হাল নেই কপিলমুনি-পাইকগাছা সড়কের


352 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হাল নেই কপিলমুনি-পাইকগাছা সড়কের
জানুয়ারি ১৮, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি :
হাল নেই, একেবারেই বেহাল অবস্থা কপিলমুনির গোলাবাড়ী থেকে পাইকগাছা পর্যন্ত ১২ কিঃ মিঃ সড়কের। তবু তো চলতে হবে, তাই এক প্রকার যেন বাধ্য হয়েই জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে কর্মের টানে মানুষের এ ছুটে চলা।

সম্প্রতি সড়কটিতে দু’এক জায়গায় সংস্কারের কাজ হলেও তা যেন গতিহীন। সরেজমিনে দেখাযায়, খুলনা-পাইকগাছা সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হতে না হতেই কপিলমুনির গোলাবাড়ি মোড় থেকে পাইকগাছা বাসস্ট্যান্ড জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে। পিচ, খোঁয়া উঠে তৈরী হয়েছে বড় বড় গর্তের। দীর্ঘদিন সংষ্কার কাজ না হওয়ায় ঐ সকল গর্তে প্রতিদিন শত’ শত যানবাহনের চাকা পড়ে তা প্রসারিত হয়ে বর্তমানে একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এমনটা চলতে থাকলে যে কোন সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে বিচ্ছিন্ন হতে পারে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এমনটাই মনে করছেন জনপদের ভূক্তভোগি লাখ লাখ মানুষ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোটি টাকা ব্যয়ে  রাস্তাটি সংস্কারের মাত্র মাস দু’য়েক পর থেকেই রাস্তার বেহাল দশা শুরু হয়। দক্ষিণ খুলনার অন্যতম প্রধান ব্যস্ততম সড়কটি অল্প দিনেই ফিরে যায় তার পুরনো চেহারায়।

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে শুরু হয়েছে দায় সারা ভাবে সড়ক সংস্কারের কাজ। তবে কাজের ধরণ ও মান নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সোমবার দুপুরে আগড়ঘাটা বাজারে সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্থ সড়কের ছবি আনতে গেলে মোটর সাইকেল যাত্রী আদিল হক বলেন, ‘রাস্তার এমন দশা কখনো দেখিনি মোটর সাইকেল চালাতে গিয়ে কখনো নাট স্ক্রুপ, কখনো নাম্বার প্লেট আবার কখনো পিছনে বসা যাত্রী নিচে পড়ে যাচ্ছে’। ২০১১ সালের আগস্টের দিকে  কপোতাক্ষের পানি বৃদ্ধি ও অতি বর্ষণে সড়কের তালা থেকে পাইকগাছার কাশিমনগর পর্যন্ত এলাকায় ২/৬ ফুট পানির নীচে তলিয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় সকল প্রকার যান চলাচল।

এভাবে কয়েক মাস সারাদেশের সাথে জনপদটি অলিখিত ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সড়কের কোথাও কোথাও পথযাত্রীদের চলাচলে বসানো হয় নৌকা ঘাট। এরপর মৌসুম শেষে পানি কমতে থাকলে শুরু হয় সংষ্কার কাজ। তবে নির্মাণ ও সংষ্কার কাজে ব্যাপক দূর্নীতি ও অনিয়মে সড়কটি তেমন তেমন মজবুত হয়নি। এদিকে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ব্যস্ততম সড়কটিতে ১০ চাকার ভারী ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়নি। প্রায়ই পাইকগাছা-কয়রায় বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই ট্রাকগুলো হরহমেশা অবাধে চলাচল করছে। এছাড়া দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানী পণ্য হিমায়িত চিংড়ি উৎপাদণের প্রধান কেন্দ্র পাইকগাছা-কয়রা থেকে প্রতিদিন শত’ শত মাছবাহী ট্রাক-পিকআপ চলাচল করে সড়কে। এক কথায় সরকার তার রাজস্বের একটি বড় অংশ জনপদটি থেকে আয় করলেও এখানকার প্রধান সড়কটি সংষ্কারে তেমন গুরুত্বের সাথে দেখেনা বলেও অভিযোগ জনপদের লাখ লাখ মানুষের।