সুন্দরবনে ৩ বছরে বাঘ বেড়েছে ৮টি


499 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবনে ৩ বছরে বাঘ বেড়েছে ৮টি
মে ২২, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

তিন বছর আগের তুলনায় সুন্দরবনে (বাংলাদেশ অংশে) বাঘের (রয়েল বেঙ্গল টাইগার) সংখ্যা ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুন্দরবনে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা ১১৪টি। ২০০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০৬। ২০১৮ সালে করা বন বিভাগের জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার ‘সুন্দরবনের বাঘ জরিপের ফলাফল ঘোষণা ও সেকেন্ড ফেইজ : স্ট্যাটাস অব টাইগারস ইন বাংলাদেশ সুন্দরবন-২০১৮’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বন বিভাগ ২০১৫ সালে সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাঘ গণনা করেছিল। সে সময় তাদের জরিপে সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব ছিল প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে ২ দশমিক ১৭, আর মোট বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে বাঘের ঘনত্ব বেড়েছে ২ দশমিক ৫৫, আর বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৪টি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বন ভবনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপ-মন্ত্রী হাবিবুন নাহার, এ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব ড. মো. বিল্লাল হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক জাহিদুল কবির এবং জাহাঙ্গির নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ।

ইউএসএইডের অর্থায়নে বেঙ্গল টাইগার কনজারভেশন অ্যাক্টিভিটি (বাঘ) প্রকল্পের আওতায় এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে বন বিভাগকে সহযোগিতা করেছে ওয়াইল্ড টিম, যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথ সোনিয়ান কনজারভেশন বায়োলজি ইনস্টিটিউট ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাসস্থল সুন্দরবন। সুন্দরবনের খুলনা, সাতক্ষীরা ও শরণখোলা রেঞ্জে ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ২৪৯ দিন জরিপ চালিয়ে বন বিভাগ নিশ্চিত হয়েছে এখানে বাঘের সংখ্যা ৮টি বেড়েছে। এ জরিপ দেখে স্পষ্টই বোঝা যায় আগের মতো বাঘ হত্যা করা হচ্ছে না। মানুষ সচেতন হচ্ছে।

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্য যথাপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাঘের সংখ্যা আরো বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন উপ-মন্ত্রী হাবিবুন নাহার।

সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী বলেন, মূলত বাঘ মনিটরিংয়ের উদ্দ্যেশে ‘ফাঁদ ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। ওই এলাকাগুলো দিয়ে প্রবাহিত খাল ও নদীগুলোকেও জরিপের আওতায় রাখা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা বাঘের সংখ্যা জানতে সুন্দরবনকে খুলনা, শরনখোলা ও সাতক্ষীরা এই তিন অংশে ভাগ করে নিয়ে জরিপ চালানো হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরা অংশে জরিপ চলে ২০১৭ সালে। এরপরের বছর খুলনা ও শরনখোলা অংশে জরিপ চালানো করা হয়। সুন্দরবনে যে অঞ্চলগুলোতে বাঘের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি এমন ১ হাজার ৬৫৯ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ‘ক্যামেরা ফাঁদ’ পদ্ধতিতে জরিপ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরায় ১ হাজার ২০৮ বর্গকিলোমিটার, খুলনায় ১৬৫ বর্গকিলোমিটার ও শরণখোলায় ২৮৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে জরিপে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছিল। বাঘশুমারির এই পদ্ধতিতে ক্যামেরার সামনে দিয়ে বাঘ চলাচল করলেই স্বয়ংক্রিয় তার ছবি উঠে যায়। পরে এসব ছবি বিশ্লেষণ করে বাঘের সংখ্যা নিরূপণ করা হয়। সর্বশেষ এই জরিপে সুন্দরবনের ২৩৯টি জায়গায় গাছের সঙ্গে ৪৯১টি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল।

জরিপে বন বিভাগ এবার ৬৩টি পূর্ণবয়স্ক, চারটি শাবক, পাঁচটি অপ্রাপ্তবয়স্ক বাঘের ২ হাজার ৪৬৬টি ছবি পাওয়া গেছে। এ ছবিগুলো যাচাই করেই বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসইসিআর মডেলে তথ্য বিশ্লেষণ করে সুন্দরবনের প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাঘের আপেক্ষিক ঘনত্ব পাওয়া গেছে ২ দশমিক ৫৫ + ০ দশমিক ৩২। সুন্দরবনের বাঘের বিচরণ ক্ষেত্র চার হাজার ৪৬৪ কিলোমিটার এলাকাকে আপেক্ষিক ঘনত্ব দিয়ে গুণ করে বাঘের সংখ্যা হিসাব করা হয়েছে ১১৪টি।

জরিপ অনুযায়ী, বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জে বাঘের ঘনত্ব পাওয়া গেছে সবচেয়ে বেশি, প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩ দশমিক ৩৩টি। খুলনা রেঞ্জে সবচেয়ে কম- প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১ দশমিক ২১টি বাঘ রয়েছে।