স্থানীয় পর্যায় সালিশের মাধ্যমে আপোসযোগ্য ঘটনা মিমাংসা করা গেলে বিচারাধীন মামলার জট কমে আসবে : সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ জোয়ার্দ্দার মো: আমিরুল ইসলাম


463 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
স্থানীয় পর্যায় সালিশের মাধ্যমে আপোসযোগ্য ঘটনা মিমাংসা করা গেলে বিচারাধীন মামলার জট কমে আসবে : সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ জোয়ার্দ্দার মো: আমিরুল ইসলাম
আগস্ট ১০, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ জোয়ার্দ্দার মো: আমিরুল ইসলাম বলেছেন, ১৯৭১ সাথে এদেশে জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পয়েছে।আদালতে মামলার জট বেড়েছে। বাংলাদেশের জেলখানায় কারাবন্দীদের সংখ্যাধিক্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য স্থানীয় পর্যায় সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে আপোসযোগ্য ঘটনা মিমাংসা করা গেলে মামলার জট কমে আসবে। তিনি বলেন, বাংলদেশ আজ অনেক দিক দিয়ে এগিয়ে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষা, স্বাস্থ্য , সামজিক ও অর্থনীতিসহ সব কিছুতে পরিবর্তন এসেছে। সামাজিক সচেতনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি হতাশ নই, আমি আশাবাদি আগামীতে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে। জেলা ও দায়রা জজ সাতক্ষীরা আদালতে বিচারাধীন মামলা প্রসঙ্গে বলেন, সাতক্ষীরা আদালতে বর্তমানে প্রায় ৪৭ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে বিচারাধীন মামলা রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার এবং জজ আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। যথাযথ স্বাক্ষী প্রমানের অভাবে অনেক ঘটনা সত্য বলে মনে হলেও সাজা দেয়া যাচ্ছে না। মামলা নিস্পত্তির ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিচারকদের আন্তরিকতার কোন কমতে নেই। বিচারকরা প্রতিমাসে মামলা নিস্পত্তির একটি লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই বিচারকার্য পরিচালান করছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে কি-না তা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মনিটরিং করছে। গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে যদি আপোসযোগ্য ঘটনা নিস্পত্তি করা যায় তাহলে দিন দিন মামলার সংখ্যা কমে আসবে। তিনি বলেন, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।  তারা স্থানীয় পর্যায় আপোসযোগ্য ঘটনা সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মিমাংসা করার যে উদ্যোগ গ্রহন করেছে একাজে সবাইকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত সম্মেলন কক্ষে অগ্রগতি সংস্থা ও জেআইজেড  আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জেলখানাগুলোতে কারাবন্দীদের সংখ্যাধিক্যের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থার উন্নয়ন’ বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অগ্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সবুর বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু মনসুর মো: জিয়াউল হক, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট নিতাই চন্দ্র সাহা, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর মোদদাচ্ছের হোসেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, প্রফেসর আব্দুল হামিদ।আলোচনায় অংশ নেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক,এটিএন বাংলা ও দৈনিক সমকালের নিজস্ব প্রতিনিধি, ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমের সম্পাদক এম.কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক অ্যাড: মোস্তফা আসাদুজ্জামান দীলু, অ্যাড: শাহানাজ পারভিন মিলি, ওয়ার্ল্ড ভিশনের দুলাল সরদার, এনজিও প্রতিনিধি আবু জাফর প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সাতক্ষীরা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট নিতাই চন্দ্র সাহা বলেন, ৬ মাস আগে সাতক্ষীরায় যে পরিমান মামলা ছিল, দিন দিন সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসছে।
কর্মশালায় সাতক্ষীরা আদালতের সকল বিচারক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক , শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি,আইনজীবীরা অংশগ্রহন করেন।