সুন্দরবনের মাস্টার বাহিনীর আত্মসর্মণ


1451 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবনের মাস্টার বাহিনীর আত্মসর্মণ
মে ৩১, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ, শ্যামনগর :
সুন্দরবনের রাজ্যে মাষ্টার বাহিনী  রাজত্বের সমাপ্তি ঘটবে আজ। স্বেচাছায় নিজেদের কে আইনের হাতে তুলে দিয়ে আইনকে শ্রদ্ধা জানাবে বনদস্যু  বাহিনী মাষ্টার। নামের সাথে কাজের পরিচয় দিতে যাচ্ছে তারা। এদিকে মাস্টার এ উদ্যোগ কে স্বাগত জানিয়ে আরো কয়েকটি বাহিনী এমন সিদ্ধান্ত ও নিতে পারে বলে সুন্দরবনের কর্মরত একাধিক জেলে বাওয়ালী জানিয়েছে। পশ্চিম সুন্দরবনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডজন খানিক বনদুস্যু ডাকাত বাহিনী। এখানে ও অভিযানের আবেদন জানিয়েছে এলাকার শতশত জেলে বাওয়ালী মৌয়ালরা।  এদিকে  বাগেরহাট, সুন্দরবনের ডাকাতদল ‘মাস্টার বাহিনি’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তাদের অস্ত্র তুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করবে আজ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের উপস্থিতিতে ৩১ মে মঙ্গলবার  দুপুরে বাগেরহাটে মংলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তাদের অস্ত্র তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করবে ।

13327625_10201971572567480_4666231938882217309_n
র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আলম বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় মংলায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অস্ত্র জমা দেয়া ৭ জনকে নিয়ে সুন্দরবনে আমাদের অভিযান চলছে। চেষ্টা করছি এই ডাকাত বাহিনির বাকি সদস্যদের আত্মসমর্পণ করাতে।’সুন্দরবন কে ডাকাত মুক্ত করতে চাই আমরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে ডাকাতরা আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়। সেই লক্ষে রোববার (২৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে হাড়বাড়িয়ার চরাপুটিয়া এলাকায় র‌্যাবের কাছে এ মাস্টার বাহিনির প্রধানসহ ৭ ডাকাত দেশি-বিদেশি ৫১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও পাঁচ হাজার গুলি জমা দিয়েছেন।
কিন্তু ওইদিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ফলে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।’  শনিবার খুলনা র‌্যাব-৬ জানায়, রোববার মংলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন মাস্টার বাহিনির ডাকাতদল।
দেশের পশ্চিম উপকূল এবং সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালদের ত্রাস ডাকাতদল ‘মাস্টার বাহিনি’। নৌকা ও জালের হিসাব করে নির্ধারিত হারে ডাকাতদের চাঁদা দিতে হতো জেলে ও বনজীবীদের।
এতোদিন অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল এ বাহিনির সদস্যরা। ডাকাতদের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল, মংলা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।