হায় মেসি!


474 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হায় মেসি!
জুলাই ৭, ২০১৫ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডেস্ক :
সময়ের ব্যবধান এক বছরের; কিন্তু দৃশ্যটা থেকে গেল একই। চ্যাম্পিয়নদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য সামনে এনে রাখা হয়েছে ট্রফি। অধিনায়কের প্রাপ্য মেডেলটা গলায় নিয়ে সেই ট্রফির পাশ দিয়েই হেঁটে বেরিয়ে যাচ্ছেন মেসি। মাথা নিচু, চোখ তুলে তাকাতে পারছেন না!
ক্যামেরা আর চোখের দেখা যা ধরতে পারে না, সেই মনোজগতের দৃশ্যও কি আর বদলেছে? আরও একবার শেষে এসে না পাওয়ার হাহাকার নিয়ে বিদায়ের গল্প, যে গল্পের সমাপ্তির অপেক্ষাটা যে আরও বাড়ল!
অথচ এই মেসিই ক্লাব ফুটবল থেকে পাওয়া শিরোপা দিয়ে পুরো একটা ঘর ভর্তি করে ফেলতে পারবেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার শিরোপা দিয়ে একটা হাত ঢাকারও যে সুযোগ নেই! বার্সেলোনার অনার রুমে উৎসব-আনন্দের হাজার হাজার ছবি পাওয়া যাবে, কিন্তু আকাশি-সাদা জার্সিতে ট্রফি হাতে দাঁড়ানো মেসির কোনো ছবির অস্তিত্বই যে পাওয়া যাবে না!
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান থেকে বেরুতেই তাই গলা থেকে খুলে ফেললেন মেডেলটা। ফাইনালের আগে ব্যক্তিগত সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে একটা ছবি টুইট করেছিলেন। বেশ কয়েক জোড়া বুট পাশে নিয়ে বসে থাকা সেই ছবির ক্যাপশনটা ছিল এমন_ ‘প্রতিটি বুটই কোনো না কোনো দারুণ ঘটনার সাক্ষী। এবার সে তালিকায় আরেকটা যোগ করতে চাই।’
সেই যোগ করাটা আর হলো না। তৃতীয়বারের মতো শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ফিরতে হলো দ্বিতীয় হয়ে। শুরুটা হয়েছিল ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকায়। ব্রাজিলের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গের সেই শুরু। ২০১৪-তে গিয়ে ব্রাজিলের মাটিতে দ্বিতীয় স্বপ্নভঙ্গ। শেষ মুহূর্তের গোলে শিরোপা হাতছাড়া জার্মানির কাছে। হলুদ-সাদার পর এবার লাল জার্সির চিলি। আকাশি-সবুজ রঙের জার্সিতে মেসির অপূর্ণতার গল্প তাই চলমানই রইল। অথচ মাত্র এক মাস আগেই তিন শিরোপা জয়ের উৎসব করেছেন। সেই জয়োৎসব ছিল বার্সেলোনার হয়ে। ৬ জুন জার্মানির বার্লিনে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনাল শেষে মেসি যখন ট্রফি নিয়ে আনন্দে আপ্লুত, জুভেন্তাসের আর্তুরো ভিদাল তখন মাঠের একপাশে বিষাদমাখা মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! এবার সান্তিয়াগোয় মেসি যখন শূন্য হাতে ছলছল চোখে তাকিয়ে আছেন, ট্রফি নিয়ে চিলির ভিদাল তখন বাঁধনহারা উল্লাসে মত্ত।
দেশের হয়ে ট্রফি অর্জনের ব্যর্থতার চাদর টেনে দিচ্ছে মেসির খেলোয়াড়ি কৃতিত্বের গায়েও। ট্রফি জিততে পারেননি বলে আলোচনা হবে না সেমিফাইনালে দেখানো অনন্য কীর্তির কথা। ফাইনালেও যে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন, সেটিও পড়ে থাকবে লেখার তৃতীয় প্যারায়। সবার আগে উঠে আসবে একটা কথাই_ কই, হাতে তো কোনো ট্রফি উঠল না! ঠিক এ কারণেই ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনাতেও পিছিয়ে থাকতে হবে সবসময়। পরিসংখ্যানের ছোট ছোট হিসাবে ম্যারাডোনা এখনই মেসির পেছনে। ক্লাব ক্যারিয়ারে ৪৮২ ম্যাচ খেলে মেসির গোলসংখ্যা যেখানে ৪১২, ম্যারাডোনা সেখানে ৫৮৮ ম্যাচে ৩১২। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ম্যারাডোনা যেখানে ৯১ ম্যাচে করেছেন ৩৪ গোল, মেসি সেখানে ১০৩ ম্যাচে করেছেন ৪৬ গোল। ক্লাবের হয়ে মেসির ভাণ্ডারে আছে তিনটি ইউরোপিয়ান ট্রফি; ম্যারাডোনার একটাও নেই। মেসি বর্ষসেরা ফুটবলার হয়েছেন চারবার, ম্যারাডোনা মাত্র একবার।
এতসব ক্যাটাগরিতে এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে থাকবেন বড় জায়গাটাতেই_ আর্জেন্টিনার হয়ে তো মেসির কোনো ট্রফি নেই!