হত্যার বিচার চাই না: দীপনের বাবা


351 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হত্যার বিচার চাই না: দীপনের বাবা
অক্টোবর ৩১, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডেস্ক :
লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর মালিকসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত হওয়ার খবর টেলিভিশনে দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনের স্বজনরা।

এরপর তার মোবাইলে ফোনে বারবার কল করেও দীপনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন। পরে দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক সাড়ে চারটার দিকে আজিজ সুপার মার্কেটের তিন তলায় ১৩১ নম্বর রুমের সামনে যান। সেটি  তার  ছেলের কার্যালয়। ওই সময় তিনি কার্যালয়ের দরজা খুলতে গিয়ে বন্ধ পান। এ সময় কাচের দরজা দিয়ে ভেতরে আলো জ্বলতেও দেখেন। ছেলে বাইরে গেছে ভেবে তখন তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে ছেলের বউও তাকে ফোন করে লালমাটিয়ায় তিনজকে কুপিয়ে আহত করার বিষয়টি জানান। তিনি জানান দীপনকে ফোনে পাচ্ছেন না। এরপর লোকজন নিয়ে আবার জাগৃতি কার্যালয়ে গিয়ে দরজা ভেঙে দেখেন, দীপনের রক্তাক্ত নিথর দেহ মেঝেতে উপুর হয়ে পড়ে আছে।  এরপর দ্রত তারা পুলিশকে খবর দেন। শাহবাগ থানা পুলিশ দীপনকে উদ্ধার করে পৌনে সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার গলার পেছনে ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রর গভীর জখমের চিহ্ন রয়েছে। পুরো শরীর ছিল রক্তে ভেজা। ।

দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, শনিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ছেলে তার সঙ্গেই বাসায় ছিলেন। পরে তিনি শাহবাগে তার প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানে যান। এরপর খোঁজ নেওয়ার জন্য তিনি কয়েকবার  ছেলেকে ফোন করেও পাননি।  পরে আজিজ সুপার মার্কেটের তার ছেলের কক্ষের তালা ভাঙার পর দেখেন রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে আছে।  তিনি আরও বলেন, অভিজিতের বই জাগৃতি থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এ কারণে হুমকি ছিলো। উগ্র মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর বাইরে তার ছেলের কেনো শত্রু থাকার কথা তার জানা নেই। তিনি আরও বলেন, ‘হত্যার বিচার চাই না। মানুষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক এটাই চাই।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি মুনতাসিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, প্রায় একই সময়ে লালমাটিয়া ও আজিজ সুপার মার্কেটে হামলা হতে পারে। দু’টি ঘটনার ধরন ও আলামতের  কিছু মিল রয়েছে। এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

দীপনের স্ত্রী ডা. রাজিয়া রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের চিকিৎসক। স্বামী ও দুই সন্তান রিদান ফারহান ও হৃদমাকে নিয়ে তিনি হলের কোয়ার্টারে থাকতেন। আর দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক পরীবাগে বসবাস করেন।

শনিবার শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে নিজ কার্যালয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হল দীপনকে।  প্রায় একই সময়ে একই কায়দায় লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলসহ তিনজন লেখক ও ব্লগারকে কুপিয়ে ও গুলি করে গুরুতর আহত করা হয়। অন্য দু’জন হলেন-তারেক রহিম ও রণদীপম বসু। তাদের মধ্যে টুটুল ও তারেক আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দু’টি ঘটনায় দুর্বৃত্তরা হামলার পর কক্ষের বাইরে থেকে দরজা তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায়।