সুভাষ চৌধুরীর কলাম : ভারতের সাহেবখালি কতদূর


485 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুভাষ চৌধুরীর কলাম : ভারতের সাহেবখালি কতদূর
মার্চ ১৫, ২০১৬ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সাহেবখালি দেখাই  হলো না। তার ওপর অভুক্ত অবস্থায় কাটলো সেই সকাল থেকে রাত অবধি। এর সাথেও মমতার নির্মমতা জড়িয়ে আছে কিনা তা নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েই গেল। যাত্রাপথে পথ ভুলে উল্টো দিকে চলে যাবার সময় ধারনা হয়েছিল এমন একটি অবস্থার শিকার হতে হবে কিনা। সব মিলিয়ে এক সহকর্মী বলেই ফেললেন ‘গোড়ায় ঘুর লাগলে তা প্যাঁচ হয়ে দাঁড়ায়’ ,হয়েছেও তাই। তাই এখনও বলতে পারছি না এটা বনভ্রমন  না  সাগরভ্রমন, নৌভ্রমন নাকি ভ্রমভ্রমন। নাকি ভারতভ্রমন।

20160313_121053
সিদ্ধান্ত শনিবার রাতের। হঠাৎ প্রস্তাবটা  এলো, সুন্দরবন ভ্রমনের। এক কথায় রাজি হলাম। ভোরে নিদ্রাভঙ্গ দিয়েই চললাম  আমরা । যাত্রা শুরু সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব থেকে। আর তা সমাপ্ত হবার কথা দক্ষিনে গভীর সুন্দরবনে টি জংশন জলসীমার মধ্যে রায়মঙ্গল, ইছামতি আর কালিন্দির মোহনায়। দক্ষিন তালপট্টির কাছে। যদিও দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া , কারণ ভয়াল সিডরে বঙ্গোপসাগরে   হারিয়ে গেছে সেই দক্ষিন তালপট্টি যা নিয়ে বিরোধ জমেছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি আয়োজন করেছিল এই নৌভ্রমনের । শ্যামনগরের কৈখালি ফরেস্ট ক্যাম্প সংলগ্ন পন্টুন থেকে আমরা ক’জন সংবাদকর্মী চড়লাম বিজিবির দেওয়া বোটে। সকাল সাড়ে ১০ টায় দ্বিতীয় যাত্রা শুরু কালিন্দি নদী থেকে। শেষ ফাল্গুনের বাসন্তী বাতাসের সাথে বননদীতে বহমান বাতাস কখনও কখনও ঝাপটা হয়ে দেখা দিচ্ছিল। নদীর পানির অস্বাভাবিক গতিধারাও আমাদের বোটটিকে বারবার নাচিয়ে তুলছিল। একদিকে বন দেখার অপার আনন্দ , অপরদিকে বনভ্রমনের চমৎকারিত্ব আর তার সাথে দুই ধারের সুন্দরবনের সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ব্যাঘ্র অথবা দস্যুদের থাবা , মুখে প্রকাশ না করলেও আমাদের সবার মনে দাগ কেটেছিল। সাথে ঢাকা থেকে আসা চার সংবাদকর্মীর অনভূতিও আমাদের অব্যক্ত অনুভূতির সাথে মিলিয়ে গিয়েছিল । তবু হাসি তামাশা আর গল্প গুজবের মধ্যে নিজেদের লুকিয়ে রেখে মনে মনে সবাই বনবিবির নাম  উচ্চারন করে নিরাপত্তা চেয়েছেন। সেই সাথে বিজিবির পাহারা দল আমাদের সাহস যুগিয়ে বোটে সফরসঙ্গী হয়ে আতংক দুর করে অংশীদার হয়েছেন আমাদের। ঢাকা থেকে আসা সংবাদ কর্মী ওমর ফাুরক মোবাইল ফোনে সম্ভবতঃ তার স্ত্রীর সাথে কথা বলতে গিয়ে জানালেন ‘ আমি সুন্দরবনের গভীর সাগরে স্পীড বোটে পাড়ি দিচ্ছি দীর্ঘ জলপথ’। জবাব এলো ‘ বলো কি , বলো কি , এখুনি লাইফ জ্যাকেট পরে নিও’। সত্যিই লাইফ জ্যাকেট পরলেন অনেকে , তবে সবাই নন।

