সুন্দরবনই রক্ষাকবচ


235 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবনই রক্ষাকবচ
নভেম্বর ১০, ২০১৯ দুুর্যোগ সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

উপকূলকে লণ্ডভণ্ড করে দেওয়ার হুমকি নিয়েই ধেয়ে আসছিল ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। এ জন্য সরকারের নানা তোড়জোড়, সর্বাত্মক প্রস্তুতি ছিল। নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল ২১ লাখের বেশি মানুষকে। প্রস্তুত ছিল ১০টি যুদ্ধজাহাজ। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা, উদ্ধার তৎপরতা ও জরুরি ত্রাণ বিতরণের জন্য প্রস্তুত ছিল সেনাবাহিনী। উপকূলীয় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়।

তবে পূর্বাভাসে যতটা ‘গর্জন’ ছিল, বাস্তবে ততটা ‘বর্ষাল’ না ‘বুলবুল’। উপকূলের ২০০ কিলোমিটারে প্রবেশের পথে শক্তি কমতে থাকে। স্থলভাগে ‘ছোবল’ মারার সময় ঘূর্ণিঝড়টির গতি আরও কমে যায়। দেশি-বিদেশি আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস ও নানা হিসাব-নিকাশ ভুল প্রমাণ করে ‘বুলবুল’ বাংলাদেশের উপকূলে প্রবেশ করে সাধারণ ঘূর্ণিঝড় রূপে। অথচ শনিবার রাত ৮টা পর্যন্তও এটি ছিল ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় (ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম)।

রোববার সকাল থেকে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ অতিক্রম করছে ‘স্থল নিম্নচাপ’ পরিচয়ে। এ জন্য দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে সংকেত কমিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুলবুল বাংলাদেশে আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত। তবে খুব দ্রুতই এর গতি কমে ৮০ কিলোমিটারে নেমে আসে।

আগারগাঁও আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ রোববার সমকালকে বলেন, প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আঘাত হানার কারণে ‘বুলবুল’ দুর্বল হয়ে পড়ে। তবু শঙ্কা কাটছিল না। শেষ পর্যন্ত সুন্দরবনই রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে। নইলে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানার পরেও যে গতিতে এটি আসছিল, ক্ষয়ক্ষতি হতেই পারত।

তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ এলাকার সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানে। বাধাগ্রস্ত হয়ে এটি আসে খুলনার সুন্দরবন উপকূলে। সেখানে আঘাত হানার পর এটি আরও শক্তিহীন হয়ে পড়ে। দুই এলাকায় সুন্দরবনের গাছপালার প্রতিবন্ধকতায় বুলবুলের কেন্দ্রের বাতাসের গতিবেগ প্রায় ২০ কিলোমিটার কমে যায়।

এর আগে শনিবার দিনভর বুলবুলের গতিপথ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন ভারতীয় আবহাওয়া বিজ্ঞানীরাও। শুক্রবার তাদের পূর্বাভাস ছিল, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ থেকে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার মধ্যে আঘাত হানতে পারে। তবে শনিবার বিকেলে এটি বাঁক নেয় সুন্দরবনের দিকে। সন্ধ্যার পরে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আঘাত হানার প্রবল শঙ্কা দেখা দেয়।

রোববার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের শেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরও সামান্য উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে রোববার সকাল ৬টায় বাগেরহাট, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলে গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ও বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমশ দুর্বল হতে পারে। গভীর নিম্নচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

সর্বশেষ রোববার দুপুর সোয়া ১টায় আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান সমকালকে বলেন, রোববার সারাদিন বুলবুলের প্রভাব থাকবে। এ জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল থাকছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সোমবার সকালে সংকেত প্রত্যাহার করা হতে পারে।

তিনি আরও জানান, রোববার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। সে অনুযায়ী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে না। তবে যেহেতু স্থল নিম্নচাপ হিসেবে ঘূর্ণিঝড়টি এখনও রয়েছে, ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।