হিলারির ই-মেইল: এফবিআই প্রধান সম্ভবত আইন ভেঙেছেন


268 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হিলারির ই-মেইল: এফবিআই প্রধান সম্ভবত আইন ভেঙেছেন
নভেম্বর ১, ২০১৬ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ক’দিন আগে দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল চালাচালির বিষয়ে নতুন করে তদন্তের ঘোষণা দেয়ায় দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই প্রধান জেমস কোমির তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটে ডেমোক্রেট নেতা হ্যারি রেইড।

তিনি বলেছেন, এফবিআই প্রধান সম্ভবত আইন ভেঙেছেন। খবর এএফপি ও বিবিসির

সিনেটে মাইনরিটি লিডার হ্যারি রেইড রোববার এক বিবৃতিতে কোমির বিরুদ্ধে নির্বাচনী আইন ভাঙার অভিযোগ এনেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে কর্মকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এফবিআই নতুন করে হিলারির ই-মেইল চালাচালির ঘটনা তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে, এফবিআই হিলারি ক্লিনটনের শীর্ষ এক সহযোগীর ই-মেইল খতিয়ে দেখার পরোয়ানা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে।

এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি শুক্রবার কংগ্রেসকে এক চিঠিতে বলেন, হিলারির আরও কিছু ই-মেইলের খোঁজ পাওয়ায় এফবিআই নতুন করে তা তদন্ত করবে।

তিনি আরও বলেন, ই-মেইলগুলোর গুরুত্ব আদৌ ছিল কি-না বা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না। এর জন্য তদন্ত দরকার ও তদন্ত শেষ করতে ঠিক কত সময় লাগ‡ব তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

২০১৫ সালে প্রথম হিলারির ব্যক্তিগত সার্ভারে রাষ্ট্রীয় ই-মেইল চালাচালির বিষয়টি ফাঁস হয়। এ সময় এফবিআই তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিল। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সংস্থাটি।

এখন এফবিআই বলেছে, হিলারির ই-মেইল ব্যবহারের পূর্ববর্তী তদন্তের সঙ্গে নতুন করে পাওয়া ই-মেইলের প্রাসঙ্গিকতা থাকতে পারে। হিলারির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হুমা আবেদিনের সাবেক স্বামী অ্যান্থনি ওয়েনারের ল্যাপটপে ই-মেইলগুলো পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকেই এই বিষয়টিকে হিলারির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ বা অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছেন তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীরা।

শীর্ষ ডেমোক্রেট রেইড এফবিআই প্রধানের বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট দলকে ‘সুবিধা পাইয়ে’ দিতে দ্বৈত ভূমিকা পালনের অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কোমি হ্যাচ অ্যাক্ট লঙ্ঘন করে থাকতে পারেন।’ এ আইনে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য নিজের অবস্থানকে ব্যবহার করতে কর্মকর্তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রেইড আরও বলেন, ‘আপনার দলীয় আচরণের কারণে বলছি, আপনি সম্ভবত আইন ভেঙেছেন।’

কোমির বিরুদ্ধে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ সরকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ না করারও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ডেমোক্রেট নেতা রেইড বলেন, ‘জনগণের তথ্য জানার অধিকার আছে। আমি কয়েক মাস আগে এই তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে আপনার কাছে চিঠি লিখেছিলাম।’

এদিকে, ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটো ল স্কুলের অধ্যাপক রিচার্ড পেইন্টার রোববার বলেছেন, তিনি অফিস অব স্পেশাল কাউন্সিলের মাধ্যমে এফবিআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। হ্যাচ অ্যাক্ট লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্ত করে অফিস অব স্পেশাল কাউন্সিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ঠিক এ সময়ে এফবিআইয়ের তদন্তের ঘোষণা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হিলারির নির্বাচন প্রচারণা শিবিরের চেয়ারম্যান জন পডেস্টা এই সময়ে এফবিআইয়ের এমন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব বোস্টনের অধ্যাপক নাজলি কিবরিয়া বলছেন, এতো স্বল্প সময়ের মধ্যে এই তদন্ত শেষ করে ফলাফল জানা হয়তো সম্ভব হবে না। তবে এখনও ভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি, এমন কিছু ভোট হয়তো হিলারির হাতছাড়া হতে পারে।