সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকাতে কাকড়া শিকার চলছে অবাধে : বনবিভাগ নিরব


452 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকাতে কাকড়া শিকার চলছে অবাধে : বনবিভাগ নিরব
জানুয়ারি ২৫, ২০১৭ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর ::
রপ্তানিযোগ্য কাঁকড়ার প্রজনন বৃদ্ধির জন্য সরকারিভাবে প্রতি বছরের জানুয়ারি হতে ফেব্রুয়ারী দু’মাস ব্যাপী সুন্দরবন সহ তৎসংলগ্ন সকল নদীতে কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ করা হলেও সুন্দরবনের ভিতরে মাছ ধরার পাস নিয়ে জেলেরা অবাধে ডিমলে কাঁকড়া ধরছে অভিযোগ আছে ।
সুত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যতম রপ্তানিযোগ্য কাঁকড়া প্রজনন বৃদ্ধির জন্য সরকারিভাবে বর্তমানে জানুয়ারি হতে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ থাকে। কিন্তু পশ্চিম সুন্দরবনে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি, কদমতলা, কবাদক ও কৈখালী স্টেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে জেলেরা মাছ ধরার পাশ নিয়ে ডিমলে কাঁকড়া ধরছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি দিন বুড়িগোয়ালিনী খেয়া ঘাট ,মুন্সিগঞ্জ বাজার,নওয়াবেকী বাজার, ভেটখালি ও হরিনগর বাজারে প্রকাশ্যে লাখ লাখ টাকার ডিমলে কাঁকড়া বিক্রয় করছে জেলেরা ও ফড়িয়ারা।
গত এক সপ্তাহে সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৪টি স্টেশন অফিস থেকে প্রায় আড়াই শতাধিক জেলেকে সাদা মাছ ধরার পাশ দেওয়া হয়েছে। তন্মধ্যে কবাতক স্টেশন হতে ৩০, কদমতলা ১০০, কৈখালী ৮০ ও বুড়িগোয়ালীনী ষ্টেশন অফিস হতে ৭৭টি মাছ ধরা নৌকার পাশ দেওয়া হয় তথ্য সংশ্লিষ্ট বন অফিসের। কিন্তু মাছের পাসধারী জেলেদের অধিকাংশই কৌশলে কাঁকড়া ধরার উপকরণ দোন, জালতি, আটল, কুচেমাছ সাথে নিয়ে গেছে বলে দেখা যায়। হরিনগর ¯¬ু মুখ থেকে ২১টি গাবুরার ৯নং সোরা এলাকা থেকে ১৮টি, কালিঞ্চি এলাকা থেকে ১৩টি নৌকা মাছ ধরার নামে কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম নিয়ে সুন্দরবনে যাওয়ার সময় প্রতিবেদক জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলে জানান, কাঁকড়া ধরার পাস বন্ধ থাকায় মাছ ধরার পাস নিয়ে বনে যেতে হচ্ছে। এজন্য জন প্রতি ৮শত টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে।
সুন্দরবনের গহিনে অভয়ারন্য এলাকায় কাঁকড়া প্রজনন মৌসুমে ডিমওলা কাঁকড়ার আস্তানায় হানা দেওয়ায় কাকঁড়ার প্রজনন ধ্বংস হচ্ছে। এবিষয় বুড়িগোয়ালিনী, কদমতলা ও কৈখালি স্টেশন কর্মকর্তা বেলাল হোসেন, শ্যামা প্রসাদ রায় ও নজরুল ইনলাম জানান, জেলেরা মাছের পাশ নিয়ে ভিতরে যেয়ে মাছ ধরছে না কাঁকড়া ধরছে আমরা জানিনা। সার্বিক বিষয়ে সাতক্ষীরা সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা এসিএফ মাকছুদ আলম বলেন, জেলেরা মাছ ধরার পাস নিয়ে বনের ভিতরে কাঁকড়া ধরছে সত্য। তিনি আরও জানান বিশাল এলাকাজুড়ে সুষ্ঠুভাবে পাহারা দেওয়া দুরহ তবে প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া আহরণ বন্ধে টহল জোরদার করা হয়েছে।