হলফনামার তথ্য : ব্যবসায়ী-৭, গৃহিনী-৭, চাকরিজীবী-২


400 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হলফনামার তথ্য : ব্যবসায়ী-৭, গৃহিনী-৭, চাকরিজীবী-২
ডিসেম্বর ১৪, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক:
জেলার দুই পৌরসভায় সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ১৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ব্যবসায়ী ৭ জন, গৃহিনী ৭ জন ও চাকুরিতে আছেন মাত্র ২ জন প্রার্থী। প্রার্থীদের মধ্যে আয় বেশি মমতাজ সুলতানার। তবে আয় নেই কামরুন্নাহার ও সন্ধ্যা রানীর । তবে সম্পত্তি বেশি নূর জাহান বেগমের। তবে সাতক্ষীরা পৌরসভার ১০ জন প্রাথীর মধ্যে সম্পত্তি বেশি (১, ২ ও ৩) নং ওয়ার্ডের মমতাজের আর সম্পদ কম আছে (৭, ৮ ও ৯) নং ওয়ার্ডের গুলশান আরার। অন্যদিকে কলারোয়া পৌরসভায় বেশি সম্পদের মালিক (৭, ৮ ও ৯) নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শাহানাজ খাতুন কম সম্পদের মালিক (৪, ৫ ও ৬) নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সন্ধ্যা রানী বম্মন। নির্বাচন কমিশনের জমা দেওয়া প্রাথীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানায়, প্রার্থীরা তাদের হলফনামায় তথ্য গোপন করে সম্পদ অনেক কম দেখিয়েছে।
প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাতক্ষীরা পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের (১, ২ ও ৩) নং ওয়ার্ডের মমতাজ সুলতানার বার্ষিক ব্যবসা থেকে আয় ৩ লাখ ৩০ হাজার,  তার নগদ টাকা আছে ২০ হাজার, স্বামীর আছে ৫ হাজার, ব্যাংকে আছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়াও স্বর্ণ ও আসবাপত্র আছে এই প্রার্থীর।
এই ওয়ার্ডের অন্যতম প্রাথী ও বর্তমান কাউন্সিলর জোৎ¯œা আরার ব্যবসা থেকে আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সম্মানী ভাতা ৬০ হাজার টাকা, তার নগদ টাকা আছে ৫ হাজার, স্বামীর নামে ১০ হাজার, ব্যাংকে জমা ১০ হাজার, স্বামীর নামে ৬০ হাজার টাকা। তবে তার ১০ ভরি স্বর্ণ, আসবাপত্রও আছে।
এই ওয়ার্ডের অন্যতম প্রার্থী নূর জাহান বেগমের বার্ষিক ব্যবসা থেকে আয় ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। তার কাছে নগদ আছে ৯০ হাজার টাকা, ব্যাংকে আছে ৫ হাজার টাকা, স্বর্ণ আছে ১০ ভরি, স্বামীর মটর সাইকেলসহ টেলিভিশন ফ্রিজ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস আছে।
অন্যদিকে কাউন্সিলর প্রার্থী রওশন আলীর বার্ষিক আয় ব্যবসা থেকে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। তার নগদ আছে ২০ হাজার ও স্বামীর আছে ৫০ হাজার টাকা। তার ৪ ভরি স্বর্ণ, স্বামীর মটর সাইকেল ও টিভি-ফ্রিজ আছে।
সংরক্ষিত আসনের (৪, ৫ ও ৬) নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর ফরিদা আক্তার বানুর বার্ষিক কৃষি খাত থেকে আয় ১ লাখ ৬০ হাজার, ভাতা ৬০ হাজার টাকা। তার কাছে নগদ আছে ২ লাখ ৩৩ হাজার, স্বামীর ১৫ হাজার, ব্যাংকে আছে ১৭ হাজার, স্বামীর ২২ হাজার ও একটি মটর সাইকেল আছে। তার গহনা ও আসবাপত্র আছে লক্ষাধিক টাকার।
এই ওয়ার্ডের অন্যতম কাউন্সিলর প্রার্থী অনিমা রানী মন্ডলের বার্ষিক চাকুরি থেকে আয় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তার কাছে নগদ আছে ৭০ হাজার, ডিপিএস আছে ১ লাখ টাকা, ৮ ভরি স্বর্ণসহ টিভি ও ফ্রিজ আছে তার।
