হিলারির পাশে তারকারা


281 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হিলারির পাশে তারকারা
অক্টোবর ১৯, ২০১৬ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :
দেখতে দেখতে একেবারে দোরগোড়ায় চলে এলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বাকি আর মাত্র ২০ দিন! কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশপাশ থেকে তার দাতা-সমর্থকরাও যেন ততটাই দূরে সরে যাচ্ছেন। সোমবার রিপাবলিকানের কয়েকজন বড় দাতা ‘ট্রাম্প ফান্ড’ থেকে তাদের হাত গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের তহবিল সংগ্রহের জন্য হলিউডের প্রায় ডজনখানেক তারকা একসঙ্গে মাঠে নেমেছেন। হিলারির স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং তাদের মেয়ে চেলসি ক্লিনটনও তারকা দলে শামিল হয়েছেন। এ তহবিলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘হিলারি ভিক্টোরি ফান্ড স্ট্রংগার টুগেদার’, ‘হিলারির বিজয় তহবিল’। হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টস, লেখক, অভিনেতা, প্রযোজক বিলি ক্রিস্টাল, জেক গিলেনহাল, একাধারে অভিনেত্রী, ফ্যাশন ডিজাইনার ও প্রযোজক সারাহ জেসিকা পার্কার, গায়ক-নায়ক ম্যাথিউ ব্রোডেরিক, অস্ট্রেলীয় অভিনেতা, গায়ক ও প্রযোজক মাইকেল জ্যাকম্যান, ব্রিটিশ-আমেরিকান অভিনেত্রী এমিলি ব্লান্ট, অভিনেতা ও টেলিভিশন উপস্থাপক নিল প্যাট্রিক হ্যারিস এবং হলিউডের আইকন অভিনেত্রী হেলেন মিরেনও এ জোটের সক্রিয় সদস্য। সোমবার নিউইয়র্কের সেন্ট জেমস থিয়েটারে এক জমকালো ‘সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘হিলারির বিজয় তহবিল’ সংগ্রহ শুরু করেন তারকারা। অনুষ্ঠানের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল রিয়ার স্টল ৪৫ ডলার, ব্যালকনি ২ হাজার ৭০০ ডলার, ভিআইপি লাউঞ্জ ৫ হাজার ডলার।

প্রচারে ব্যস্ত থাকায় হিলারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারলেও তার ভিডিও কনফারেন্স বক্তব্য দিয়েই শুরু হয় ‘সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’। পরপরই বিল ক্লিনটন ও চেলসি ক্লিনটন বক্তব্য রাখেন। বিল ক্লিনটন বলেন, ‘হিলারি সম্পর্কে আমার একবাক্যের স্বীকারোক্তি হলো_ সে পরিবর্তনের নায়ক। আমাদের সুদিন আমাদের সামনেই আছে, পেছনে নয়। শুধু তাকে কাছে টানতে হবে।’ চেলসি বলেন, ‘আসন্ন এ নির্বাচনই আমাদের ভবিষ্যৎ বাতলে দেবে। আমাদের সন্তানদের বড় হওয়ার পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত হবে, আমরা আমাদের দেশকে নিয়ে গর্ব করতে পারব কি-না তাও নির্ভর করেছে এ দিনটার ওপরই।’

পরে গান-কবিতা-নৃত্যের ঝঙ্কারে আনন্দারণ্য হয়ে ওঠে সেন্ট জেমস। গানে গানে হিলারি-বন্দনা করেন গায়করা। তারা বিভিন্ন ধরনের ট্রাম্পবিরোধী গানেও দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। বিশেষ করে বিলি ক্রিস্টালের বর্ণবাদবিরোধী কমেডি নাটকটি দর্শকদের উল্লাস কুড়িয়ে নেয়। এর পরই ট্রাম্পবিরোধী কড়া বক্তব্য রাখেন ক্রিস্টাল। ট্রাম্পকে হারিকেন ঝড়ের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, রিপাবলিকান প্রার্থীকে আমরা ঘূর্ণিঝড় বলতে পারি। শুরুতে এক ঝাপটা উত্তপ্ত বাতাস, পরে কুণ্ডলী পাকাতে পাকাতে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়। এ ঝড় যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিতে আঘাত হানছে। তবে চিন্তার কিছু নেই। নভেম্বরের পরই এই ঝড়ের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর, মার্কিন মুলুকের ‘ধনকুবের পল্লী’ ওয়াল স্ট্রিটের রিপাবলিকান দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন দাতা ট্রাম্পকে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পকে রিপাবলিকানের প্রার্থী করা হলে তারা আর তহবিল দেবেন না। ট্রাম্পের বদলে গ্যারি জনসনকে তাদের বেশি পছন্দ। কেউ কেউ জেব বুশ কিংবা জন কাসিককে চাইছেন। ট্রাম্পকে একদমই না। রিপাবলিকান ফান্ডের অন্যতম দাতা হলেন ড্রুকেন মিলার। ২০১০ সাল থেকেই তিনি দলীয় তহবিলে মোটা অঙ্কের চাঁদা গুঁজে আসছেন। গত মার্চেও ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটিতে (এনআরসিসি) বড় অঙ্কের চাঁদা দেন তিনি। সেই ড্রুকেন মিলারই এখন রিপাবলিকানকে হুমকি দিচ্ছেন_ ট্রাম্পকে না সরালে চাঁদা বন্ধ। তিনি জনসনের পক্ষে। ড্রুকেনপন্থি কয়েকজন ফান্ড ম্যানেজার জানিয়েছেন, ড্রুকেন মিলারের মতো তারাও জনসনকেই চান। ওয়াল স্ট্রিটের টাইগার ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডার জুলিয়ান রবার্টসনও ট্রাম্পের পেছন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রবার্টসনের মুখপাত্র ফ্রাস্টার সিয়েটেল বলেন, রবার্টসন আবার সেই আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার মনস্থির করেছেন। প্রথম থেকেই তিনি জেব বুশ এবং জন কাসিককে সমর্থন করতেন। মাঝে ট্রাম্পকে সমর্থন করে ‘ভুল’ করেছেন। সামনের দিনগুলোতে আর সে ভুল করতে চান না রবার্টসন। তবে সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয়টি হলো, শুধু ট্রাম্পের কারণে রিপাবলিকানের অনেক দাতাই এখন হিলারির পেছনে ছুটছেন। ওয়াল স্ট্রিটের স্বনামধন্য বার্ডপোস্ট গ্রুপের মেথ ক্লারম্যান, সাবা ক্যাপিট্যাল ম্যানেজমেন্টসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ট্রাম্পকে তহবিল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তারা হিলারি ফান্ডে ডলার ঢালছে। এতদিন তারা দু’জনকেই ফান্ড দিয়ে আসছিল।