স্মার্টকার্ডের বিতরণ সমস্যা অচিরেই কেটে যাবে: সিইসি


239 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
স্মার্টকার্ডের বিতরণ সমস্যা অচিরেই কেটে যাবে: সিইসি
অক্টোবর ৫, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :
বহু প্রতীক্ষিত স্মার্টকার্ড বিতরণের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবারও ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজধানীর উত্তরা ও রমনা থানার নির্দিষ্ট কিছু এলাকার ভোটারদের মধ্যে কার্ড দেওয়া হয়।

কার্ড বিতরণে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ উত্তরা হাইস্কুলে বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি সাময়িক সমস্যা, অচিরেই কেটে যাবে। এখান থেকে সমস্যা চিহ্নিত করে পরের বিতরণ কার্যক্রমের সময় তা কাজে লাগানো হবে।’

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩ থেকে ২৩ অক্টোবর উত্তরা ও রমনা থানা এলাকার চারটি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে প্রায় ১০ কোটি ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়া হবে।

বিতরণের দ্বিতীয় দিনে উত্তরা কেন্দ্র

রাজধানীর উত্তরায় মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনের মতো স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হয়। প্রথম দিনের নির্ধারিত চার হাজার ৭০০ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৬০৩ জন কার্ড সংগ্রহ করেছেন।

এই কেন্দ্র থেকে উত্তরা ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১০ নম্বর সেক্টরের রানাভোলা এলাকার তিন হাজার ২০০ জন ভোটারের মধ্যে স্মার্টকার্ড বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল। এ ছাড়া প্রথম দিনে যাদের কার্ড বিতরণ সম্ভব হয়নি, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ এসে কার্ড সংগ্রহ করেছেন।

সঠিক প্রচারের অভাবে একদিকে কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথ ফাঁকা দেখা গেছে; অন্যদিকে নির্ধারিত এলাকার বাইরের ভোটাররা এসেছেন কার্ড নিতে। যদিও তারা কার্ড না পেয়েই ফিরে গেছেন। তবে তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। পরে তাদের ফোন করে কার্ড সংগ্রহের সময় জানানো হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা গৃহিণী উম্মে নাহরিন বেগম বলেন, ‘অনেক অপেক্ষার পর বুথ থেকে বলা হয়েছে, তার কার্ড এখন পাওয়া যাবে না। পরে আসতে হবে। রেজিস্টারে নাম ও মোবাইল নম্বর লিখে যান।’

স্মার্টকার্ড নিতে আসা উত্তরার রানাভোলা অংশের আরেক বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, ‘কার্ডের জন্য সকাল থেকে অপেক্ষা করছি, কিন্তু এখানে দায়িত্বরতরা কার্ড দিতে পারছেন না। একজন বলছেন, পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অন্যজন বলছেন আপনি তুরাগ থানা এলাকায় পড়েছেন। আরেকজন বলছেন, সামনের দিন আসুন।’

এ পর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আল আমিন বলেন, ‘অফিস বাদ দিয়ে কার্ড সংগ্রহ করতে এসেছি। এ ভোগান্তির কোনো অর্থ হয় না।’

এ প্রসঙ্গে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহ আলম সমকালকে বলেন, ‘কারিগরি ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে যাদের স্মার্টকার্ড পাওয়া যায়নি, তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। কমিশন থেকে দু-একদিনের মধ্যে তাদের স্মার্টকার্ড নেওয়ার জন্য ফোন দেওয়া হবে।’

সিদ্বেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্র

এই কেন্দ্রে আগের দিনের মতো কার্ড সংগ্রহে আসা মানুষকে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইস্কাটন গার্ডেন রোডের ভোটারদের কার্ড বিতরণের জন্য মঙ্গলবার ছিল নির্ধারিত দিন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কার্ড সংগ্রহে এই কেন্দ্রে আসেন চিকিৎসক মারিয়া মাহতাব। প্রায় ২০ মিনিট সময় নিয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করেন। এর পর তার হাতে দেওয়া হয় স্মার্ট আইডি কার্ড। কার্ড হাতে পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, প্রায় এক বছর আগে কিছু তথ্য সংশোধন করেছেন। কিন্তু স্মার্ট আইডিতে তার পুরনো তথ্যই রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি থানা নির্বাচন অফিসার মাহাবুবা মমতা হেনার কাছে অভিযোগ করেন।

জবাবে ওই কমকর্তা বলেন, ‘সঠিকভাবে সংশোধনীর আবেদন করলে হয়তো এ সমস্যা হতো না।’

ওই কেন্দ্রের সুখেন্দু দাস নামের একজন অভিযোগ করেন, ‘তাকে নিচতলা থেকে তিনবার ওপরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। নিচে গেলে বলে তথ্য নেই। কিন্তু ওপরে কম্পিউটারে দেখে বলে আছে।’

ইসির কর্মকর্তা মাহাবুবা মমতা হেনা বলেন, ‘স্মার্টকার্ড নিয়ে পাইলট প্রকল্প চলছে। অপারেটরদের স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণ দিয়েই কাজে লাগানো হয়েছে। অনেকেই নতুন, তাই তারা সবকিছু মনে রাখতে পারছেন না। আগামীতে এ সমস্যা আর থাকবে না।’

এদিকে বিতরণ ব্যবস্থা পরিদর্শনে গিয়ে সিইসি বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পন্থায় নাগরিকের ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি গ্রহণ করে এই স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।’

কেন্দ্রগুলো থেকে টার্গেটের অর্ধেক কার্ড বিতরণ সম্ভব না হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাজী রকিব বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানই এখন খোলা। ভোটারদের মধ্যে যারা চাকরিজীবী তারা এখন আসছেন না, এটা খেয়াল করেছি। সময় বাড়িয়ে এবং শুক্র ও শনিবার তাদের স্মার্টকার্ড বিতরণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে।’

স্মার্টকার্ডে ভুল থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর জন্য ইসি দায়ী নয়। প্রত্যেক নাগরিককেই তার ভুল সংশোধন বা তথ্যদি হালনাগাদ করার জন্য চার দফা সময় দেওয়া হয়েছিল। যারা ওই সুযোগ গ্রহণ করেননি বা নির্দিষ্ট সময়ের পরে ওই সুযোগ গ্রহন করেছেন, তাদের  স্মার্টকার্ডে ভুল থাকতে পারে। তবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনে আবেদন করলে ওই ভুল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।’