সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে কপোতাক্ষ খনন প্রকল্প


892 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে কপোতাক্ষ খনন প্রকল্প
মে ১, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল
দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের আশির্বাদের কপোতাক্ষ নদ ভরাট হয়ে অভিশাপে পরিণত হওয়ায় বর্তমান সরকারের উদ্যোগে খনন হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতার ফলে কোন সুফলই আসবে না বলে মনে করছে নদ অববাহিকার মানুষ। সরেজমিনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরীর পূর্বে নদ খনন এলাকা দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটার ঘুরে দেখা গেছে চরম দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্প। বর্তমান সরকার বিগত ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসেই এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ২৬২ কোটি টাকার বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেয়। যে প্রকল্পের মধ্যে তালার খেশরার পাখিমারা বিলে টিআরএম বাস্তবায়ন ও নদ অববাহিকার ভাটি অঞ্চল খুলনা জেলার পাইকগাছা থেকে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলায় এ খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কাজটি বাগিয়ে নেয় যশোর এলাকার ক্ষমতাসীন এক নেতা। তার নেতৃত্বে বর্তমান প্রায় ১৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কপোতাক্ষ নদ খনন, টিআরএম প্রকল্প, সংযোগ খাল প্রায় ৪ বছর ধরে খনন অব্যাহত রেখেছে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও বর্তমান অর্থবছরে আবারও ১ বছর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। তারপরেও মেয়াদ প্রায় শেষ হওয়ার পথে। প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত নদ খনন শেষ না হলেও খনন করা হয়নি ৮০ টি সংযোগ খালের ১টিও সংযোগ খাল। নামেমাত্র বিভিন্ন খালে প্রকল্পের কাজ দেখাতে যেনতেনভাবে খনন করা হয়েছে। প্রকল্পের দুর্নীতি আর অনিয়মের স্বচ্ছতা দেখাতে ২৬২ কোটি টাকার সিংহভাগ টাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোর শাখার বিভিন্ন প্রকৌশলীর পকেটস্থ হয়েছে।

Jamal Pic 30

এ নিয়ে তালা উপজেলার বে-সরকারী এনজিও সংস্থা উত্তরণ কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুললে তাদেরকে শায়েস্তা করতে ক্ষমতাসীন ঐ ঠিকাদারের নেতৃত্বে বিভিন্ন মামলা হামলায় জড়িয়ে আন্দোলনের বেগবান স্থবির করে দেয়া হয়। বর্তমান গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্প শেষ করতে চরম স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যদিয়ে নদ খনন করছে। যার ফলে নদের ডিজাইন অনুযায়ী ২ পাশে ভেড়িবাঁধ নির্মাণপূর্বক আবারো যৌবন ফেরাতে যেকাজ অব্যাহত রেখেছে তার কোন সুফলই আসবে না বলে অনুসন্ধানী এ প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষ করা গেছে। বর্তমান নদটির তালা উপজেলার মেলেকবাড়ি, সেনপুর, রাঢ়ীপাড়া ও কেশবপুর উপজেলার বগা, নেহালপুর এলাকায় খনন করা হচ্ছে। যেখানে প্রকল্প শেষ করতে তড়িঘড়ি করে যেনতেন খনন করায় ভেড়িবাঁধ তো দূরের কথা খনন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। যার ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ লক্ষ মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন কপোতাক্ষ খনন ভেস্তে যেতে বসেছে। নদ অববাহিকার পাটকেলঘাটার জাহাঙ্গীর হোসেন, খেশরার তবিবুর রহমান, মেলেকবাড়ির তকব্বার রহমান, সেনপুরের মোমিনউদ্দীন সহ একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে ভুক্তভোগী মানুষ জানান, সরকারী মাল দরিয়ামে ঢাল। তদরূপ নামেমাত্র কপোতাক্ষ খনন হলেও কোন সুফল আসবে না নদ অববাহিকার মানুষের।