সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, শ্যামনগরে ২৩ হাজার জেলে পরিবারে দুর্দিন


70 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, শ্যামনগরে ২৩ হাজার জেলে পরিবারে দুর্দিন
জুন ১০, ২০২২ ফটো গ্যালারি সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

আকরামুল ইসলাম ::

জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রজনন মৌসুমের কারণে সুন্দরবন প্রবেশে তিন মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল সাতক্ষীরা উপকূলের ২৩ হাজার পরিবার। গত ১ জুন থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও এখন পর্যন্ত বনজীবী জেলে পরিবারের কাছে পৌঁছায়নি সরকারি কোন সহায়তা।

ফলে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে দুর্দিন। এসমস্ত পরিবারের সদস্যরা সাধারণত সুন্দরবন, সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদী ও তৎসংলগ্ন সাগরে মাছ, কাঁকড়া ও বনজ সম্পদ আহরণ এবং পর্যটক গাইড হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

মৎস্য অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ততথ্যে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলায় নিবন্ধিত ২৩ হাজার জেলে-বাওয়ালী রয়েছে। এদের মধ্যে সমুদ্রে মৎস্য আহরণকারী ৭৯৫ টি পরিবার চলতি মাসে সরকারি সহায়তা হিসেবে ৫৬ কেজি করে চাউল পাবেন। আগামী জুলাই মাসে আরও ৮৩২৪টি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাউল দেওয়া হবে।

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকার কাঁকড়া আহরণকারী জেলে হানিফ গাজী বলেন, আমি সারা জীবন সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ধরে সংসার চালিয়ে আসছি। এখন তিন মাস পাশ বন্ধ থাকায় আমার পরিবারের উপরে আর্থিক প্রভাব পড়েছে। আশা করেছিলাম সরকারি সহায়তা পেলে কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। তবে এখনও পর্যন্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়া এবং দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারনে সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।

দাতিনাখালী গ্রামের সিদ্দিক গাজী বলেন, আমাদের বাপ-দাদা থেকে শুরু করে আমরা সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। সুন্দরবনের নদীগুলো থেকে মাছ-কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। তিন মাস কোন রোজগার হবে না। আমাদের গচ্ছিত কোন টাকাও নেই। পাশ পারমিট বন্ধ করে দেওয়ায় এখন খুব দুর্দিন। সরকারি সুযোগ-সুবিধাও পাচ্ছি না।

শ্যামনগর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা তুষার কুমার মজুমদার বলেন, শ্যামনগর উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে-বাওয়ালীদের নামের তালিকা রয়েছে ২৩ হাজার। এর ভিতরে প্রথম পর্যায়ে ৭৯৫ জন জেলে ৫৬ কেজি করে চাল পাবে। তাছাড়া ৮৩২৪ জন জেলের নামের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার হবে।