হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা


993 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা
অক্টোবর ১২, ২০১৫ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

গোপাল কুমার, আশাশুনি :
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলাটি এখনো বেশ জনপ্রিয়। আবহমানকাল ধরে সাতক্ষীরার আশাশুনিসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে লাঠিখেলা। কিন্তু কালের বিবর্তনে মানুষ ভুলতে বসেছে এ খেলা। বাংলার ঐতিহ্যের অংশ, লাঠি খেলা নিয়ে মানুষের আগ্রহ আছে। কিন্তু লাঠি খেলা নতুন দল তৈরি হচ্ছে না। বিধায় হারিয়ে যেতে বসেছে লাঠি খেলা। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা ঢোল আর লাঠির তালে নাচা নাচি।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষের হাত থেকে আতœরক্ষার কৌশল অবলম্বনের প্রচেষ্টা সম্বলিত টান টান উত্তেজনার একটি খেলার নাম লাঠি খেলা। লাঠি খেলা একটি ঐতিহ্যগত মার্শাল আর্ট, মূলতঃ ঢাকের বাজনা, মার্শাল আর্ট আর লাঠি এই দুইয়ের সংমিশ্রন। লাঠি খেলা’ অনুশীলন কারীকে ‘লাঠিয়াল’ বলা হয়। এই খেলার জন্য ব্যবহৃত লাঠি সাড়ে চার থেকে পাঁচ ফুট লম্বা, প্রায়ই তৈলাক্ত হয়। অত্যাশ্চর্য কৌশলের সঙ্গে প্রত্যেক খেলোয়ার তাদের নিজ নিজ লাঠি দিয়ে রণকৌশল প্রদর্শন করে। শুধুমাত্র বলিষ্ঠ যুবকেরাই এই খেলায় অংশ নিতে পারে। কিন্তু বর্তমানে শিশু থেকে শুরু করে যুবক, বৃদ্ধ সব বয়সের পুরুষেরাই লাঠিখেলায় অংশ নিয়ে থাকেন। লাঠিখেলার আসরে লাঠির পাশাপাশি যন্ত্র হিসেবে ঢোলক, কর্নেট, ঝুমঝুমি ইত্যাদি ব্যবহৃত হয় এবং সঙ্গীতের সাথে চুড়ি নৃত্য দেখানো হয়।
এ ব্যাপারে খেলার ধরন সম্পকে আশাশুনির লাঠি খেলোয়ার দলপতি জানান, বিভিন্ন ধরনের লাঠিখেলা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল সড়কি খেলা, ফড়ে খেলা, ডাকাত খেলা, বানুটি খেলা, গ্রুপ যুদ্ধ, নরি বারী  খেলা এবং দা খেলা (ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপহাস যুদ্ধ) খেলা ইত্যাদি। গ্রামের সাধারণ মানুষেরা তাদের নৈমিত্তিক জীবনের উৎসব-বাংলা বর্ষ বরণ, বিবাহ, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি অনুষ্ঠান উপলক্ষে লাঠি খেলার আয়োজন করে থাকেন। এক্ষেত্রে সাধারণত কোনও লাঠিয়াল দলকে ভাড়া করে আনা হয়। বিগত দশকেও গ্রামাঞ্চলের লাঠি খেলা বেশ আনন্দের খোরাক জুগিয়েছে।
মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছিল এ খেলা। দুর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসত এ খেলা দেখার জন্য। আশাশুনির দলপতি বদর উদ্দীন আমাদের প্রতিবেদনকে জানান, অনেক সময় বিপদের সম্মুখীন হলে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ খেলা জানা থাকলে শত্রু পক্ষের হাত থেকে খালি হাতেও ব্ঁেচে আসা সম্ভব। তিনি আরও জানান আমরা আগে খেলার জন্য বহু জায়গা থেকে খেলা প্রদর্শনের জন্য মানুষ আমাদেরকে ভাড়া করে নিয়ে যেত। কিন্তু এখন মনে হয় মানুষ ভুলে গেছে এ খেলাটিকে। বিভিন্ন জায়গায় মাঝে মাঝে এ লাঠি খেলা দেখা গেলেও তা খুবই নিমিত। খেলাটি দিন দিন হারিয়ে যাওয়ার ফলে এর খেলোয়াড় সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। তৈরি হচ্ছে না নুতন খেলোয়াড়। আর পুরনো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা অর্থাভাবে প্রসার করতে পারছেন না এ খেলা। নির্মল বিনোদনের খোরাক আর গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এ লাঠি খেলাটি আর সচরাচর চোখে পড়ে না। কিন্তু সংস্কৃত মনা মানুষের দাবী অবিলম্বে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করে হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার এ খেলাগুলো চালুর দাবি।