সুুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘের আক্রমণে মৌয়াল নিহত


307 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সুুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘের আক্রমণে মৌয়াল নিহত
এপ্রিল ১৪, ২০২১ ফটো গ্যালারি সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

সামিউল মনির ::

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে মধু সংগ্রহ করতে যাওয়া হাবিবুর রহমান (২৭) নামের এক মৌয়াল বাঘের আক্রমণে নিহত হয়েছে। বুধবার সকালে কৈখালী ষ্টেশনের সন্নিকটস্থ হোগলডাঙা এলাকায় মধু সংগ্রহকালে সে বাঘের কবলে পড়ে। নিহত হাবিবুর রহমান মীরগাং গ্রামের আব্দুল আজিজ মোল্যার ছেলে। বেলা সাড়ে বারটার দিকে স্থানীয়রা বনবিভাগের সহায়তা নিয়ে সুন্দরবনের মধ্যে প্রবেশ করে অর্ধ্ব খাওয়া মৃতদেহ নিয়ে এলাকায় ফিরে আসে।
নিহতের প্রতিবেশী স্থানীয় রমজাননগর ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম জানান কৈখালী ষ্টেশন থেকে পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে এপ্রিলের শুরুতে সহযোগীদের সাথে হাবিবুর সুন্দরবনে প্রবেশ করে। বুধবার সকালে আকস্মিকভাবে বাঘ তার উপর হামলে পড়ে এবং মৃতদেহ নিয়ে বনের গভীরে চলে যায়। এক পর্যায়ে সহযোগী মৌয়ালদের মাধ্যমে হাবিবুরকে বাঘে নিয়ে যাওয়ার খবরে স্থানীয়রা সুন্দরবনে ঢুকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে গত মঙ্গলবার বিকালে সুন্দরবনের কাছিকাটা পারাদুনি এলাকায় মধু সংগ্রহ করার সময় রবিউল ইসলাম নামের (২৩) আরও এক মৌয়াল বাঘের হামলায় আহত হয়। সে গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নং সোরা গ্রামের দৃষ্টিনন্দন এলাকার আব্দুল হাকিম এর ছেলে।
বাঘের হামলায় মারাত্বকভাবে আহত রবিউল ইসলামের পিতা আব্দুল হাকিম জানায় বুড়িগোয়ালীনি ষ্টেশন থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে গত ৩ এপ্রিল থেকে তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করছে। মঙ্গলবার বিকালে কাছিকাটা পারাদুনি এলাকায় মধু কাটার সময় বাঘ তার ছেলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এসময় তিনিসহ অন্য সঙ্গীরা হাতে থাকা লাঠিশোটা নিয়ে বাঘের উপর পাল্টা চড়াও হলে বাঘ শিকার ছেড়ে বনের ভিতরে ঢুকে যায়। রাতেই রবিউলকে নিয়ে নৌকাযোগে লোকালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে সকালে সুন্দরবন গ্রামে ডাক্তার সোলায়মান ইসলামের কাছে পৌছায়।
আব্দুল হাকিম জানান, বাঘ তার ছেলে রবিউলের ঘাঁড়সহ মাথায় দাঁত বসিয়ে দিয়েছে। এছাড়া পিঠ ও হাতে নখের আঁচড় দিয়ে মারাত্বকভাবে ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। সরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুন্দরবন এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসকরা বাঘে ধরা রোগীর চিকিৎসা ভাল করে বলেই সেখানে রেখে নিজ সন্তানের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
পল্লী চিকিৎসক সোলায়মান ইসলাম জানান, ঘাঁড়, পিঠসহ হাতে ও মাথায় ক্ষতস্থানে বিশেষ চিকিৎসা নিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা চলছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এম এ হাসান জানান, সুন্দরবনে বাঘের আত্রমনের দুটি পৃথক ঘটনায় দুইজন হতাহতের খবর লোকমুখে শুনেছেন। তাদেরকে ক্ষতিপুরণ দেয়া হবে যদি তারা পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে থাকে।

#