স্বপ্ন প্রকল্পের আলোয় সাবলম্বী দরগাহপুরের জুলেখা


431 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
স্বপ্ন প্রকল্পের আলোয় সাবলম্বী দরগাহপুরের  জুলেখা
মার্চ ২৯, ২০১৭ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ আসাদুজ্জামান(মুকুল) ::
নাম তার জুলেখা, আশাশুনির দরগাহপুর ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ড খরিয়াটিতে তার বসবাস। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাল্য বিবাহের বলী হয় সে। বিয়ের তিন বছরে তার একটি সন্তান জন্মগ্রহন করে। তার পরপরই পাষন্ড স্বামী তাকে ও তার সন্তানকে ছেড়ে চলে যায়। তার সংসারে দুঃখের কালো ছায়া নেমে আসে। জীবনের তাগিদে সে দিন মজুরের কাজ করতে বাধ্য হয়। সামান্য আয় দিয়ে খুব কষ্টে চলছিল তার জীবন।

একদিন মজুর শেষে সে বাড়ি ফিরছিল, তখন সে মাইকে শুনতে পেল যে দরগাহপুর ইউনিয়নে ইউ.এন.ডি.পির সহযোগীতায় গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ কতৃক বাস্তবায়নাধীন স্বপ্ন প্রকল্পের উপকার ভোগী- লটারীর মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। তাই সে নির্দিষ্ট দিনে ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং সে লটারীতে স্বপ্ন প্রকল্পের উপকার ভোগী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। প্রতিদিন সে ২০০ টাকা পায় এর থেকে সে ৫০ টাকা ইউনিয়ন পরিষদে তার নিজের নামের একাউন্টে জমা রাখে। স্বপ্ন প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে সে তার ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করে। স্বপ্ন প্রকল্পে তার জমানো টাকা পেয়ে সে সেলাই মেশিন কিনেছে, কাপড় ব্যবসা করছে, গরু কিনেছে ও ভেড়া পালন করছে। সে এখন সাবলম্বী। সমাজে তার গ্রহন যোগ্যতা বেড়েছে। সে অসহায়, দুঃস্থ, নির্জাতিত, স্বামী পরিত্যাক্ত নারীদের আইকনে পরিনত হয়েছে। এখন সে নিজেই সব কিছু। স্বপ্ন প্রকল্প বদলে দিয়েছে তার জীবন। তিনি এই স্বপ্ন প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শুধুমাত্র জুলেখা নয় এমন অনেক অসহায় ও দুঃস্থ নারীর জীবন বদলে দিয়েছে স্বপ্ন প্রকল্প। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন সহযোগী হিসাবে সুশীলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।