নেই। বড় কোনো সংকটের সম্মুখিন হচ্ছে না দেশ দুটি। দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

মিজোরামের লাংলাই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশিষ মাধাওরাও মোর বলেন, ‘গত জানুয়ারিতে আমরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে প্রথম বৈঠক করেছিলাম। এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিভাগের বৈঠক হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিরাজমান কিছু সমস্যা ছাড়া আমাদের সীমান্তে আর কোনো বড় সংকট নেই। এরপরও এ ধরনের বৈঠক আমাদের স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলবে।’

অন্যদের মধ্যে ভারতের পক্ষে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লুংলি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ মহেন্দ্র সুরে, মামিত জেলার লালবিয়া শঙ্করী, মামিতের পুলিশ সুপার সিলাল রুমাইয়া, চট্টগ্রামের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সোমনাথ হালদার।

বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন বান্দরবানের রুমা, হরিয়ানা, বরকল ২৫ ও ৫৩ ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।

প্রধান অতিথি বলেন, ‘এ বৈঠক বন্ধুপ্রতিম দুটি দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া, সৌহার্দ্য এবং সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ভারত একাত্তরে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অসামান্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল। স্বাধীনতার পরও অকৃত্রিম বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে সহযোগিতা করে আসছে।’

বৈঠক থেকে বেরিয়ে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মো.মিজানুর রহমান বলেন, ‘সীমান্তে অপহরণের বিষয়টা এবং অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয় আলোচনায় এসেছে। সীমান্ত সন্ত্রাস যেটাকে আমরা বলছি সেটা নিয়েও কথা হয়েছে। সীমান্ত কেন্দ্রিক সব অপরাধ প্রশাসনিকভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে একমত হয়েছি আমরা।’