হলফনামার তথ্য : আয় বেশি মিঠুর, চিশতির টাকা বেশি, সবচেয়ে কম সম্পদ আক্তারুলের


376 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হলফনামার তথ্য : আয় বেশি মিঠুর, চিশতির টাকা বেশি, সবচেয়ে কম সম্পদ আক্তারুলের
ডিসেম্বর ১২, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
সাতক্ষীরার দুই পৌরসভার ৮ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে নগদ টাকা বেশি তাসকিন আহমেদ চিশতির, আর আয় বেশি মিঠু খানের। মিঠু খানের মাসিক আয় ২ লাখ টাকা। আর চিশতির রক্ষিত আছে ১ কোটিও বেশি নগদ টাকা। অন্যদিকে সবচেয়ে গরীব প্রার্থী কলারোয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আক্তারুল ইসলাম। তার সম্পত্তির মূল্য মাত্র সাড়ে ৬ লাখ টাকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাদাৎ হোসেনের বার্ষিক কৃষি খাতে আয় ১ লাখ ১৫ হাজার, বাড়ি ভাড়া আয় ৬০ হাজার, অন্যন্য আয় ৯৫ হাজার। তার কাছে বর্তমানে নগদ আছে ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা, একটি মটর সাইকেল, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ২০ হাজার টাকা ও আসবাপত্র ৫০ হাজার টাকার। তার সম্পত্তির মধ্যে আছে ২৫ বিঘা কৃষি জমি, অকৃষি জমি সাড়ে ১৩ শতক, পুরাতন দুটি দোতলা বাড়ি আছে। অন্যদিকে তার কোন দায় দেনা নেই।
বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক তাসকিন আহমেদ চিশতীর ঠিকাদারী ব্যবসা হতে বাৎসরিক আয় ১৫ লাখ ৭২ হাজার ৬৫ টাকা, নিজ নামে নগদ আছে ১ কোটি ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। একটি প্রাইভেট কার আছে যার মূল্য ১২ লাখ ২০ হাজার, ১২ ভরি স্বর্ণ, পুরাতন আসবাপত্র ২০ হাজার টাকার, দালাল ও আবাসিক ভবন আছে ২০ হাজার টাকা। একটি তিন তলা ভবনের অর্ধেক অংশীদার তিনি। এই মেয়র প্রার্থী একটি বেসরকারি ব্যাংকে ২২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দেনা আছেন।
স্বতন্ত্র্য প্রার্থী হিসেবে জেলা যুবদলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক নাছিম ফারুক খান মিঠুর বার্ষিক কৃষি খাত থেকে আয় ৭৫ হাজার টাকা, তবে তার উপর নির্ভরশীলদের এ খাতে আয় ৩০ হাজার টাকা। ব্যবসা হতে বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭০ টাকা, নির্ভরশীলদের এ খাতে আয় ৩ লাখ টাকা, মৎস্য ঘের থেকে আয় ১০ লাখ, চিংড়ি হ্যাচারী থেকে আয় ৫ লাখ টাকা। তার কৃষি জমি আছে সাড়ে ৪ একর, অকৃষি জমি ৫ শতক। তার নগদ টাকার পরিমাণ ২৩ লাখ ২৪ হাজার, স্ত্রীর নামে ৬ লাখ, ব্যাংকে জমা আছে ৫ লাখ ১৬৮ টাকা, স্ত্রীর নামে ৪৩ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে, পোস্টাল সেভিং সার্টিফিকেটে বিনিয়োগ ১ লাখ, স্বর্ণ (অন্যান্য গহনা সহ) আছে ২০ ভরি, স্ত্রীর ১০ভরি ছাড়াও বাসায় ইলেকট্রনিক্স ও আসবাপত্র আছে। তবে এই মেয়র প্রার্থী একটি বেসরকারি ব্যাংকে ৪০ লাখ টাকা ঋণ আছে।
জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী জেলা জাপার সভাপতি শেখ আজহার হোসেনের বার্ষিক কৃষি খাতে আয় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া পান ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ১৯ লাখ ২ হাজার ৪৯৬ টাকা। এই প্রার্থীর নগদ টাকা আছে ৭০ লাখ ৫২ হাজার ১০৭ টাকা, ব্যাংকে জমা আছে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৯৩ টাকা। স্ত্রীর ১০ ভরি স্বর্ণ ছাড়াও একটি মটর সাইকেল, কৃষি জমি ২০ বিঘা, অকৃষি জমি ১০ শতক ও একটি তিন তলার বাড়ির মালিক তিনি। একটি বেসরকারি ব্যাংকে সিসি লোন আছে ৬০ লাখ টাকার।
কলারোয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম লাল্টুর বার্ষিক ব্যবসা থেকে আয় ৮৫ হাজার টাকা। নগদ টাকা আছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৫৫ টাকা। তার ব্যবহৃত মটর সাইকেলের মূল্য ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, পুরাতন জিনিসের মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, কৃষি জমি আছে ১১ শতক ও একটি বাড়ি আছে।
বিএনপি মনোনীত প্রাক্তন ছাত্রদল সভাপতি গাজী মো. আক্তারুল ইসলামের বার্ষিক ব্যবসা থেকে আয় ৯০ হাজার টাকা, নগদ আছে ৫০ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ৫ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা আছে ৫ হাজার, স্ত্রীর ১০ ভরি স্বর্ণ, তার জমি আছে দশমিক ১৭ একর। এ ছাড়াও বাড়িতে টিভি, ফ্রিজ ও আসবাপত্র আছে।
জাতীয় পার্টির এম মনসুর আলীর বার্ষিক কৃষি খাতে আয় ৩০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্ত্রীর আয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার নগদ টাকা আছে ৫০ হাজার, স্ত্রীর ২০ হাজার, ব্যাংকে জমা ৩ হাজার, স্ত্রীর ৫ হাজার, স্বর্ণ ও ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র আছে ৯০ হাজার টাকার। এই মেয়র প্রার্থীর নামে কৃষি জমি আছে ৫ বিঘা, অকৃষি জমি ১ বিঘা আছে। একতলা দোকান ও দোতলা বাড়ি আছে তার। তিনি একটি ব্যাংকে ৭৩ হাজার টাকা ঋণ আছে।
মেয়র প্রার্থী আরাফাত হোসেনের নগদ টাকা আছে ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা আছে ২৬ লাখ ২০ হাজার টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণ আছে, অকৃষি জমি আছে সাড়ে ১৬ শতক।