IMG_20160313_121634
বোটে ভাসমান অবস্থায় শুধুই নজর কাড়ছিল দুরের অসীম জলসীমা, আর দুই ধারের হেতাল বনের আচ্ছাদন । আর গরান , গেওয়া ,কাঁকড়া , কেওড়ার  চির সবুজ হাতছানি। বাংলাদেশ জলসীমা পেরিয়ে কখন যে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করেছি তা বুঝতেই পারিনি। বোটম্যান বললেন  এটি ভারতীয় এলাকা। ততক্ষনে নিজেরা দেখতে থাকলাম অনিন্দ্য সুন্দর সুন্দরবনের অপরুপ রুপ সৌন্দর্য্য। লবনাম্ভু সুন্দরবনের বিশাল নদীর জলস্্েরাত বনের শুলো বনে এঁকে দিয়েছে খালের পর  খাল, খাল তো নয় যেনো আরও এক একটি  ছোট নদী, যার আশপাশে বাঘের বিচরন হলুদাভ হেতাল জঙ্গল জুড়ে।ভারতীয় বনসীমায় এলেই এক সহকর্মী সবার নজর কেড়ে নিয়ে বললেন ‘ আমাদের দেশে বনখেকো রয়েছে। তবুতো আমাদের বন বেশ ঘন , অনেকটাই ভালো।  আর ভারতীয় বনের করুন শুষ্ক অবস্থা দেখুন। এর নাম মমতা ব্যানার্জির সুন্দরবন । স্বগতোক্তি করে বললাম তাহলে এটা কি ‘মমতার নির্মমতা’। আমরা বোটে ভাসছিই । কখন পেরিয়েছি চেরি খাল , ঝাউডাঙ্গার খাল । আর কখন যে  বনের কিনারে  চোখে দেখলাম বনবিবির পূজার আয়োজন ।  কোথায় যাচ্ছি কতো দুরে যাচ্ছি তা কেবল বোটম্যানই জানেন। আমরা শুধু  জানি রায়মঙ্গল মোহনায় বিজিবি বিএসএফ বন্ধুত্বের  মেলা বসেছে। জড়ো হয়েছেন নদী সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত বিজিবি ও বিএসএফএর বিপুল সংখ্যক সৈনিক। বিএসএফএর অতিথি দিল্লী ও কলকাতা থেকে আসা দশজন সাংবাদিক। আর আমরা ঢাকা ও সাতক্ষীরা থেকে যাওয়া আরও দশজন সাংবাদিক বিজিবির অতিথি। আমরা প্রতিনিধিত্ব করছি বাংলাদেশের , আর তারা ভারতের।

20160313_143058(1)
চারদিকে তাকিয়ে শুধুই মনে আসলো ‘দেশের সীমানা , নদীর ঠিকানা , যেখানে গিয়েছে হারিয়ে , সেথা সাতক্ষীরা রুপমায়া ঘেরা বনানীর কোলে দাঁড়িয়ে ’।
ফেনা তোলা গভীর জলরাশি পেরিয়ে টি জংশনে পৌছে আমাদের  চক্ষু চড়কগাছ  । বিএসএফএর ভাসমান ক্যাম্প কামাখ্যা আর দুর্গার ওপর যেনো মেলা বসেছে। বিএসএফএর সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল শ্রী সন্দ্বীপ সালুনকি ও ডিআইজি শ্রী কেএল শাহ  আহবান জানালেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী বিজিবির সাউথ ওয়েস্ট রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার খোন্দকার ফরিদ হাসান , খুলনা সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল ইকবাল হোসেন , নীলডুমুর ও সাতক্ষীরার ৩৪ ও ৩৮ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্ণেল মাকছুদ আহমেদ ও লে. কর্ণেল আরমান হোসেন, রিভারাইন বর্ডার গার্ড নীলডুমুর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার রেদোয়ান আহমেদ ,তাদের  ১১৪ জন সফরসঙ্গী এবং বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের। পাশেই বিশাল বার্জ ভাসমান । কাছেই একটি জাহাজ। বার্জে দুই প্রতিবেশী বন্ধু দেশের দুই ভ্রাতৃপ্রতীম বন্ধু বিজিবি ও বিএসএফ সৈনিকদের যৌথ অনুশীলন প্রত্যক্ষ করলাম আমরা। ছবি তুললেন ক্যামেরাম্যানরা। আর সবাই সেলফি তুলে নিজেদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে থাকলেন বারবার। বোটে আসার সময় একই দৃশ্য সেলফি তুলতে সেকি কাড়াকাড়ি , ঠেলাঠেলি । ভারতীয় জলসীমার ¯্রােতোবহুল নদীর গভীরে দুইধারে অনিন্দ্য সুন্দর বনরাজির মধ্যে এই সেলফি আর তা সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হতেও পারে কারও কারও জন্য এক ত্রিভূজ প্রেমের উৎস। চারধারে ভাসমান স্পীড বোটের ঠেলাঠেলি , তার ধারে কামাখ্যা আর দুর্গার সুস্থির অবস্থান, কানে সমুদ্রের গর্জন ,সাথে সৈনিকদের যৌথ অনুশীলন , ভারতীয়দের ভাষায় সংযুক্তি অভ্যাস সংবাদ কর্মীদের যেনো স্বপ্নের জগতে নিয়ে যায় । বনঘেরা বিশাল জলরাশিতে ভাসমান অবস্থায় তীর্যক সুর্যের মিষ্টি মধুর রোদের  মধ্যে নাতিশীতোষ্ণ হাওয়ায় সৈনিকরা যখন অনুশীলন আর দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত আমরা তখন নিছক বিদেশি অতিথি হয়ে শুধু তথ্য সংগ্রহে সময় কাটিয়ে দিতে থাকি। কেউ তোলেন ছবি , কেউ নেন ইনফরমেশন, কেউ করেন গল্প আবার কেউবা আমরা অবলোকন করি দিগন্তজোড়া দুরসীমানা। সাথে বাড়তি পাওনা ¯œ্যাক্স, বিজিবি বিএসএফ মৈত্রী ক্যাপ। বিএসএফ দক্ষিন কম্যান্ড প্রধান আর বিজিবির দক্ষিন পশ্চিম কম্যান্ড যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে আহবান জানালেন আমাদের। কামাখ্যার মেঝেতে গালিচার ওপর মিনি চেয়ারে উপবেশন আমাদের । দুই বাহিনীর দুই প্রধান ২০১৪ সালে মহাপরিচালক পর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক  যৌথ অনুশীলনের বিবরন দিয়ে জানালেন এতে বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্ত সুরক্ষা হবে। জনবহুল এই বিশাল সীমান্ত নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করা হবে। শুরু হলো সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে  প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়ার পালা । জবাব দিলেন ভারতীয় ও বাংলাদেশের দুই বাহিনী প্রধান । বিএসএফ প্রধান জানালেন জেএমবি জঙ্গি বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকছে  না  কিংবা  বিধান সভা নির্বাচনকে সামনে রেখে  বাংলাদেশ থেকে কোনো অনুপ্রবেশ ঘটছে না। বাংলাদেশে ভারতীয় ফেনসিডিল ঢুকছে এবং তা আমাদের প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এমন অভিযোগের জবাবে আশাব্যঞ্জক  খবর জানিয়ে বিএসএফ কর্মকর্তা বললেন ভারতীয় এলাকায় থাকা ফেনসিডিল কারখানাগুলি গুড়িয়ে দেওয়া হবে । তাছাড়া ভারতে  ফেনসিডিল উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।

