হঠাৎ পিঠে ব্যথা


317 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হঠাৎ পিঠে ব্যথা
আগস্ট ২৫, ২০১৮ ফটো গ্যালারি স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

ডা. এম ইয়াছিন আলী ::

যেসব কারণে মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়, এর মধ্যে ‘পিঠে ব্যথা’ অন্যতম। আর যত কারণে অপারেশন করার প্রয়োজন হয়, এর মধ্যে তৃতীয় কারণ হচ্ছে এই রোগ।

পিঠের ব্যথা অনেক কারণেই হতে পারে। তবে তুচ্ছ অনেক দৈনন্দিন অভ্যাসের জন্যও এ ব্যথা হতে পারে। আর সেসব বিষয়ে সাবধান থাকলে এ ব্যথার হাত থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

দীর্ঘ সময় কুঁজো হয়ে বসে থাকা: চেয়ারের ওপর বাঁকা হয়ে বসলে বুকের মাংসপেশিতে চাপ পড়ে। ফলে কাঁধ সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। আর বাঁকা হয়ে বসলে শক্তির অপচয় হয়। যার ফলে পিঠে ও ঘাড়ে ব্যথা হয়। এ ক্ষেত্রে ৯০ ডিগ্রি কোণ করে ও চেয়ারের চাকার কাছাকাছি বসার চেষ্টা করুন। তাহলে আর বাঁকা হয়ে বসতে হবে না। তা ছাড়া অনেক মানুষই জানে না যে, পা ছড়িয়ে বসার কারণে পিঠ সঠিক অবস্থানে থাকে না।

কাজের ফাঁকে বিরতি: কাজ করার সময় সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রাখার কথা অনেকেই ভাবেন না। কাজের ফাঁকে নিয়মিত বিরতি নেওয়ার অভ্যাস না করলে পিঠে ব্যথা ও পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৩৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে বসে কাজ করলে মেরুদণ্ডের মধ্যবর্তী জায়গা কম সংকুচিত হবে। তা ছাড়া আধা ঘণ্টা পরপর কিছুক্ষণের জন্য উঠে দাঁড়ালে এবং হাঁটাহাঁটি করলে উপকার পাওয়া যায়।

মানসিক চাপ: দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র মানসিক যন্ত্রণাও পিঠ ব্যথার অন্যতম কারণ হতে পারে। মানসিক চাপে ভুগলে পেশি, ঘাড় ও পিঠে চাপ পড়ে।

পুরাতন তোশক: একটি ভালো তোশক সাধারণত ৯-১০ বছর টিকে থাকে। তবে ঠিকভাবে ঘুমাতে না পারলে বা পিঠে অস্বস্তি হলে পাঁচ থেকে সাত বছর অন্তর তোশক পরিবর্তন করা উচিত। যারা পাঁচ বছর অন্তর তোশক পরিবর্তন করেন তাদের পিঠে তুলনামূলক কম ব্যথা হয়। এ ক্ষেত্রে বেশি শক্ত নয় আবার বেশি নরমও নয়, এমন তোশক ব্যবহার করতে হবে। শক্ত তোশকে ঘুমালে মেরুদণ্ডে বেশি চাপ পড়ে ব্যথা হতে পারে।

ভারী ব্যাগ: কাঁধে প্রতিদিন ভারী ব্যাগ বহন করলে পিঠে ব্যথা হতে পারে। কারণ ভারী ব্যাগ কাঁধের ভারসাম্য নষ্ট করে। এ ক্ষেত্রে হালকা ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। তা ছাড়া ব্যবহৃত ব্যাগের ওজন শরীরের ওজনের তুলনায় কোনোভাবেই ১০ শতাংশের বেশি হওয়া যাবে না। পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভাগ করে দুই ব্যাগে নেওয়া যেতে পারে।

বেশি উঁচু বা বেশি নিচু জুতা: হাই হিল পরলে পিঠ বাঁকা হয়ে থাকে। ফলে মেরুদণ্ডে চাপ সৃষ্টি করে। জুতার হিলের উচ্চতা ঠিক না হলে পায়ের ক্ষতি করতে পারে, যা পরে পিঠ ব্যথার কারণ হয়। অন্যদিকে ফ্ল্যাট স্যান্ডেল শরীরের ওজনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং ব্যথার সৃষ্টি করে।এ ক্ষেত্রে পায়ের জন্য আরামদায়ক ফ্ল্যাট জুতা বা স্নিকারস পরা যেতে পারে। আর ফ্যাশনেবল জুতাও বাদ দেওয়ার দরকার নেই। শুধু অনেক দূর হাঁটতে হবে এমন কোনো জায়গায় যাওয়ার সময় হিল পরা বাদ দিন।

বাইক চালানো: যদি মোটরসাইকেল বা সাইকেল চালানো শুরু করার পর পিঠে ব্যথা দেখা দেয়, তবে এ বাহন সমন্বয় করতে হতে পারে। ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ বাইকার পিঠে ব্যথা অনুভব করেন। সাধারণ সাইকেলের ক্ষেত্রে ঊরুসন্ধি থেকে হ্যান্ডেল বার এক থেকে দুই ইঞ্চি সামনে থাকবে। আর মাউন্টেইন বাইকের ক্ষেত্রে তিন থেকে ছয় ইঞ্চি সামনে থাকবে। প্যাডেল নিচে থাকলে সিটে বসা অবস্থায় পায়ের অবস্থান হতে হবে ঘড়িতে ৬টা বাজা কাঁটার মতো। বাইকের হাতল ধরার ক্ষেত্রে কনুই অল্প বাঁকবে। তবে হাতে কোনো রকম চাপ পড়লে বুঝতে হবে, সমস্যা আছে।

সঠিক নিয়ম মেনে চলুন, পিঠ ব্যথামুক্ত জীবন যাপন করুন। মনে রাখবেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম পন্থা।

লেখক: চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ঢাকা