সুন্দরবনের বৃক্ষের ফল জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার : কমে যাচ্ছে নতুন গাছের সম্ভাবনা


433 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবনের বৃক্ষের ফল জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার : কমে যাচ্ছে নতুন গাছের সম্ভাবনা
জুন ৯, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ,শ্যামনগর :
সুন্দরবনের বিশাল বনভুমির শতাধিকের উর্দ্ধের ফলবৃক্ষের হরেক রকম ফল নদীর পানিতে ভেসে বিভিন্ন স্থানে ছিটিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব ফল গুলো নদীর কিনারায় আসার পর উপকুলীয় নদীর চর গুলো নানা রকম সবুজ বেষ্টুনিতে পরিনত হয়ে থাকে। বার মাসেই কোন না কোন ফল কিনারায় আসতে থাকে। তবে ফলগুলো যদি সংরক্ষন করা যায়, তাহলে দ্রুত যে কোন নদীর চর হরেক রকমের গাছে ভরে যাবে। এর ফলে পাউবোর বাধের ভাঙ্গন সেই এলাকায় রোধ করা যাবে খুব সহজে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতায় শ্যামনগরের সুন্দরবন উপকুলীয় এলাকার মানুষ বর্তমানে বনের ভিতর থেকে ভেসে আসা ফলগুলো জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করছে। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রজাতির শতশত ফল এ ভাবে রোদে শুকিয়ে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করার কারনে সুন্দরবনের গনবনরাশি দিনদিন কমে যাচ্ছে,আয়তন আর বাড়ছেনা। চারা গাজাচ্ছেনা নতুন নতুন গাছের।

ভেসে আসা ফলগুলো যদি সংরক্ষন করা যেতো তাহলে সুন্দরবনের মনোরম দৃশ্য ভিন্ন চিত্রে ফুটে উঠতো। এছাড়া প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের আয়তন বেড়ে যেতো।

সুন্দরবন সাংবাদিক ফোরামের শ্যামনগর শাখার সভাপতি- গাজী সালাউদ্দীন বাপ্পী বলেন, সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা মুলত জ্বালানি হিসাবে গভীর বন থেকে ভেসে আসা ফলগুলো কৌশলগত ভাবে সংগ্রহ করে ও শুকিয়ে প্রতিদিন জ্বালানি হিসাবে পুড়াচ্ছেন। এভাবে শতশত প্রজাতির গাছের সম্ভবনাময় জীবন নষ্ট করা হচ্ছে। একারনে সুন্দরবন হারাচ্ছে তার আসল চিত্র।

এদিকে সুন্দরবন নিয়ে ও সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন মান পরিবর্তন ঘটানোর লক্ষে কয়েকটি এনজিও কাজ করলে ও উপকুলীয় এলাকার কোন পরিবর্তন আনতে তারা পারিনি । বরং এটা যাতে আরো ভাল ফটোসেশন করা যায়, সে লক্ষে তারা কাজ করছেন। সুন্দরবন কে পুজি করে কোটি কোটি টাকা বিদেশীদের কাছ থেকে আনলেও সুন্দরবন নির্ভরশীল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ঘটাতে না পারলেও এনজিও নাম ধারী ব্যবসায়ীদের ব্যবসা চলছে জমজমাট।

এভাবে সুন্দরবন কে ঘিরে প্রতারনার সাথে জড়িত যারা তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আন্দোলন করা উচিত বলে মনে করেন সচেতন মহল।