20160313_142808

সুন্দরবনে কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী ঘাঁটি করেনি , তবে জলদস্যুদের উৎপাত রোধে আমরা দুই বন্ধু বাহিনী কাজ করছি। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে এসে ঘন কুযাশায় পথ হারিয়ে ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়া  বাংলাদেশি জেলেদের গ্রেফতার না করে বিএসএফ বিজিবির হাতে তুলে দেবে বলেও জানালেন সেদেশের শীর্ষ কর্মকর্তা।আর বিজিবি কর্মকর্তা শোনালেন ভারত থেকে গবাদি পশুর চোরাচালান ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গরু চোরাচালান থেকে মুখ ফিরিয়ে তারা বাংলাদেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ঘরে ঘরে গরু পালন বৃদ্ধি করেছেন। গরু আনতে ভারতীয় এলাকায় যেতে বারন করা হয়েছে তাদেরকে। স্থল ও নদী সীমান্তের ক্রিমিন্যালদের আটক করে আইনে সোপর্দ করার তৎপরতা অব্যাহত আছে। নারী ও শিশু পাচাররোধে আমরা দুই বাহিনী কাজ করছি। সীমান্তে সন্ত্রাসই প্রধান সমস্যা জানিয়ে তিনি বলেন যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা শুন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কাজ করছি আমরা। আর আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো দিল্লী কলকাতার সাংবাদিকদের সাথে। পরিচয় পর্বেই সূচনা আর শেষ এই বন্ধুত্বের।

