সুন্দরবনের দুবলারচরে রাস পূর্ণিমা, শিকারীরা তৎপর


283 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবনের দুবলারচরে রাস পূর্ণিমা, শিকারীরা তৎপর
নভেম্বর ২৭, ২০২০ ফটো গ্যালারি সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে আগামী ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী সুন্দরবনের দুবলারচরে ঐতিহ্যবাহী ‘রাস পূর্ণিমা পূণ্যস্নান’ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরের ন্যায় কার্তিক মাসের শেষ বা অগ্রহায়ণের প্রথম দিকে শুক্লপক্ষের ভরা পূর্ণিমায় সুন্দরবনের দুবলারচরে ৩ দিনব্যাপী রাস পূর্ণিমায় পূজা ও পূণ্যস্নান’ অনুষ্ঠিত হবে। এটি সব থেকে বড় সমুদ্র রাস উৎসব।

হাজার হাজার পূণ্যার্থী আগমনে মেলা উৎসবমূখর হয়ে ওঠে। এ মেলাকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন উপকূলবর্তী মানুষের মধ্যে উৎসবমূখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মেলায় যেতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। তবে এ বছর হিন্দু ধর্মালম্বী ছাড়া রাস উৎসবে যাওয়ার অনুমতি না থাকায় উপকূলের শত শত লোকের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। হিন্দু ধর্মালম্বীরা পূর্ণিমার জোয়ারে নোনা জলে স্নানে পাপ মোচন হয়ে মনস্কামনা পূর্ণ হবে এ বিশ্বাসে রাস মেলায় যোগ দিলেও সময়ের ব্যবধানে এখন নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকা যোগে তীর্থযাত্রী ও দর্শণার্থীরা সমবেত হয়। আসে অসংখ্য বিদেশী পর্যটক। তবে মেলাকে সামনে রেখে চোরা শিকারী ও মৌসুমী শিকারী চক্র সুন্দরবনের হরিণ শিকারের সুযোগ নেয়। তাই তাদের আগাম তৎপরতাও শুরু হয়েছে।

সূত্র জানা গেছে, সুন্দরবন সংলগ্ন ৮টি উপজেলার চোরা শিকারী চক্র এখনও সক্রিয়। সুন্দরবনে প্রবেশে কড়াকড়ির মধ্যেও রাস পূর্ণিমার মেলাকে ঘিরে শিকারীদের হরিণ শিকারের প্রস্তুতি চলছে। হিন্দু ধর্মালম্বী ছাড়া রাস উৎসবে যাওয়ার অনুমতি না থাকায় অনেকেই জেলে সেজে রাস পূর্ণিমার প্রায় ১৫ দিন আগে দুবলার চরে অবস্থান করছে করছে বলে জানা গেছে। রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা গ্রহণ করা হলেও শ্যামনগর, কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, মংলা, রামপালসহ উপকুলীয় এলাকার শিকারীরা উৎসবে শুরু হওয়ার ১০/১৫ দিন আগে জেলে ও বনজীবী সেজে বিভিন্ন কৌশলে বনের মধ্যে প্রবেশ করে রেখে আসা শিকারী উপকরণ দিয়ে হরিণ শিকার করে। আবার রাস উৎসব শুরু হলে বিশেষ কায়দায় উ্পকরণ নিয়ে যাওয়া শিকারীরা তীর্থযাত্রীদের সাথে একত্রিত হয়ে মিশে যায়। মেলার আনন্দে মেতে উঠা দর্শণার্থী ও নিরাপত্তা কর্মীদের চোখ ফাকি দেয় এ ফাঁদ দিয়ে হরিণ শিকারে মেতে উঠে। রাসমেলার সময় হিরণপয়েন্ট, দুবলারচর আলোর কোলসহ বিভিন্ন চর ও সুন্দরবন সাগর মোহনায় পূণ্যার্থী, দর্শণার্থী ও পর্যাটকসহ হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এসময় জনসমুদ্রে শিকারী চক্র মিশে গিয়ে চোখ ফাকি দিয়ে হরিণ নিধনে মেতে উঠে। ব্যাপক নজরদারী থাকা সত্বেও শুধুমাত্র হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে এ বিশাল মেলায় দর্শণার্থীরুপে আগত শিকারীদের আটকানো অনেক সময় সম্ভব হয় না।

তীর্থযাত্রীদের জন্য সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগ পাঁচটি পথ নির্ধারণ করেছে। এ সকল পথে তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জানমালের নিরাপত্তায় বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ড বাহিনীর টহল দল নিয়োজিত থাকবে। অনুমোদিত পাঁচটি রুট হলো: বুড়িগোয়ালিনী, কোবাদক থেকে বাটুলানদী-বলনদী-পাটকোষ্টা খাল হয়ে হংসরাজ নদী হয়ে দুবলারচর। কয়রা, কাশিয়াবাদ, খাসিটানা, বজবজা হয়ে আড়ুয়া শিবসা-শিবসা নদী-মরজাত হয়ে দুবলার চর। নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর। ঢাংমারী অথবা চাঁদপাই স্টেশন-তিনকোনা দ্বীপ হয়ে দুবলার চর এবং বগী-বলেশ্বর-সুপতি স্টেশন-কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর।

পূর্ণিমা পূণ্যস্নানে কেবল তিন দিনের জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুমতি দেওয়া হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং মাস্কবিহীন কোন তীর্থযাত্রীকে পূণ্যস্নানস্থলে যেতে দেওয়া হবে না। অনুষ্ঠান স্থলে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী হ্যান্ডস্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াস রাখা হবে।

তীর্থযাত্রীদের আগামী ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বর এ তিন দিনের জন্য অনুমতি প্রদান করা হবে এবং প্রবেশের সময় এন্ট্রি পথে নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হবে। যাত্রীরা নির্ধারিত রুটের পছন্দমতো একটি মাত্র পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন এবং দিনের বেলায় চলাচল করতে পারবেন। বনবিভাগের চেকিং পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও নৌকা, লঞ্চ বা ট্রলার থামানো যাবে না। প্রতিটি ট্রলারের গায়ে রং দিয়ে বিএলসি অথবা সিরিয়াল নম্বর লিখতে হবে। রাস পূর্ণিমায় আগত পূণ্যার্থীদের সুন্দরবনে প্রবেশের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট হতে প্রাপ্ত সনদপত্র সাথে রাখতে হবে। পরিবেশ দূষণ করে এমন বস্তু, শব্দযন্ত্র বাজানো, পটকা ও বাজি ফোটানো, বিস্ফোরক দ্রব্য, দেশীয় যে কোন অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র, হরিন মারার ফাঁদ, কুড়াল, দড়ি বহন করা থেকে যাত্রীদের বিরত থাকতে হবে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অবস্থানকালীন সবসময় টোকেন ও টিকেট নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। প্রতিটি লঞ্চ, নৌকা ও ট্রলারকে মেলা প্রাঙ্গণে কন্ট্রোলরুমে আবশ্যিকভাবে রিপোর্ট করতে হবে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ সকল তথ্য জানিয়েছেন।