সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য থেকে ফ্লাইং ক্যামেরাসহ ড্রোন আটক


373 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য থেকে ফ্লাইং ক্যামেরাসহ ড্রোন আটক
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস এম সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট ব্যুরো:
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য এলাকার বাদামতলা বনের আকাশে উড়ানো ড্রোন আটক করা হয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে ড্রোনের সাহায্যে ছবি তোলার জন্য ফ্রান্সের ‘এআরটি’ টেলিভিশনের তিন সাংবাদিক সুন্দরবনে আসেন। বনবিভাগের অনুমতি না নেয়ায় ওই সাংবাদিকদের ব্যবহৃত ড্রোনটি আটক করার পর গতকাল সোমবার বাগেরহাট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে, বিনা অনুমতিতে সুন্দরবনের অভয়ারন্যে ড্রোন উড়িয়ে বিপাকে পড়েছেন ফ্রান্সের ওই তিন সাংবাদিক। একই অবস্থা হয়েছে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগেরও। বন বিভাগ এখন আটক এই ড্রোনটির বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেবে তা’ নিয়ে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। যোগাযোগ করে চলেছে উর্ধ্বতন বন কর্মকর্তাদের সাথে। এক সপ্তাহেও এই আটক ড্রোন নিয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাগমা টুর এন্ড ট্রাভেল্স কোম্পানী এমএল বাওয়ালী লঞ্চে করে অন্যান্যদের সাথে ফ্রান্সের ‘এআরটি’ টেলিভিশনের তিন সাংবাদিক গাই কিউসি, টিমো এভাম্যান ও নাসিম এলমাউন সুন্দরবন ভ্রমণে আসেন। ৩১ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে ওই তিন সাংবাদিক কটকা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বনের আকাশে ক্যামেরা সমৃদ্ধ একটি ড্রোন উড়িয়ে বন্য প্রাণীসহ জীব বৈচিত্র্যের ছবি ধারণ করতে থাকেন। বিষয়টি প্রথমে জেলে-বনজীবীদের নজরে এলে কটকা অভয়ারণ্যে সোরগোল পড়ে যায়। পরে কটকা অভয়ারণ্যে কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার শাহ নোমান তিন সাংবাদিককে উড়ানো ঐ ড্রোনটি নিচে নামিয়ে আনতে বাধ্য করেন। এই অভায়ারণ্যে ড্রোন উড়ানোর জন্য সুন্দরবন বিভাগ থেকে কোন পূর্ব অনুমতি না নেয়ায় ড্রোনটিকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ঐ তিন সাংবাদিক সুন্দরবন নিয়ে তাদের দেশের টেলিভিশনের জন্য ডকুমেন্টারী করার কথা জানালে ড্রোনটি রেখে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। ফ্লাইং ক্যামেরাসহ আটক ওই ড্রোনটি হচ্ছে ডিজেআই কোম্পানীর। যার মডেল নং- পি-৩৩০জেড, সিরিয়াল নাম্বার পিএলএল-৬৩৬১৫৪১২৬। একটি ব্যাটারীসহ ড্রোনটির সাথে একটি রিমোটও রয়েছে। এই ড্রোনটি বাংলাদেশে আনার জন্য কাস্টম্স ক্লিয়ারেন্স ও বাংলাদেশে আকাশে ওড়াবার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতিও দেখাতে পারেনি ফ্রান্সের ঐ তিন সাংবাদিক। পরে আটক ঐ ড্রোনটি প্রথমে বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের অফিসে ও পরে নিয়ে যাওয়া হয় বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। সেখান থেকে এনে ড্রোনটি বন বিভাগের অফিসে রাখা হয়েছে বলে বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে। জানানো হয়, বন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে আটক এই ড্রোনটির বিষয়ে সুষ্ঠু কোন সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি সুন্দরবন বিভাগ।
অন্যদিকে, পাগমা টুর এন্ড ট্রাভেল্স কোম্পানীর মালিক নজরুল ইসলাম দাবি করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ‘এআরটি’ টেলিভিশনে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সুন্দরবন নিয়ে ডকুমেন্টারী তৈরি করতে  ‘জেড’ প্রোডাকশন কোম্পানী তিন সাংবাদিককে বাংলাদেশে পাঠায়। তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে আমাদের মাধ্যমে সুন্দরবন ভ্রমণে যায়। গত ৩১ জানুয়ারী ড্রোনে ফ্লাইং ক্যামেরার সাহায্যে সুন্দরবনে বন্য প্রাণী ও জীব বৈচিত্র্যের ছবি ধারণকালে বন বিভাগ ঐ ড্রোনটি নিচে নামিয়ে আনতে বাধ্য করে। পরে ডকুমেন্টারীর বিষয়টি জানতে পেরে ড্রোনটি রেখে ঐ তিন সাংবাদিককে বন বিভাগ ছেড়ে দেয়।
সুন্দরবনে ড্রোন উড়াতে বন বিভাগের অনুমতির বিষয়টি ঐ তিন সাংবাদিকের জানা না থাকার কারণে তারা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। তারা এই বিষয়টি না জানার কারণ উল্লেখসহ ভুল স্বীকার করে সুন্দরবন বিভাগের কাছে ড্রোনটি ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন। সোমবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য ঐ তিন সাংবাদিক ঢাকাস্থ ফ্রান্স দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা করে এখন তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) কামাল উদ্দিন আহমেদ কটকা অভয়ারণ্য থেকে ড্রোন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এখন এই ড্রোনটির বিষয়ে কি করা হবে তা’ জানতে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সোমবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সে মতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ##