সুন্দরবনের অভয়ারণ্য পুষ্পকাটি এলাকায় বন কর্মচারী ও বনদস্যুদের লাগামহীন চাঁদাবাজী !


543 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবনের অভয়ারণ্য পুষ্পকাটি এলাকায় বন কর্মচারী ও বনদস্যুদের লাগামহীন চাঁদাবাজী !
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৫ Uncategorized ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস,কে, সিরাজ, শ্যামনগর :
সুন্দরবনের অভয়ারণ্য পুষ্পকাটি এলাকায় জেলে বাওয়ালীদের অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দিয়ে বনকর্মচারী ও বনদস্যুরা মাসিক ও সাপ্তাহিক চুক্তিতে উৎকোচ গ্রহণ অব্যহত রেখেছে। এ সুযোগে কাঠ পাচার কারী ও হরিণ শিকারীরা জেলে সেজে সুন্দরবনের গভীরে প্রবেশ করে মায়াবী হরিণ, কাকড়া ও মাছ শিকার করে দেদারছে লোকালয়ে নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ।

এদিকে,সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের পুষ্পকাটি বন টহল ফাঁড়িতে অস্ত্রধারী বনদস্যু ফজলু বাহিনী আস্তানা গেড়েছে। সুন্দরবনে যতো গুলো অস্ত্রধারী বনদস্যু বাহিনী রয়েছে তার মধ্যে এই বাহিনীর কাছে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র রয়েছে বলে জানাগেছে। এসব অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ফজলু বাহিনী ও তার সদস্য সুন্দরবনের গভীরে অপহরণ, চাঁদাবাজি, হরিণ শিকারও বাঘ শিকারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালাচ্ছে। সুন্দরবনের একাধিক জেলা বাওয়ালী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সুন্দরবনে কর্মরত একাধিক জেলে-বাওয়ালী বলেন, সুন্দরবনের নিষিদ্ধ পল্লী পুষ্পকাটী এলাকায় অবৈধভাবে শত শত মানুষ পুষ্পকাটি টহল ফাঁড়ি দায়িত্বরত ফরেষ্টার শাহাজান আলীর সহযোগিতায় মাছ ও কাঁকড়া ধরা অব্যহত রেখেছে। মাসিক ও সপ্তাহিক চুক্তিতে জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরায় ওই এলাকায় বনদস্যুদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মরত জেলে কাঁলাচাঁদ গাজী, ফকির গাজী জানান, পুষ্পকাটি এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া ধরার জন্য পুষ্পকাটি বন টহল ফাঁড়ি কর্মকর্তাকে সপ্তাহে নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা ও বনদস্যু ফজলু বাহিনীকে দেড় হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। বিনিময়ে তারা নিষিদ্ধ পল্লী পুস্পকাটিতে মাছ ধরার সুযোগ দিচ্ছে।

শুধু ফজলু বাহিনী নয়, অন্যান্য বনদস্যু বাহিনীর সামনে পড়লে তাদেরকেও চাঁদা দিতে হয়। এসব জেলে বাওয়ালীদের অভিযোগ, বনদস্যু ফজলু বাহিনী প্রধান ফজলুসহ তার বাহিনীর অস্ত্রধারী সদস্যরা পুষ্পকাটি টহল ফাঁড়িতেই অবস্থান নিয়ে বহাল তবিয়াতে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।
টহল ফাঁড়ির এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুষ্পকাটি বন টহল ফাঁড়িতে অস্ত্র ও লোকবল খুবই কম। এছাড়া মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে গভীর বনের ভিতরে পুষ্পকাটী টহল ফাঁড়ির অবস্থান হওয়ায় বন কর্মচারীরা নিরুপায়। ফলে বনদস্যুদের সাথে সমঝোতা করেই তাদেরকে সেখানে টিকে থাকতে হচ্ছে।

জেলেরা জানায়, গভীর জঙ্গলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করার তাগিদে যে টাকা উপার্জন হয়, তার অর্ধেক বন কর্মচারীদের ও বন দস্যুদের দিতে হয়। ফলে খরচ পুশিয়ে নিতে জেলেরা সপ্তাহ ও মাসের শেষে বাড়ী ফেরার সময় সুন্দরবনের মূল্যবান গাছ কেটে আনাসহ মায়াবী হরিণ শিকার করে লোকালয়ে আসছে। ওই কাঠ ও হরিণের মাংস বিক্রি করেই তারা সংসার চালাচ্ছে।

এদিকে, এক শ্রেণীর চোরাই শিকারী পুস্পকাটি বন ফাঁড়ির সহযোগিতায় প্রতিনিয়ত  হরিণ শিকার করছে। এমনকি শিকারীরা বাঘ শিকার করতেও কুণ্ঠবোধ করছে না। সুন্দরবনের অভয়রণ্য নিষিদ্ধ পল্লী পুষ্পকাটিতে সরকারী নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে যেভাবে গভীর বনে মাছ ও কাঁকড়া ধরার সুযোগ করে দেয়ার ফলে সুন্দরবন হুমকির মধ্যে পড়েছে।

এ ব্যাপারে পুষ্পকাটি বন টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা শাহাজান আলী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে বলেন, আমাদের সামনে অনেক কিছু ঘটছে ঠিকই। কিন্তু  তাদের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র না থাকায় বনদস্যুদের কিছুই বলতে পারি না। তবে তিনি বনদস্যুদের তৎপরতার কথা স্বীকার করেন।

শ্যামনগরের সচেতন মহল সুন্দরবনকে সুরক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।