হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ


194 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ডিসেম্বর ৯, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেফতার শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে রোববার সকাল থেকে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।

সকাল ১১টায় ভিকারুননিসা নূন স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে তারা। এ সময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অরিত্রির আত্মহত্যায় প্ররোচনার ঘটনায় স্কুলটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও প্রভাতী শাখার প্রধান জিন্নাত আরা দায়ী। অথচ তাদের গ্রেফতার না করে একজন নির্দোষ শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিক্ষোভে হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অনেককেই ‘যাদের হাত মানুষ গড়ার, তাদের হাতে কেন হাতকড়া,’ ‘শিক্ষক যদি সম্মান না পায়, এমন শিক্ষার দরকার কী’-এমন নানা স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

গত রোববার পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল অরিত্রি অধিকারী (১৫)। ফোনে নকল থাকার অভিযোগ তুলে তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই ছাত্রীর বাবা-মাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে তারা স্কুলে যান এবং মেয়ের হয়ে দফায় দফায় ক্ষমা চান। কিন্তু এরপরও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের অপমান করেন এবং স্কুল থেকে অরিত্রি অধিকারীকে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘোষণা দেন।

নিজের সামনে বাবা-মায়ের এমন অপমান সইতে না পেরে ওইদিন দুপুরে শান্তিনগরের বাসায় ফিরে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ওই ছাত্রী। ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে বেইলি রোডে ভিকারুননিসার ক্যাম্পাস।

মঙ্গলবার রাতে অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় পল্টন থানায় ওই মামলা করেন তার বাবা। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে হওয়া মামলায় শিক্ষা ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আরা এবং হাসনা হেনাকে আসামি করা হয়।

বুধবারও চলে আন্দোলন। এসময় অধ্যক্ষের পদত্যাগ ও তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচণার দায়ে শাস্তিসহ ছয় দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। বিকেলে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয় তারা।

পরে সন্ধ্যায় ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির এক জরুরি সভায় ওই তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়।

এদিন দুপুরে অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় গঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সারাংশ তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এতে বলা হয়, অভিযুক্তরা মানসিকভাবে অরিত্রিকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। এ জন্য কমিটি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

এর মধ্যে বুধবার রাতেই রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার করা হয় শিক্ষক হাসনা হেনাকে। বৃহস্পতিবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।