ভোগান্তির অপর নাম তালার খেশরা-কাটিপাড়া সেতু


518 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভোগান্তির অপর নাম তালার খেশরা-কাটিপাড়া সেতু
অক্টোবর ২৫, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস কে রায়হান, খেশরা :
তালা উপজেলার খেশরা ও পাইকগাছা উপজেলার কাটিপাড়া সীমান্তের বুক চিরে চলে গেছে কপোতাক্ষ নদ ।এই নদ যেমন কবির কল্যানে বিশ্বখ্যাত , তেমনিই চরম এক ভোগান্তির অপর নাম এই কপোতাক্ষ নদ ।

সরেজমিনে জানা যায় , আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে তৎকালীন পাইকগাছা-কয়রা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ নুরুল ইসলামের প্রচেস্টায় এলজিইডি , খুলনা ব্রীজটি নির্মান করেছিল ।কিন্তু প্রায় চার বছর আগে  কপোতাক্ষ খনন প্রকল্পের আওতায় নদটি খনন করা হলে ব্রীজটির পিলারগুলো দূর্বল হয়ে পড়ে ।এরপর নদের পানি প্রবল শ্রোতে প্রবাহিত হওয়ার ফলে পিলারগুলো ধ্বসে যায় ।ফলে পুরো ব্রীজটা একসময় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় ।

picture-3
এরপর নতুন করে শুরু হয় চরম ভোগান্তি । ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর খেশরার শেখ কালাম , মনোতোষ কুমারসহ এলাকাবাসীর উদ্দোগ্যে বাঁশ-কাঠ দিয়ে কোন রকমে চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয় ব্রীজটি । কিন্তু তা-ও প্রবল শ্রোতে শেষ রক্ষা হয়নি ।বর্তমানে ব্রীজটির স্হলে এলাকাবাসীর উদ্দোগ্যে নেীকা দিয়ে চলছে পারাপার ।কিন্তু তা কতটাই-বা সস্হ্যিকর ও নিরাপদ ??
খেশরা গ্রামের কালাম শেখ জানান , প্রতিদিন খেশরা , শাহজাতপুর , ডুমুরিয়া , বালিয়া , কাটিপাড়া , রাড়ুলী , বাঁকা , শাহপুর , হরিহরনগর ও মুড়াগাছার শত শত মানুষ চলাচল করে এই পথে ।কিন্তু তাদের পারাপারের একমাত্র উপায় ছোট নেীকা , যা আদেী নিরাপদ নয় ।এলাকাবাসীর প্রশ্ন , আর কতদিন , এই ভোগান্তি ?? এদিকে বৃষ্টির দিনে খেশরা , শাহজাতপুরের মানুষ তাদের উপজেলা ও জেলা শহর সহ যে কোন জায়গায় যেতে গেলে হাঁটু কাঁদা মাড়িয়ে যেতে হয় । সেক্ষেত্রে জরুরী মুহুর্তে বের হওয়া যে কতটা বন্ধুর তা সহজেই অনুমেয় ।
এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা যায় , দুই বছর আগে তারা এলজিইডি-সাতক্ষীরা’র সাথে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তা এসে সেতু স্হল মেপে চলে যান । তারপর দু’বছর অতিক্রান্ত হলেও আর কোন উদ্দোগ চোখে পড়েনি ।সর্বশেষ , গত চার মাস আগে খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের প্রচেষ্টায় তালা উপজেলার নির্বাহী প্রোকেীশলী আসেন বিধ্বস্ত ব্রীজটি পরিদর্শনে ।এক সময়কার নদীর উপর ব্রীজটি হওয়ায় তিনি নাকি এর সীমানা নির্ধারণ করতে পারেননি । তাহলে বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নের অংশ হিসাবে কে করবে এই কাজ ? আর কতদিন পোহাতে হবে এই চরম দূর্ভোগ ??
এ প্রশ্ন আজ স্হানীয় হাজার হাজার মানুষের । সেই সাথে এলাকাবাসী সড়ক , জনপদ ও সেতু মন্ত্রানালয়ের অধীন সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন , যাতে ব্রীজটি নির্মান করে তাদের সীমাহীন ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করেন ।