স্বপ্নের ফাইনালে উঠতে পারলো না যুবারা


446 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
স্বপ্নের ফাইনালে উঠতে পারলো না যুবারা
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৬ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেক্স:
প্রথমবারের মতো কোনো বৈশ্বিক আসরের সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। তবে স্বপ্নের ফাইনালে উঠতে পারলো না টাইগার যুবারা। মিরাজদের কাঁদিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

মিরাজদের দেয়া ২২৭ রানের লক্ষ্যটা ক্যারিবীয় যুবারা পেরিয়ে যায় ৩ উইকেট হাতে রেখে। প্রথম থেকেই শিরোপার লড়াইয়ে থাকলেও তরুণ ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার শামার স্প্রিঙ্গারের কাছেই হার মানতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

এই উদীয়মান তারকার জেদের কাছে হেরে আগামী শনিবার শ্রীলংকার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবেন মিরাজ-শান্তরা। বাংলাদেশের দেয়া ২২৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন দুই ক্যারিবীয় ওপেনার।

প্রথম পাঁচ ওভারেই ৪৪ রান তুলে নেন গিডরন পোপ ও টেভিন ইমল্যাচ। তবে পরপর দুই ওভারে এই দুজনকেই বিদায় করে দিয়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ইমল্যাচকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মিরাজ।

১২ বলে ১৪ রান করেন ইমল্যাচ। তবে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা হয়ে উইকেটে টিকে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক ওপেনার পোপ। সপ্তম ওভারে বোল্ড করে পোপকে সাজঘরে পাঠান সেই মিরাজ। ২৪ বলে ৩৮ রান করেন এই বাঁ-হাতি ওপেনার।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬২ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজেকে ভালোমতোই জয়ের পথে রাখেন অধিনায়ক হেটমেয়ার ও কার্টি। ২০তম ওভারে ২২ রান করা কার্টিকে আউট করেন সালেহ আহমেদ শাওন। ২৮তম ওভারে ৬০ রান করা হেটমেয়ারকে আউট করে আবার বাংলাদেশ শিবিরে আশা জাগিয়েছিলেন সাইফুদ্দিন।

হেটমেয়ারের আউটের পরেই গতিও কমে আসে অনেকখানি। ৩৮তম ওভারে ক্যারিবীয়দের জোড়া ধাক্কা দিয়ে দুইটি উইকেট তুলে নেন সালেহ আহমেদ শাওন। কিন্তু উইকেটের অপর প্রান্তে স্প্রিঙ্গার ছিলেন অবিচল। ৮৮ বলে ৬২ রানের দারুণ ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন এই ব্যাটসম্যান।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ৫০ ওভারে ‍সবক’টি উইকেট হারিয়ে ২২৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বেশ বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে পিনাক ঘোষ কোনো রান করার আগেই বিদায় নেন।

কেমার হোল্ডারের লাফিয়ে উঠা বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১০ মোকাবেলা করা পিনাক। দলীয় ১০ রানের মাথায় প্রথম উইকেটের পতন ঘটে। ইনিংসের সপ্তম ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেন সাইফ হাসান। জোসেফের বলে আউট হবার আগে ১০ রান করেন সাইফ।

১৩তম ওভারে তৃতীয় উইকেট হারায় যুবারা। রায়ান জনের বলে বিদায় নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর বেশ ভালো খেলতে থাকা জয়রাজ ও জাকিরও বিদায় নেন। বিদায়ের আগে ৪৪ বলে ২৪ রান করেন তিনি জয়রাজ এবং ২৫ রানে আউট হন জাকির।

সাইফুদ্দিনকে সাথে নিয়ে ৮৫ রানের জুটি গড়েন দলপতি মিরাজ। ৪৬তম ওভারে মিরাজ অর্ধশতক হাঁকিয়ে বিদায় নেন। পরের বলেই বিদায় নেন সাইফুদ্দিন। সেই ওভারের তৃতীয় বলে মিরাজকে ফেরান কেমো পল।

ফ্রিউয়ের তালুবন্দি হওয়ার আগে টাইগার দলপতি করেন ৬০ রান। তার ৭৪ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি বাউন্ডারি। পরের বলেই বোল্ড হন ৩৬ রান করা সাইফুদ্দিন। শেষের দিক রানের চাকাটা খুব বেশি না বাড়ায় ২২৬ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।