হরিণের চামড়ার উপর দাঁড়িয়ে সৌম্যের বিয়ের আশীর্বাদ : দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা


1574 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হরিণের চামড়ার উপর দাঁড়িয়ে সৌম্যের বিয়ের আশীর্বাদ : দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০ খেলা জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

কাল বিয়ে, বৌ-ভাত শুক্রবার, সব আয়োজন সম্পন্ন

বিশেষ প্রতিনিধি :
জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার সৌম্য সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার মধ্যরাতে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন। খুলনা ক্লাব মিলনায়তনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আগামি ২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে সাতক্ষীরা জেলা শহরের অদূরে একটি বাগান বাড়িতে আয়োজন করা হয়েছে বৌ-ভাত অনুষ্ঠানের। দুই হাজার অতিথি বৌ-ভাত অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রন কার্ড পেয়েছে। বিয়ে উপলক্ষে সৌম্য সরকারের সাতক্ষীরার বাড়িতে এখন সাজ সাজ রব।

এদিকে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা জেলা শহরের মধ্যকাটিয়াস্থ বাড়িতে সৌম্য সরকারের বিয়ের আশীর্বাদ অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে আসন হিসেবে ব্যবহার করা হয় একটি “হরিণের চামড়া”। যার ওপর দাঁড়িয়ে ও বসে আশীর্বাদের সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। আর এই আশীর্বাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা আলোচনা, সমালোচনা। তবে সৌম্য সরকারের পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে পারিবারিক ঐহিত্য হিসেবে বলা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট হরিণের চামড়ার বাড়িতে রাখা এবং এই চামড়ার উপর দাঁড়িয়ে বা বসে আর্শিবাদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার বিষয়টি অপরাধ কি-না তা খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে ‘আমরা তদন্ত শুরু করেছি ও প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। বিস্তারিত জেনে তদন্তের পর দোষী প্রমাণিত হলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’- জাতীয় দলের ক্রিকেটার সৌম্য সরকারের বিয়ের আশীর্বাদের ছবি দেখে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের পরিচালক এসএম জহির উদ্দিন আকন এ মন্তব্য করেন। সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেন, ‘ছবিতেই প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন যদি তারা এ চামড়া রাখার পক্ষে কোনো লাইন্সেন্স দেখাতে পারে, তবে সেটা বৈধ নয়তো এটা অবৈধ। অবৈধ্য হলে শাস্তি পেতে হবে।’

এদেিক চামড়াটি হরিণের স্বীকার করে সৌম্য সরকারের বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা কিশোরী মোহন সরকার বলেন, ‘হরিণের চামড়াটি সৌম্যর দাদার কাছ থেকে পাওয়া। সেখান থেকে আমাদের বাসায় রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য হিসেবে। সৌম্যের আশীর্বাদের আসন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে চামড়াটি।তিনি বলেন আমার বাবা ও আমার বিয়েতেও এই হরিণের চামড়াটি একই ভাবে ব্যবহ্নত হয়েছিল’। বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার পক্ষে কোন লাইসেন্স রয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখন ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলবো।’
বন্যপ্রাণী রক্ষায় কাজ করে সেভ ওয়াইল্ড লাইফ। বন্যপ্রাণীর কোনো অংশবিশেষ রাখার জন্যও তাদের মাধ্যমে লাইসেন্স নিতে হয়।

খুলনার সেভ ওয়াইল্ড লাইফের বন কর্মকর্তা মদিনুল আহসান বলেন, ‘হরিণের চামড়া রাখার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছি।’

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের ধারা ৬ অনুযায়ি লাইসেন্স ও পারমিটপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো কাছে কোনো বন্যপ্রাণী, বন্যপ্রাণীর অংশ পাওয়া যায় অথবা তা থেকে উৎপন্ন দ্রব্য ক্রয়, বিক্রয়, আমদানি-রপ্তানি করেন, আর যদি অপরাধ প্রমাণিত হয় তাহলে সর্বোচ্চ এক বছরের সাজা অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তিন বছরের সাজা অথবা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
সৌম্যর হবু স্ত্রীর নাম প্রিয়ন্তি দেবনাথ পুঁজা। বয়স ১৯ বছর । তার পিাতার নাম গোপাল দেবনাথ, পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। কনে প্রিয়ন্তি দেবনাথ পুঁজা ঢাকার একটি ইংলিশ মিডিয়াম কলেজ থেকে এ বছর ‘ও’লেভেল পরীক্ষা দিয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি খুলনা শহরের টুটপাড়াতে। বর্তমানে পিতার সাথে বসবাস করেন ঢাকাতে। তিন বোনের মধ্যে প্রিয়ন্তি দেবনাথ পুঁজা সবার ছোট।

এদিকে, সৌম্য সরকারের বিয়েকে ঘিরে তার বাড়িতে সাজ সাজ রব। সৌম্য সরকারের ঘনিষ্টজনেরা জানায়, বেশ আগে থেকেই পুঁজার সাথে তার জানাশুনা। সৌম্য সরকারের পিতা কিশোরী মোহন সরকার বলেন, সৌম্য-পুঁজার সম্পর্কের বিয়ে হলেও পারিবারিক সম্মতিতে এই বিয়ে হচ্ছে।