সুশিল সমাজের সহযোগিতা ছাড়া শুধু বিচারকরা আন্তরিক হলে আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয় : সাতক্ষীরায় প্রধান বিচারপতি


532 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুশিল সমাজের সহযোগিতা ছাড়া শুধু বিচারকরা আন্তরিক হলে আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয় : সাতক্ষীরায় প্রধান বিচারপতি
অক্টোবর ১২, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, আমাদের দেশের অনেক আইনেই মরিচা ধরেছে। ১৮৬০ সালের ঔপনিবেশিক আইনের মাধ্যমে আধুনিক কল্যাণকর রাস্ট্র গঠন সম্ভব নয়। এসব সিআরপিসি আইনের ৪০ ভাগই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিচারকদের সরকারী সময়সীমা মেনে চলতে হবে। সময়মত এজলাসে হাজির হতে হবে।  হাইকোর্টে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা গেছে। বিচারকদের সময়নিষ্টতা, যথাযথ পুলিশী তদন্ত, যথাসময়ে স্বাক্ষী হাজির করা,আইনজীবীদের দক্ষতা ইত্যাদির মাধ্যমে দেশের মামলা জট কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান মামলা জটকে যানজটের চেয়ে বেশী ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি বলেন,সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হাইকোর্টের ৩১ লাখ মামলাকে অর্ধেকে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন,একটি কল্যাণকর রাষ্ট্রে আইনের শাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইনের শাসন নিশ্চিত বলতে আমরা মনে করি বা বুঝি বিচারকের সততা,নিষ্টা,আন্তরিকতা। কিন্তু আমি তা মানিনা। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে বিচারকের পাশাপাশি আইনজীবী, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সুশিল সমাজের সহযোগিতা ছাড়া শুধু বিচারকরা আন্তরিক হলে আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি বিচারক সংকট ও মামলারজট প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, জনসংখ্যার বিবেচনায় পৃথিবীর মধ্যে সব চেয়ে বেশি মামলার সংখ্যা বাংলাদেশে । ্আর সব চেয়ে কম বিচারকের সংখ্যা বাংলাদেশে। এর পরেও বিচারকদের আন্তরিকতার কারণে ইতিমধ্যে মামলার জট অনেকাংশে কমতে শুরু করেছে। আরও কিভাবে  দ্রুত মামলা নিস্পত্তি করা যায়  সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরেজমিন ঘুরে বেড়াচ্ছি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, সারা দেশে মামলার জট হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মামলা। কারণ সারা দেশে স্কুল,কলেজে ও মাদ্রসার এমপিওভূক্তি, বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার কমিটি গঠন নিয়ে সবচেয়ে বেশি মামলার হচ্ছে। এসব মামলারোধে জেলা প্রশাসনকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সোমবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে সাতক্ষীরা জেলা জজশীপ আয়োজিত বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ জোয়ার্দ্দার মো: আমিরুল ইসলাম ওই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু মনসুর মো: জিয়াউল হক, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান, জেলা পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির পিপিএম (বার), সিভিল সার্জন ডা: সালেহ আহমেদ, গনপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশিষ ডি কস্তা, জেলা আইনজীবী সমিরি সভাপতি অ্যাড: আবুল হোসেন (২), জজ আদালতের জিপি অ্যাড: গাজী লুৎফর রহমান, পিপি অ্যাড: ওসমান গণি।

অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা জজশীপের সকল বিচারক, সিনিয়র আইনজীবী, প্রেসক্লাব সভাপতিসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান বিচারপতি সোমবার সন্ধ্যায় যশোর থেকে সাতক্ষীরায় পৌছে বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে যোগদেন। তিনি ২ দিনের সফরে সাতক্ষীরায় আসেন। মঙ্গলবার তিনি সাতক্ষীরা বিচারকদের সাথে মতবিনিময় করবেন। এছাড়া দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত তাকে দেয়া এক সংবর্ধনা সভায় তিনি অংশ নিবেন এবং বিকেলে তিনি সাতক্ষীরা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছেন।