সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে চিরুনি অভিযানে নামছে তিন জেলার পুলিশ


248 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে চিরুনি অভিযানে নামছে তিন জেলার পুলিশ
জুলাই ৯, ২০২০ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর সাতক্ষীরা সদর সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

@ সংবাদ সম্মেলনে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান

@ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেই পুলিশ সেখানে পৌছে যাবে

এম কামরুজ্জামান :

সুন্দরবনে দনবদস্যু দমনে এবার পুলিশ চিরুনি অভিযানে নামার প্রস্তুতি গ্রহন করেছে। সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট এই তিন জেলার পুলিশ যৌথভাবে সুন্দরবনে অভিযানে নামবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সুন্দরববনে এই মুহুর্তে ৫টি জলদস্যু বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে। এসব জলদস্যুদের কারনে সুন্দরবনের জেলা-বাওয়ালী-মৌয়ালরা অতিষ্ঠ।

জলদস্যুদের সাথে অর্থনৈতিক লেনদেন পরিচালনায় স্থলভাগেও প্রভাবশালীদের অনেকেই জড়িত রয়েছে। জলদস্যুদের সাথে সাতক্ষীরার একাধিক বিকাশ এজেন্ট ও ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এদেরকেও সনাক্ত করে আইননের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দুইদিন আগে ৪ জন বনদস্যুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ১ জন আসামী, ১জন ভিকটিম ও ১ জন স্বাক্ষির ১৬৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স ড্রিলসেডে সুন্দরবনের দস্যুতা, অপহরন, মুক্তিপণ, চাঁদা আদায় ও অর্থনৈতিক অপরাধ সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংএ সাংবাদিকদের সাথে এ কথা বলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

এদিকে পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মামুনুর রহমান ওরফে খোকা বাবু, দেবহাটা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের মহিউদ্দীন গাজীর ছেলে আলাউদ্দীন গাজী, সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার আব্দুল হাকিম গাজীর ছেলে তৈয়েবুর রহমান কামরান ও একই এলাকার মৃত শওকত আলীর ছেলে রহমান এন্টার প্রাইজের মালিক সাইদুর রহমান সাইদ।

তিনি তার লিখিত বক্তব্যে এ সময় বলেন, সুন্দবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের কালিন্দী নদীতে মাছ ধরার সময় গত ২০ জুন ২০২০তারিখে শ্যামনগর উপজেলার টেংরাখালী গ্রামের এশার আলী গাজী ও প¦াশের্^খালী গ্রামের আজিবর রহমানসহ ৮/৯ জন জেলেকে মুক্তিপণের দাবীতে অপহরন করে কতিপয় জলদস্যু। এরপর তাদেরকে সীমান্তবর্তী দেশ ভারতে নিয়ে যায় তারা। অপহরনকারী জলদস্যুরা পরে বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে তাদের দাবীকৃত মুক্তিপন নিয়ে উক্ত জেলেদেরকে ছেড়ে দেয়। পুলিশের কাছে এ সংক্রান্ত অভিযোগ আসার পর সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মীর্জা সালাহ উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম উক্ত জলদস্যুদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে। এ সময় জলদস্যুতায় সংশ্লিষ্ঠ থাকার অভিযোগে উক্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়া এ ঘটনায় পলাতক রয়েছে বাংলাদেশী নাগরিক প্রদিপ, পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা এলাকার মিঠুনদাস এবং ভারতের বসিরহাট ত্রিমোহিনী এলাকার আক্তার আলম গাজী, পান্না, বাপ্পী ও ঘোজাডাঙ্গা এলাকার হাসান এন্টার প্রাইজের মালিক নুনু।

তিনি জানান, উক্ত ব্যক্তিরা জলদস্যুদের সাথে সংঘবদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন থেকে জেলেদের অপহরন করে জোরপূর্বক আটকে রেখে মুক্তিপন আদায়, মারপিটসহ নানাভাবে তাদেরকে নির্যাতন চালায়। আর অবৈধভাবে অর্জিত তাদের এই অর্থ ভারতে পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৪ জনসহ উক্ত ১০ জনের নামে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১৮। তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীর মধ্যে সাইদুর রহমান সাইদ, অপহৃত এশার আলী ও এ মামলার স্বাক্ষী সৈয়দ হারিজ হোসেন তুহিন ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল আসামীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পুলিশ সুন্দরবন রেকি করেছে। অভিযান পরিচালনায় যেসব সামগ্রী প্রয়োজন তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদ করা হয়েছে। শিঘ্রই সেগুলো পাওয়া যাবে। জেলে-বাওয়ালিরা চাঁদাবাজিসহ যেকোন সমস্যায় পড়লে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেই পুলিশ সেখানে পৌছে যাবে। আর এ জন্য যা যা প্রয়োজন তা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাউদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার জিয়া, ডিএসবি’র সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

#