হাজী নাছির উদ্দিন কলেজের পাঁচ শিক্ষকের নামে নাশকতার মামলা : প্রত্যাহারের দাবি


1471 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হাজী নাছির উদ্দিন কলেজের পাঁচ শিক্ষকের নামে নাশকতার মামলা : প্রত্যাহারের দাবি
এপ্রিল ৯, ২০১৭ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ মাহাবুব ও আশরাফুল আলম ::
যশোর বিমান বন্দরে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে কোতয়ালী থানায় দায়ের করা নাশকতার মামলায় সাতক্ষীরার কলারোয়া হাজী নাছির উদ্দীন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ পাঁচ শিক্ষকের নাম অর্ন্তভূক্ত করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা বাকশিস নেতৃবৃন্দ। তারা ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে দায়ের করা ওই মিথ্যে মামলার দায় থেকে পাঁচ শিক্ষককে অব্যহতি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। রোববার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান জেলা বাকশিস সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাতক্ষীরার কলারোয়া হাজী নাছির উদ্দীন কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘ দিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত। কলেজের ১২ জন শিক্ষক গত ১৮ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য, এ্যাডঃ মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাবেক শিক্ষা সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম খান ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিন এর নেতৃত্বে কলেজের বিভিন্ন জটিলতা নিরসনের চেষ্টা করছেন। কলেজের বিভিন্ন জটিলতা নিরসনের চেষ্টার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠাতার সাথে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যকার দূরুত্ব কমিয়ে আনার যখন চেষ্টা চলছে ঠিক সেই মুহুর্ত্বে একটি কুচক্রি মহল মিমাংশা প্রচেষ্টাটি যাতে ভেস্তে যায় সেই উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে যশোর বিমান বন্দরে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে গত ১ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় দায়ের করা নাশকতার মামলায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল আলীম, সহকারি অধ্যাপক মোঃ আবুল বাসার, প্রভাষক মোঃ মুহাসিন রেজা, প্রভাষক মোঃ আল মামুন, সহকারি অধ্যাপক মোঃ হারুন অর রশিদকে আসামী শ্রেণীভূক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। তারা কোন নাশকতার সাথে জড়িত হতে পারেনা। যশোর বিমান বন্দর দেশের একটি গুরুত্বপূর্ন সম্পদ। কেউ যদি এই সম্পদের ক্ষতিসাধন করতে চায় তবে বিবেকবান মানুষ হিসাবে আমরা কখনও তা সমর্থন করিনা। কিন্তু উক্ত ঘটনার সাথে হাজী নাছির উদ্দিন কলেজের শিক্ষকদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। ইতিপূর্বে তাদের কারও নামে কোন মামলা ছিল না। কলেজকে কেন্দ্র করে তার সম্পূর্ন ষড়যন্ত্রের শিকার।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি কুচক্রি মহল হাজী নাছির উদ্দীন কলেজের শিক্ষকদের সুনাম ও ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে নিবেদিত প্রাণ শিক্ষকদের নাম এধরনে নাশকতার মামলায় অর্ন্তভূক্ত করিয়েছে। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এনাম সাহেবের অদৃশ্য হস্তক্ষেপে শিক্ষকদের নামে এই মিথ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি(বাকশিস) সাতক্ষীরা জেলা ও কলারোয়া উপজেলার শাখার পক্ষ থেকে এঘটনার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মিথ্যে নাশকতার মামলার দায় থেকে শিক্ষকদের অব্যহতি প্রদানের দাবি জানান। এব্যপারে  তিনি যশোর পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সীমান্ত আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান, হাজী নাছির উদ্দিন কলেজের সহকারি অধ্যাপক শফিউর রহমান, শিক্ষক প্রতিনিধি সহকারি অধ্যাপক মশিউর রহমান, শিক্ষক নুরুজ্জামান ও শিক্ষক জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।