সুন্দরবন ধ্বংসের দায়ে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে


465 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুন্দরবন ধ্বংসের দায়ে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে
অক্টোবর ৭, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :
সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধীতা করে সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কি উ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, সুন্দরবন ধ্বংসের দায়ে ১শ’ বছর পরে হলেও সংশ্লিষ্টরা বিচারের সম্মুখীন হতে পারেন। বিশাল জনমতকে উপেক্ষা করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ সরকারের একগুয়েমি মনোভাব দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন বিকল্পধারার এ প্রেসিডেন্ট।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল ফার্স-এ শত নাগরিক কমিটি আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করে সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন ও সঞ্চালনা করেন শত নাগরিকের সদস্য সচিব আব্দুল হাই সিকদার।

সরকারের উপদেষ্টাদের কানকথা না শুনে দেশের স্বার্থে কাজ করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ক্ষতি হবে- এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী খুব ভালো করেই জানেন। কিন্তু ক্ষমতায় থাকলে নেতা-নেত্রীর আশপাশে যারা থাকেন, তাদের কাছ থেকে সুপরামর্শ পাওয়া বড় কঠিন হয়ে যায়। তাদের খুব বেশি কানকথা শুনতে হয়। ফলে সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, শতবর্ষ পরেও যেন এই প্রকল্পের জন্য তিনি দোষী সাব্যস্ত না হন সেজন্য প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক হতে হবে। বহু বছর পর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে। আজ যারা সুন্দরবন ধ্বংস করছে, পরবর্তীতে তাদেরও বিচারের সম্মুখীন হওয়া লাগতে পারে। তখন না আবার জনগণের কাছে করোজোড়ে ক্ষমা চাইতে হয়- সুন্দরবন ধ্বংস করে আমরা অন্যায় করেছি, আমাদের ক্ষমা করে দিন।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী আরও বলেন, যে দেশ যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে, সে দেশে এ রকম একটা জনবিরোধী ধ্বংসাত্মক প্রকল্প সরকার বাস্তবায়ন কেন করবে? সব মতকে উপেক্ষা করে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের নেপথ্যে কী আছে, তা আমাদের পলিটিক্যালি ভাবতে হবে।

একই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অনেক জীববৈচিত্রে ভরপুর সুন্দরবন আমাদের প্রাকৃতিকভাবে রক্ষা করছে। জাতীয় স্বার্থে সুন্দরবনের ক্ষতি দেশের কোন মানুষ চায় না। এটা কোন দলীয় বিষয় নয়, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় এ ধরনের প্রকল্প থেকে সরকারের সরে আসা উচিত।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আ ন হ আখতার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, সুন্দরবন রক্ষা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ।