সুন্দরবণের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে ২২ জেলে অপহরণ


440 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবণের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে ২২ জেলে অপহরণ
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৫ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস ডেস্ক :
পশ্চিম সুন্দরবনের ত্রাস ও কুখ্যাত বনদসু্যু জোনাব বাহিনী ২২ জেলেকে অপহরণ করেছে। মুক্তিপণের দাবিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে পশ্চিম সুন্দরবনের দাড়গাং, বয়ারসিং ও বৈকারী এলাকা থেকে এসব জেলেদের জিম্মি করে তারা। জিম্মি জেলেদের সবার নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও ৬ জনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা জেলেসহ অপহৃতদের সহযোগী জেলেরা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে জিম্মি থাকা জেলেদের পরিণাম এবং পরবর্তীতে নিজেদের সুন্দরবনে যাতায়াতের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ থাকায় এসব জেলেরা সংবাদপত্রে নিজেদের নাম পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোর রাতে জোনাব বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হওয়া জেলেদের মধ্যে যে ৬জনের পরিচয় মিলেছে তারা হলো টেংরাখারী গ্রামের সফিকুল ইসলাম, পাতাখালীর আনিছুর রহমান, পার্শ্বেখালীর রফিকুল ইসলাম, কেওড়াতলীর খোকন গাজী, পদ্মপুকুরের কওছার গাজী ও রেজাউল ইসলাম।

ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছে, দু’টি ইঞ্জিন চালিত নৌযান নিয়ে দাড়গাং, বয়ারসিং ও বৈকারী এলাকা থেকে জোনাব বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা এসব জেলেদের উঠিয়ে নেয়। নাম পরিচয় পাওয়া ৬জেলের মুক্তির বিনিময়ে বনদস্যুরা প্রাথমিকভাবে তিন লাখ টাকা দাবি করেছে বলেও তারা জানিয়েছে।

এদিকে অপর একটি সুত্র জানিয়েছে যে জোনাব বাহিনী প্রতিটি নৌকা থেকে দু’জন জেলের মধ্যে এক জনকে উঠিয়ে নিয়েছে। এছাড়া তাদেরই আরও কয়েকটি নৌকার জেলেদের আলাদাভাবে উঠিয়ে না নিয়ে সম্মিলিতভাবে ঐ তিন লাখ টাকা দাবি করেছে।

সুত্রটি আরও নিশ্চিত করেছে তাদের কাছে পৌছানোর সময় আগেই জিম্মি হওয়া আরও বেশ কিছু জেলে বনদস্যুদের ব্যবহৃত নৌকায় অবস্থান করছিল। ফলে সেখানে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ঐ অংশে মাছ ও কাঁকড়া শিকারী জেলেদের মধ্যে থেকে ৬ জনকে উঠিয়ে নেয় তারা। আগে থেকে বনদস্যুদের নৌকায় জিম্মি অবস্থায় থাকা জেলের সংখ্যা ১৬/১৭ জনেরও অধিক হবে বলেও তারা নিশ্চিত করে।

উল্লেখ্য পশ্চিম সুন্দরবনের এই সময়ের সবচেয়ে বড় দস্যু বাহিনী হিসেবে জোনাব বাহিনীর কথা জেলেদের মুখে মুখে। ইতোপুর্বে ছোট ছোট বাহিনী হিসেবে পৃথকভাবে দস্যুতা করলেও কয়েক মাস ধরে আলম, রবিউলসহ আরও কতগুলো ক্ষুদ্র বাহিনী জোনাব বাহিনীর সাথে মিলিত হয়েছে। এদিকে জলেদের অপহরণের বিষয়ে বনবিভাগ বা পুলিশকে কেউ কোনো তথ্য দেয়নি বলে তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।