সুন্দরবন : আগের মতো পাখি নেই


133 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবন : আগের মতো পাখি নেই
মার্চ ১৮, ২০২০ ফটো গ্যালারি সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

মামুন রেজা, খুলনা ::

‘কয়েক বছর আগে যখন জাহাজে সুন্দরবনে গিয়েছিলাম, তখন করমজল থেকে শুরু করে হাড়বাড়িয়া, কটকা ও কচিখালি যাওয়ার পথে নদীর দুই পাশে গাছে গাছে অসংখ্য পাখি দেখেছিলাম। খালের মধ্যে ট্রলারে করে যাওয়ার সময়ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি চোখে পড়েছিল। কিন্তু এবার গত ২৪ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়ে আর আগের মতো পাখি দেখিনি।’
এমভি গাজী কালু নামের একটি জাহাজে করে সম্প্রতি সুন্দরবনে ঘুরে আসা নগরীর বানরগাতী এলাকার পর্যটক এস এম কামাল হোসেন এভাবেই সুন্দরবনে পাখি কম দেখার বিষয়টি জানান। ওই জাহাজে তখন থাকা বনরক্ষী আবদুর রউফ জানালেন, তিনি ২৫ বছর ধরে সুন্দরবনে চাকরি করছেন। যতই দিন যাচ্ছে ততই পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু গাছে গাছে আগের তুলনায় এখন পাখি কম দেখা যায়।
অনেক পর্যটকই বলছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে আগের মতো আর পাখির দেখা মিলছে না। তাদের দাবি, এই বনে পাখির সংখ্যা কমে গেছে। তবে বন বিভাগ বলছে, বনে পর্যটকের সংখ্যা এবং বনের মধ্যের নদী দিয়ে পর্যটক ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বেড়েছে। সে কারণে বনের যেসব এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা বেশি ওই এলাকাগুলোর নদীর তীর থেকে পাখি বনের গহিনে সরে গেছে।
পর্যটকের সঙ্গে নিয়মিত সুন্দরবনে যান নগরীর টুটপাড়া এলাকার ট্যুর গাইড মো. জাহিদ। তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনে এখন আর আগের মতো পাখি দেখা যায় না।’
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে বক, ঈগল, মদনটাক, শঙ্খচিল, মাছরাঙাসহ ৩২০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। তবে মোট কত পাখি রয়েছে, তাদের কাছে সেই পরিসংখ্যান নেই। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কারণে সুন্দরবনের ২৫ প্রজাতির পাখি হুমকির মুখে রয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী জানান, তিনি নিজে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট এলাকায় সম্প্রতি ভ্রমণে গিয়ে আগের মতো পাখি দেখতে পাননি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাখিশুমারি হলেও সুন্দরবনে কখনোই পাখিশুমারি হয়নি। শুমারি করার পাশাপাশি পাখির হুমকিগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
এ ব্যাপারে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মদিনুল আহসান বলেন, ‘সুন্দরবনে আগের তুলনায় পর্যটক অনেক বেড়েছে। তাদের অনেকেই নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বনের মধ্যে গিয়ে হৈচৈ করে। ফলে বিরক্ত হয়ে পাখিরা গহিন বনে চলে যায়। এ ছাড়া বনের মধ্যের নদীগুলোতে পর্যটক ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বেড়ে গেছে। সে কারণে নদীর তীরগুলোতে আগের মতো পাখি দেখা যাচ্ছে না।’