সংরক্ষিত আসনের (৭, ৮ ও ৯) নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থী ফারহা দীবা খান সাথীর বার্ষিক কৃষি খাতে আয় ৩০ হাজার, চাকুরি থেকে আয় ১ লাখ ৫০ হাজার, ভাতা বাবদ আয় ৬০ হাজার টাকা। এই প্রাথীর নগদ টাকা আছে ৩০ হাজার, ব্যাংকে জমা আছে ১০ হাজার টাকা। তার টিভি ফ্রিজ ছাড়াও আছে কৃষি জমি ৫ বিঘা, অকৃষি জমি ২ দশমিক ৫ বিঘা ও একটি দোতলা বাড়ি আছে।
এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী গুলশান আরার বাড়ি ভাড়া বাবদ আয় ৯৬ হাজার টাকা। তার নামে নগদ ২০ হাজার টাকা ও এক ভরি স্বর্ণ আছে। স্বামীর মটর সাইকেল ও আসবাপত্র আছে।
অপর প্রার্থ কামরুন্নাহারের কোন আয় না থাকলেও নগদ টাকা আছে ৩০ হাজার, ব্যাংকে জমা আছে ২০ হাজার, সেভিং সার্টিফিকেট আছে ১ লাখ ও গহনা আছে ৪০ হাজার টাকার।
অন্যতম প্রার্থী শহর বানুর বার্ষিক কৃষি খাতে আয় ২ লাখ ১০ হাজার, ব্যবসা থেকে আয় ২ লাখ ৪০ হাজার। তার কাছে নগদ টাকা ২০ হাজার, স্বামীর ৩০ হাজার, ব্যাংকে আছে ৪ হাজার, স্বামীর ২০ হাজার টাকা। এছাড়াও ২ ভরি স্বর্ণসহ আসবাপত্র আছে।
অন্যদিকে কলারোয়া পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা আসনের (১, ২ ও ৩) নং ওয়ার্ডে একমাত্র কাউন্সিলর পদে ফারহানা হোসেনের বাষিক কৃষি খাতে আয় ৬ হাজার, বাড়ি ভাড়া থেকে আয় ৩০ হাজার টাকা। তার কাছে নগদ আছে ১০ হাজার, ব্যাংকে আছে ৫০ হাজার টাকা। তার অকৃষি জমি আছে ২ বিঘা ও একটি দোতলা বাড়ি আছে।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের (৪, ৫ ও ৬) নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সন্ধ্যা রানী বম্মনের আয় না থাকলেও নগদ আছে ৫ হাজার, স্বামীর আছে ১ হাজার টাকা, ব্যাংকে আছে ১০ হাজার ৭০০ টাকা। তার গহনা আছে ৫ ভরি, আসবাপত্র ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর মুল্য দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।
এই ওয়ার্ডের অন্যতম প্রার্থী সেলিনা পারভীনের বার্ষিক আয় কৃষি খাত থেকে ১০ হাজার টাকা, ব্যাংকে আমানত ৩০ হাজার টাকা। তার নগদ টাকা আছে ১৬ হাজার, স্বামীর ৫০ হাজার, ব্যাংকে আছে ৬ হাজার, সঞ্চয়পত্র আছে ৩ লাখ টাকার। তার ৮০ হাজার হাজার টাকার ১০ ভরি অলংকার ও লক্ষাধিক টাকার আসবাপত্র আছে।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের (৭, ৮ ও ৯) নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী দিথীর বার্ষিক আয় কৃষি খাতে আয় ৬০ হাজার টাকা। তার নগদ আছে ১২ হাজার, ব্যাংকে আছে ১ লাখ টাকা। এই প্রার্থীর ৩ ভরি গহনার দাম ১৯ হাজার টাকাসহ লক্ষাধিক টাকার আসবাপত্র আছে।
এই ওয়ার্ডের অন্যতম প্রার্থী লুৎফুন নেছার বার্ষিক আয় ব্যবসা থেকে ৪০ হাজার টাকা। নগদ আছে ৪০ হাজার টাকা। স্বামীরও ৪০ হাজার টাকা ও ১০ ভরি গহনা আছে।
এবং কাউন্সিলর প্রার্থী শাহানাজ খাতুনের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা। নগদ আছে ১ লাখ ১০ হাজার, ১০ ভরি গহনাসহ ৫৫ হাজার টাকার জিনিসপত্র আছে।
সূত্র জানায়, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের আয়ের তথ্য গোপন করে হলফনামা দাখিল করেছে। ফলে তাদের আয়ের প্রকৃত চিত্র উঠে আসে নি।