হাঁসের খামার করে সাবলম্বি আসাদুল


2305 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হাঁসের খামার করে সাবলম্বি আসাদুল
জুলাই ৫, ২০১৫ সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

গোলাম সরোয়ার :
ক্যাম্বেল হাঁসপালন খামার করে সাবলম্বি হয়েছেন সাতক্ষীরার যুবক শেখ আসাদুল ইসলাম (২৫)। কিছুদিন আগেও পড়ালেখাসহ নিজের হাত খরচের জন্য বাবা মায়ের কাছে ধর্না দিতে হতো। আজ সে প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার উপার্জন করছে হাঁস পালনের মাধ্যমে। বর্তমান তার খামারে প্রায় ৪ শতাধিক ক্যাম্বেল হাঁস রয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কদমতলা এলাকার খামারী শেখ আসাদুল ইসলাম বলেন, খুব কষ্ট করে ্এইচএসসি পাশ করার পর আর পড়ালেখা করা সম্ভব হয়নি। আশ পাশে ছোটখাটো কোনো চাকরীর জন্য চেষ্টার পর স্থানীয় এক ব্যক্তির পরামর্শে নিজের জমিতে ক্যাম্বেল হাঁস পালনের খামার করে ২০১৩ সালের দিকে। প্রথমে খুলনার দৌলতপুর এলাকা থেকে ১০০ টি হাঁসের বাচ্চা এনে তা পালন করে এক বছর পর ডিম এবং হাঁস বিক্রি করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ হয় তার। আসাদুল ইসলাম জানায়, এর পরের বছর ওই ৮০ হাজার টাকা পুরোটাই বিনিয়োগ করে ৩০০ হাঁস উঠায় তার খামারে। এসব হাঁস একনাগাড়ে ডিম দেয়া শেষ করলে তা বিক্রি করে দিয়ে পুনরায় হাঁস উঠায় তার খামারে। এখন প্রতি মাসে তার খামারে মুনাফা হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার। আসাদুল ইসলাম আরো জানায়, বর্তমান ডিম উৎপাদনের পাশাপাশি তার খামারে একদিনের বাচ্চা এনে নার্সিং করে ৩ থেকে ৪ মাস পর বিক্রি করে দেয়া হয়। এতে খরচ কম লাভ বেশি। আগামীতে নিজেই হাঁসের বাচ্চা ফুটানোর হ্যাচারী করবে বলে আশা করছে এই যুবক। তবে আসাদুল ইসলামের দেখা দেখি তার কাছ থেকে অনেকেই বাচ্চা কিনে খামার করছে বলেও জানায় সে।
একই উপজেলার কাকডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রশিদ জানান, গত ৫ বছর ধরে তিনি হাঁস পালন খামার করে তাতে ডিম উৎপাদন করে আসছেন। তিনি বলেন, প্রতি মাসে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা উপার্জন হয় তার এই খামার থেকে। এর আগে ধান চালের ব্যবসা করে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লোকসান করে পুজিপাট্রা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ের স্থানীয় এক সমিতির মাধ্যমে এক লাখ টাকা ঋন নিয়ে হাঁস পালনের খামার করেন তিনি। বর্তমান তার খামারে ২ শতাধিক হাঁসের মধ্যে নিয়মিত ভাবে ১৫০ টি হাঁস ডিম দেয়। প্রতি এক‘শ ডিম পাইকারী বিক্রি করেন ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ দরে। মাসে গড়ে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা মুনাফা হয় খামারের উৎপাদন খরচ বাদে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সুত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে ছোট বড় মিলে প্রায় দেড় থেকে ২ শতাধিক হাঁস পালন খামার রয়েছে। এসব খামার লাভজনক হওয়ায় পর্যাক্রমে এর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান সুত্রটি। সংশ্লিষ্ট সুত্রটি আরো জানান হাঁস পালনের উপর প্রশিক্ষন নিয়ে অল্প পুজি বিনিয়োগ করে অনেকেই লাভবান হচ্ছে এধরনের খামার করে
জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের উপ-পরিচালক ডাক্তার শিশির কুমার জানান, হাঁস পালন খামার খুবই লাভজনক। এতে ঝুকিও কম থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকাতে ছোট বড় এসব খামার গড়ে উঠছে। তিনি বলেন, খামারীদের টিকিয়ে রাখা বা আরো উৎসাহ যোগাতে জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া ডাগপ্লে সহ অন্যান্য সব ধরনের ভ্যাকসিন বা ঔষধ সরবরাহ করা হয়ে থাকে খামারীদের। তিনি আরো বলেন, যে কেউ হাঁস পালনের উপর প্রশিক্ষন নিয়ে খামার করে লাভবান হতে পারে।