হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


320 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
জানুয়ারি ১৪, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
চরমপন্থি ও সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে তালার ইসলামকাঠির চল্লিশা বিল দখল করে রেখেছেন একজন বহিরাগত চেয়ারম্যান। ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে রাতে অথবা দিনে ঘের এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করে লোকজনকে জিম্মি করে ফেলেছেন তিনি। এর ফলে চল্লিশা বিলের প্রায় আড়াই হাজার বিঘা জমিতে দশ গ্রামের মানুষ মাছ ধান কোনটিই চাষ করতে পারছেন না। গত চার বছর যাবত এই অবস্থা চলছে জানিয়ে গ্রামবাসী ওই বহিরাগতকে বিতাড়নের দাবি জানিয়েছেন।

তালা উপজেলার ইসলামকাঠি ইউনিয়নের ঢেমশাখোলা, ইসলামকাঠি, কাজীডাঙা, নারায়নপুর, গোনডাঙা, বারাত, মনোহরপুর, বাওখোলা ও সুজনশাহ গ্রামের বাসিন্দারা এ ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। তারা সরকারের বিভিন্ন দফতরে আবেদন করে বহিরাগত ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর রহমানকে বিতাড়নের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে ওই জমিতে যাতে তারা সাদা জাতের মাছ ও একই সাথে ধান চাষ করতে পারেন সে ব্যবস্থা করারও আহবান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জমি মালিকদের পক্ষে ঘের ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ জানান, ‘ঘেরের জমি মালিকদের বন্দোবস্তের টাকা পরিশোধ না করেই সুফলাকাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুর রহমান সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গায়ের জোরে সমস্ত ঘের দখল করে রেখেছেন। চার বছর আগে কিছু লোকের কাছ থেকে বন্দোবস্ত দলিল নেওয়া থাকলেও তার মেয়াদ শেষ হয়েছে’। এরই মধ্যে চল্লিশা বিলের জমির মালিকরা তার নামে ঘের বন্দোবস্ত দলিল করে দিয়েছেন জানিয়ে মোস্তাক আহমেদ জানান তিনি জমির পানি সরিয়ে একাংশে মাছ ও অপরাংশে ধান চাষের ব্যবস্থা করেছেন।

এদিকে গ্রামবাসী আরও জানান, মঞ্জুর রহমান টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারন জমি মালিকদের কাছ থেকে কিছু জমি ফুসলিয়ে নিতে পারলেও অনেকের কাছ থেকে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদেরকে কোন ধরনের বন্দোবস্তর টাকা না দিয়ে ঘের দখল করেছেন তিনি। তারা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী অগ্রহায়ন মাসের মধ্যেই পানি অপসারন করানোর কথা এবং মধ্য পৌষের মধ্যেই জমিতে ধান রোপনের শর্ত রয়েছে। অথচ মঞ্জুর রহমান এর কোনটিরই তোয়াক্কা করেননি। দফায় দফায় সংসদ সদস্য এবং গন্যমান্য লোকজনদের নিয়ে বারবার সমাবেশের মাধ্যমে অনুরোধ করা হলেও  মঞ্জুর রহমান তাতে কান দিচ্ছেন না। এরই মধ্যে ওই এলাকাকে চেয়ারম্যান মঞ্জুর রহমান চরমপন্থি ও সন্ত্রাসীদের আখড়া হিসাবে গড়ে তুলেছেন। তারাই রাতে দিনে নিরীহ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি আঁকড়ে রেখেছে। তারা তার অপসারন দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো.শাজাহান খান, মো. আশরাফ উদ্দিন, ডা. মতিয়ার রহমান, মনছুর আলী, মিজানুর রহমান, আবুল হোসেন, বিশ্বনাথ দাস, আব্দুল গফফার, শহিদুল ইসলাম , শেখ মমতাজ আহমেদ সপ্রমুখ।