Satkhira Photo--02
সংবাদকর্মী হিসাবে আমাদের সংবাদ উপাদান প্রশ্নবানের মধ্যেই  পেয়ে যাওয়ায় তুষ্ট হলাম। এরপর এলো গ্রুপ ছবি তোলার পালা। চারদিক থেকে শুধু ক্লিক ক্লিক ক্লিক আর লাইটের ঝলকানি। তারপর মধ্যা‎হ্ণ ভোজ। বিএসএফ আমন্ত্রন  জানালো আমাদের , সাহেবখালিতে মধ্যাহ্ণের খাবারের আয়োজন।  আমন্ত্রন পেয়ে নেমে পড়লাম কামাখ্যা থেকে। কয়েকটি বোট পেরিয়ে আমাদের জায়গা হল ভারতীয় স্পীডবোটে। কিছুক্ষন বাদে জানানো হল, আপনারা ফিরে আসুন। আপনাদের নিজস্ব বোটে উঠুন। অগত্যা তাই হল। ততক্ষনে দুপুর সাড়ে তিনটা গড়িয়ে গেছে। শুরু হল আবারও রায়মঙ্গলের মোহনা থেকে প্রত্যাবর্তন। চেয়ে দেখলাম ভারতীয় সংবাদ কর্মীদের হাতে একটি করে গিফট ব্যাগ। ভাবলাম আমাদের জন্যও বুঝি গিফট অপেক্ষা করছে। আমাদের পাশ কাটিয়ে ও সামনে দিয়ে অতি দ্রুতগামী স্পীডবোটের দাপটে পানির উথাল পাতালে আমাদের প্রান ওষ্ঠাগত প্রায়। কারো কারো বস্ত্রও ততক্ষনে সিক্ত হয়ে উঠেছে। তবু ক্ষিধের টানে নাড়ির টানে ভয়াল সে অবস্থার মধ্য দিয়েও শুধুই ছুটছি সাহেবখালির দিকে। ভরা জোয়ারে বিকাল চারটা পেরিয়ে দক্ষিনের শমসেরনগর পৌঁছানোর আগেই বোটম্যান দফায় দফায় বলতে থাকলেন তার ইঞ্জিনের দুর্বলতার কথা। আর দূরত্ব হিসাব করে বললেন, সাহেবখালি যেতে একঘন্টা। আসতে এক ঘন্টা। সেখানে সময় দিতে আরও এক ঘন্টা। এই তিন ঘন্টা হিসাব করলে কৈখালিতেই ফিরতে আমাদের রাত হবে প্রায় আটটা। এমন অবস্থায় দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যদিয়ে সাহেবখালি না যাওয়ার সিদ্ধান্তই মেনে নিলাম সবাই। বিএসএফ এর শমসেরনগর ক্যাম্প কমান্ডার এসি গিরিশ চন্দ্র ততক্ষনে আমাদের বৈকালিক ভোজনের আমন্ত্রন জানালেও সংবাদকর্মীরা ধন্যবাদ জানিয়েও তা গ্রহন করতে পারলেন না। তারা ক্ষুব্ধ হয়ে রইলেন কম গতি সম্পন্ন বোটের কারনে সাহেবখালির মধ্যাহ্ণভোজন বঞ্চিত হবার কারনে। এ নিয়ে সংবাদকর্মীরা নিজেরাও কমবেশী বিতর্কে জড়িয়ে সব দায় দায়িত্ব বিজিবির ওপর ফেলে দিয়ে অবশেষে উঠে আসলেন শমসেরনগরের বিপরীতে বাংলাদেশ ভূখন্ড কৈখালিতে। সেখানেও তারা বৈকালিক নাশতায় ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার জসিমের  আপ্যায়নে অতিথি  হলেন বটে কিন্তু ক্ষিধে  পেটের জ্বালার ওপর ঝাল চানাচুর আরেক দফা জ্বালা এনে দিল। ঠান্ডা পানি আর বেলের শরবত খেয়ে শেষ পর্যন্ত আমরা উঠে পড়লাম কায়েসের গাড়িতে। আক্ষেপ থাকলো সাহেবখালি দেখা হল না, মধ্যহ্ণভোজনও হল না। শুধুই মনে হল ভারতীয় এলাকার বনভূমি দেখে  মমতার যে নির্মমতার কথা উঠেছে  এটাও কি সে ধরনের কিছু ! ক্লান্ত শ্রান্ত দেহ নিয়ে সারাদিনের অভুক্তির মধ্যে শরীর যখন দুমড়ে মুচড়ে আসছিল তখনই আসলো সংবাদ প্রেরনের তাগিদ। আর সেই তাগিদ রক্ষায়  আমরা সবাই ঠাঁই নিলাম শ্যামনগর প্রেসক্লাবে। ঘন্টাখানেকের বেশী কাটিয়ে যে যার মত কিছু রিপোর্ট পাঠিয়ে অবশেষে ফিরতি যাত্রা হল বাড়ির দিকে কায়েসের গাড়িতে । রাত ৯ টায় বাড়ি ফিরে সংবাদকর্মীরা মধ্যাহ্ণিক  অভুক্তির কথা বেমালুম চেপে গিয়েই বললেন তবু ক্ষিধে পেয়েছে কিছু খেতে দাও। আর মনে হলো এটাই  ‘আমার গিফট ’।
——————— সুভাষ চৌধুরী , ডিস্ট্রিকট করেসপন্ডেন্ট, দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভি