হাত ভাঙা ও মুখে রক্ত লেগেছিল আফরোজার !


397 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হাত ভাঙা ও মুখে রক্ত লেগেছিল আফরোজার !
সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

নলতায় শ্বাশুড়ীর হাতে পুত্রবধু হত্যা মামলা

সোহরাব হোসেন সবুজ, নলতা ::

ঘটনার দিন ৯ মে বৃহঃবার। বেলা ৩টার দিকে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে দুই শিশু সন্তানের জননীকে পিটিয়ে হত্যার খবর। শোনা যায়, শ্বাশুড়ীর হাতে পুত্রবঁধু হত্যা। লোক জড়ো হতে থাকে পাইকাড়া গ্রামে শাজাহান পাড়ের বাড়ীতে। এটি কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নে। শ্বশুড়-শ্বাশুড়ী পালাতক। ঘরে তালা। পুত্রবঁধু আফরোজা খাতুনের লাশ বারান্দায় শোয়ানো। কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে কিছু তথ্য সংগ্রহ করে লাশ মর্গে পাঠায়। ওদিকে কিছুদিন পর আফরোজার হত দরিদ্র দু ভাই আজমল হোসেন (২৩) ও আবজাল হোসেন (২৭) হাটাহাটি করে সাতক্ষীরার আদালতে একটি মামলা করে। মামলাটি চলমান। আর এখান থেকেই হয় ঘটনার টানাটানি!
সরেজমিনে ও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, নিহত আফরোজার স্বামী মো. আলমগীর হোসেন (৩৩) শাজাহান পাড়ের ছেলে। আলমগীর হোসেন ও আফরোজার বিয়ে হয় সম্পর্কের। যেটি প্রথম থেকেই মেনে নিতে পারেনি আফরোজার শ্বাশুড়ী আলেয়া। এ নিয়ে সংসারে চলত অশান্তি। বৌমা’কে বাপের বাড়ীর থেকে কিছু টাকা আনার কথাও নাকি উঠেছিল শ্বাশুড়ীর মুখে। সব মিলে শ্বাশুড়ী-বৌমা’র ঝগড়াও লাগত থেকে থেকে। পড়শীরা ঠেকাতো। তাদের ঝগড়া ঠেকাতে নাকি পড়শীরা এক সময় নাজেহালও হয়ে পড়ে। শ্বাশুড়ী আলেয়া বদ মেজাজী হওয়ায় পড়শীরা মুখের সামনে কিছু বলতও না। এদিকে আলমগীর হোসেন কাজের জন্য থাকত ভারতের তামিলনাড়–তে। ওখান থেকে টাকা পাঠায় বাড়ীতে। টাকা ওঠায় আফরোজা। এটা শ্বাশুড়ীর কাছে আর এক অসহ্য যন্ত্রনা হয়ে দাঁড়ায়। এভাবে তাদের ঝগড়া ঝাটি, মারধর আর অশান্তি চলতে থাকে। আলমগীরও মাকে থামায় না, প্রতিবাদও করে না। আলেয়ার কথায় তার ছেলে সই। এসবের শেষ হয় আফরোজার মৃত্যুতে।
এ পর্যন্ত তিনবার ঘটনাস্থল পুলিশি তদন্ত হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল সোমবারও ঘটনার তদন্ত করলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এ.এস.আই মনির। তিনিও আফরোজা হত্যা ঘটনার তথ্য ও সত্যতা পেয়েছেন বলে স্বীকার করে বলেন, নিহত আফরোজার লাশ হেফাজতে নিতে গিয়েছিল দারগা আমজাদ, তিনি আফরোজার শরীরের দাগ বা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। পরবর্তিতে আমার দায়িত্বে আসে তদন্তটি। তবে, তার তদন্ত রিপোর্ট জানতে চাইলে তিনি কিছু জানাতে অস্বীকার করেন। আর প্রথম তথ্য সংগ্রহকারী দারগা আমজাদ রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।।
ঘটনার প্রত্যক্ষ দর্শি জাহাঙ্গীর ঢালী, সায়রা, শারাকাতের স্ত্রী, আজমল হোসেন, আবজাল হোসেন, জাহাঙ্গীর ঢালী, লাভলুর স্ত্রী বেদানা খাতুন, বারীর স্ত্রী সাথী সহ অনেকেই জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকেই শ্বাশুড়ী-বৌয়ের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল। দুপুরের পরে দেখা যায় আফরোজার লাশ। আলেয়া ও শাজাহান পালাতক। শ্বাশুড়ী আলেয়ার পরিবার বলছে গলায় দড়ি দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ যেয়ে লাশ পায় বারান্দায় শোয়ানো। তাদের দাবী, মেয়াজান সহ কয়েকজন লাশ নামিয়ে রেখে পুলিশে খবর দেয়। নিহতের ছোট্ট শিশু ছিয়াম জানায়, আম্মু গলায় দড়ি দিয়েছিল। পাশের বাড়ীর লোক লাশ নামায়। কিন্তু আম্মু একটু একটু জ্যান্ত ছিল। এভাবে আসামী আলমগীর হোসেন সহ বিবাদী পক্ষের লোকজনের দাবী, আফরোজা গলায় দড়ি দিয়ে আত্ম হত্যা করেছে। তাকে হত্যা করা হয়নি বলে আসামীরা জানান। কিন্তু কি কারণে আত্ম হত্যা করেছে? প্রশ্নে, তারা কিছু বলতে রাজি হয় না। লাশ কে বা কারা নামিয়ে বারান্দায় রাখছিল? প্রশ্নে, তারা কিছু বলতে চায় না।
এদিকে, আফরোজাকে দাফনের পূর্বে লাশ ধোয়ায় নওয়াপাড়ার শাহিনুর ঢালীর স্ত্রী শেফালী (৩৫), মৃত ওয়াজেদ সরদারের স্ত্রী রাবেয়া (৫০)সহ কয়েকজন। তারা জানান, আমরা আফরোজার লাশ ধোয়ানোর সময় নাকে-মুখে রক্ত লাগা দেখি, তার হাত ভাঙা পাই এবং বুকের স্তন থ্যাতলানো দেখি। হত্যার রহস্য তো এখানেই! কিন্তু সে রহস্যও প্রায় ঢাকা পড়ার পথে। কারণ, আসামী পক্ষ সাতক্ষীরা থেকে ময়না তদন্তের ডাক্তারী রিপোর্ট তো পক্ষে নিয়েছে। এ দেখিয়ে আসামীও জামিন নিচ্ছে আর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে ক্ষোভ করছে নিহতের স্বজনরা। বিভিন্ন হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বাদী পক্ষকে। আর পাগল প্রায় হয়ে কেঁদে বেড়াচ্ছে আফরোজার মা সকিনা খাতুন (৫০)। এখন এ রিপোর্টে হত্যা, নাকি আত্মহত্যা? প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। পুলিশও তদন্তের পর তদন্ত করছে। কারণ হত্যার বেশ কিছু নমুনার তথ্য পেলেও, ওই ডাক্তারী রিপোর্ট তো বলছে আর এক। তাই হয়ত শেষবেশ আফরোজার লাশ পুনরায় ওঠানোর ব্যবস্থা হতে পারে। আবারও করতে হতে পারে পরীক্ষা নিরীক্ষা। না হলে নিহত আফরোজার মুখে রক্ত, পরিহিত কাপড়ে রক্ত, একটি হাত ভাঙা, কাঁধের চামড়া ছেলা, স্তন থ্যাতলানো এসবের রহস্য কি?