সুন্দরবনে বাড়ছে আরো ৪টি পর্যটন স্পট, একটিও নেই সাতক্ষীরা রেঞ্জে


401 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবনে বাড়ছে আরো ৪টি পর্যটন স্পট, একটিও নেই সাতক্ষীরা রেঞ্জে
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ ফটো গ্যালারি সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

সুন্দরবনে বাড়ছে আরো ৪টি পর্যটন স্পট। নুতন এই চারটি পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে সুন্দরবনের শেখেরটেক, আলীবান্দা, কালাবগি ও কৈলাশগঞ্জ। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২৫ কোটি টাকা। খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় এসব স্পট নির্মাণ করা হলেও সাতক্ষীরা রেঞ্জের এলাকায় তেমন কোন কার্যক্রম নেই। যদিও সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের ৪০ ভাগ এলাকা সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত। এখানে অসংখ্য স্পট থাকলেও সেগুলো পর্যটন উপযোগী করে তুলতে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই।

সুন্দরবনের প্রতি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে পুরাতন পর্যটন স্পটগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং নতুন আরো চারটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন স্পট নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থ বছর থেকে নতুন এই চারটি স্পটের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। চার বছর মেয়াদী এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। সুন্দরবন বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নতুন চারটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন (ইকো ট্যুরিজম) স্পট নির্মাণ হলে বিশ্ব ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দের্য্যর অপার লীলাভূমি সুন্দরবনের প্রতি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ আরও বাড়বে।

সুন্দরবন বন বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতি বছর লাখ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবনে ভ্রমণ করেন। দেশি-বিদেশি এই পর্যটকদের জন্য সুন্দরবনে আকর্ষণীয় সাতটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন স্পট রয়েছে। পর্যটন স্পটগুলো হচ্ছে-করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলার চর, নীল কমল (হিরণ পয়েন্ট) ও কলাগাছিয়া।

এরমধ্যে কটকা ও কলাগাছিয়ায় ছোট আকারের রেস্ট হাউজ রয়েছে। তবে সময় কম লাগার কারণে দেশি পর্যটকরা বেশি যায় করমজল ও হারবাড়িয়া পর্যটন স্পটে। গত অর্থ বছরে (২০১৮-১৯) সুন্দরবনের এই সাতটি পর্যটন স্পটে প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। এরমধ্যে প্রায় দুই হাজার ৫০০ জন বিদেশি পর্যটক ছিলেন। ওই অর্থ বছরে সরকার সুন্দরবনের পর্যটন খাত থেকে এক কোটি ৫২ লাখ টাকা আয় করেছেন।

এদিকে, প্রতি বছরই সুন্দরবনের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুন্দরবনে পর্যটক বৃদ্ধির কারণে সুন্দরবন বন বিভাগের পক্ষ থেকে পুরাতন পর্যটন স্পটগুলোর উন্নয়ন ও আকর্ষণীয় আরো চারটি নতুন পরিবেশবান্ধব পর্যটন স্পট নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নুতন এই চারটি পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে, সুন্দরবনের শেখেরটেক, আলীবান্দা, কালাবগি ও কৈলাশগঞ্জ। এই পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের জন্য ওয়াচ টাওয়ার, ঝুলন্ত ব্রিজ, হাঁটার জন্য ফুট ট্রেইল, বসার জন্য গোলঘর ও নৌযান থেকে ওঠনামার জন্য নদী পাড়ে পন্টুন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া পুরাতন পর্যটন স্পটগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে। নতুন এই চারটি পর্যটন স্পট নির্মাণ ও পুরাতন পর্যটন স্পটগুলোর উন্নয়নে ব্যয় হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
‘সুন্দরবনের পরিবেশবান্ধব পর্যটন সুবিধাদী উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প’ নামে চার বছর মেয়াদী এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী জুলাই মাসে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে। প্রকল্পটি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে কটকায় একটি ইন্টারপ্রেটেশন সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও বনবিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান।
বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নতুন চারটি পর্যটন স্পট নির্মিত হলে সহজ যাতায়াতের কারণে পর্যটকেরা সকালে সুন্দরবনে গিয়ে বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও জীব বৈচিত্র্য দেখার পর সন্ধ্যার মধ্যে আবার ফিরে আসতে পারবেন। ফলে সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া সুন্দরবন কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের ভারে বনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সুচারুভাবে ব্যবস্থা করার জন্য আরেকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দিয়ে জরিপ করা হচ্ছে। এই জরীপে একদিনে সুন্দরবন সর্বাধিক কত সংখ্যক পর্যটক ধারণ করতে পারে তা নিরূপণ করা হচ্ছে। এ জরিপ সম্পন্ন হলে প্রতিটি পর্যটন স্পটের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী সেই সংখ্যক পর্যটককে পর্যটন স্পটে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
জরিপ প্রসঙ্গে বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, সুন্দরবনে ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী বাঘ, হরিণ, শুকর, বানরসহ বিভিন্ন পশু এবং পাখ-পাখালির সংখ্যাও উক্ত জরিপে নিরূপণ করা হচ্ছে। জরিপে বনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ২০০ হওয়া উচিত বলে জানান তিনি।
খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মঈনুদ্দিন খান বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রতি পর্যটকদের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে অপার লীলাভূমি সুন্দরবনে পরিবেশবান্ধব নতুন চার পর্যটন স্পটের নির্মাণ কাজ আগামী জুলাইয়ে শুরু হবে। এগুলো নির্মাণ করতে ব্যয় হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।