সুন্দরবনে দিন দিন বনদস্যু ও বাঘ শিকারির সংখ্যা বাড়ছে : খুলনায় প্রেস ব্রিফিং-এ ডিআইজি


508 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবনে দিন দিন বনদস্যু ও বাঘ শিকারির সংখ্যা বাড়ছে : খুলনায় প্রেস ব্রিফিং-এ ডিআইজি
আগস্ট ১১, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ওয়াহেদ-উজ-জামান, খুলনা ব্যুরো :
সুন্দরবনে প্রতিনিয়তই বনদস্যু ও বাঘ শিকারির সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন সময় পরিচালিত অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে অনেক দস্যু বাহিনী প্রধান ও তাদের সহযোগিরা নিহত হয়েছে। কিন্তু তাদের আরও অসংখ্য সদস্য রয়ে গেছে। অনেককেই এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ফলে তারা এখন পেশা পরিবর্তন করে বাঘ শিকারে লিপ্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে খুলনা রেঞ্জ’র ডিআইজি এস.এম মনির-উজ-জামান এসব কথা বলেন। গত ৯ আগষ্ট সুন্দরবনে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ৬ বাঘ শিকারি ও বনদস্যু নিহত এবং বাঘের চামড়া, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় এ প্রেস ব্রিফিং’র আয়োজন করা হয়।
প্রেস ব্রিফিং এ অতিরিক্ত ডিআইজি মো. একরামুল হক, জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান ও সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. জহির উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিং এ সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. জহির উদ্দিন আহমেদ বন বিভাগের দুর্বলতার কথা স্বীকার করে বলেন, পর্যাপ্ত লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় বন রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বনরক্ষিদের সক্ষমতা নেই। এমনকি বনের মধ্যে অনেক বিট অফিসের রক্ষিদের অস্ত্রের পরিবর্তে শুধুমাত্র লাঠি দিয়ে বন পাহার দিতে হয়। ফলে বনের বৈধ সম্পদ আহরণকারীদের অনেকেই এখন বাঘ শিকারে মেতে উঠেছে। এছাড়া বনদস্যুরাও পেশা পরিবর্তন করে বাঘ ও হরিণ শিকার করছে। ফলে বাঘের সংখ্যা ৪৪০ থেকে কমে এখন ১০৬ এ নেমে এসেছে।
জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, বনরক্ষিদের কাছে যে অস্ত্র আছে- তা দিয়ে বন দূরে থাক, তারা নিজেদেরই রক্ষা করতে পারেনা। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ি খুলনায় বন আদালত থাকার কথা থাকলেও তা নেই। অন্য আদালতে বন মামলা পরিচালনা করতে হয়। ফলে অন্য মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে বন মামলার গুরুত্ব কমে যায়। এতে করে অপরাধীরা বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। তিনি খুলনায় বন আদালত স্থাপন করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। একই সাথে তিনি সুন্দরবন রক্ষায় বনে সব ধরণের সম্পদ আহরণের পারমিট প্রদান বন্ধের দাবি জানান।
ব্রিফিং এ পুলিশ ও বন কর্মকর্তারা সুন্দরবনের বাঘ নিধনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাঘ শিকারি ও বনদস্যু দমনে টাস্কফোর্সের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান। বাঘ রক্ষা করতে না পারলে সুন্দরবনকেই রক্ষা করা সম্ভব হবে না- উল্লেখ করে তারা সুন্দরবনকে এখনই রক্ষা করতে হবে বলে দৃঢ়তা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের ত্রাস ইলিয়াস ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা তিনটি বাঘের চামড়া পাচার করছে- মর্মে খবর পেয়ে গত ৯ আগষ্ট পুলিশ খুলনার কয়রা উপজেলাররামুখা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শফিকুলকে তিনটি চামড়াসহ গ্রেফতার করে। পরে তাকে নিয়ে পুলিশ সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বনদস্যুরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে ক্রসফায়ারে পড়ে আনসার সানা, সিদ্দিক সানা, বাপ্পি হোসেন, রফিকুল ইসলাম, মজিদ গাজী ও মামুন গাজী নিহত হয়।